রবিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৯



সিরিয়ায় তুর্কি হামলা: জেল থেকে পালাচ্ছে আইএস


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
14.10.2019

নিউজ ডেস্ক: কুর্দি বাহিনীর সঙ্গে তুরস্কের সেনাবাহিনীর তীব্র লড়াইয়ের সুযোগে সিরিয়ার সীমান্তবর্তী শহরের বন্দিশিবির থেকে পালাচ্ছে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সদস্যরা। ফলে আইএস জঙ্গিদের পুনরায় মধ্যপ্রাচ্যে সুসংগঠিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কুর্দি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রোববার আল-আরাবিয়া এ তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, ইতিমধ্যে বন্দিশিবির থেকে আইএস পরিবারগুলোর আট শতাধিক সদস্য পালিয়েছে। তুরস্কের অভিযান অব্যাহত থাকলে বন্দি আইএস জঙ্গিদের পাহারার বিষয়টিকে আর অগ্রাধিকার দেয়া হবে না বলেও হুশিয়ারি দিয়েছে কুর্দি গেরিলারা।

গত বুধবার থেকে সিরিয়ার উত্তর-পূর্ব সীমান্তে কুর্দিদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন পিস স্প্রিং’ নামে অভিযান শুরু করেছে তুরস্ক। কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স (এসডিএফ) জানিয়েছে, তাদের সাতটি কারাগারে এখনও ১২ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন আইএস সদস্য আছে, এর মধ্যে চার হাজারই বিদেশি নাগরিক।

শনিবার এসডিএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রেদুর জেলিল টেলিভিশনে এক বিবৃতিতে বলেন, তুরস্কের সঙ্গে লড়াইয়ের কারণে বন্দিশিবিরগুলোতে আইএস জঙ্গিদের আটক রাখার প্রক্রিয়াটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাকার উত্তরে আইন ইসা শিবিরে গোলাবর্ষণের মানে হচ্ছে দায়েশ (আইএস) সংগঠনটিকে পুনর্জীবন দেয়া।’

এসডিএফ নেতা বলেন, ‘তারা (আইএস) নিজেদেরকে ফের সংগঠিত করছে। কামিশলি ও হাসাকে শহরে তাদের সেলগুলোও সক্রিয় হচ্ছে।’

এদিকে, শনিবার মার্কিন কূটনীতিক উইলিয়াম রোয়েবাকের সঙ্গে বৈঠক করেন কুর্দি কমান্ডার জেনারেল মাজলৌম কোবানি আব্দি। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদেরকে কসাইয়ের মুখে ফেলে গেছে।’ তুর্কি অভিযানের আগে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন তিনি।

আইএস নির্মূলে কোয়ালিশন জোটের দূত উইলিয়ামকে কুর্দি নেতা আরও বলেন, ‘আপনারা আমাদের জনগণের সুরক্ষার কথা চিন্তা করেননি। আমাদের সুরক্ষায় নতুন বাহিনী আনেননি, বরং সরে দাঁড়িয়েছেন। আমাদের বিক্রি করে দিয়েছেন আপনারা। এটা অনৈতিক।’

তুমুল লড়াইয়ের ফলে সীমান্ত শহর তেল আবিয়াদ ও রাস আল আইন সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোর এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। রোববার এক বিবৃতিতে সংস্থাটির অফিস ফর কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, আসছে দিনগুলোতে সিরিয়ার এসব এলাকার ৪ লাখের মতো বেসামরিক লোকের ত্রাণ ও সুরক্ষা প্রয়োজন হবে।

কুর্দি গেরিলাদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা আঙ্কারা বলছে, তারা কুর্দিদের সীমান্ত থেকে তাড়িয়ে দেবে। সেখানে একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা করে সেখানে তুরস্কে থাকা ৩০ লাখেরও বেশি সিরীয় শরণার্থীকে পুনর্বাসন করবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি