রবিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » বিএনপির সমাবেশে প্রকাশ্যে মওদুদকে ধাক্কা দিলেন গয়েশ্বর!



বিএনপির সমাবেশে প্রকাশ্যে মওদুদকে ধাক্কা দিলেন গয়েশ্বর!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
14.10.2019

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির সমাবেশে প্রকাশ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে ধাক্কা দিয়ে নতুন করে দলের বিভাজনকে প্রকাশ্যে আনলেন দলটির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ১২ অক্টোবর নয়াপল্টনে আয়োজিত সমাবেশে দলটির জাতীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটান তিনি।

সূত্র বলছে, সমাবেশ শুরুর পর ছাত্রদলের নেতাদের বক্তব্য শেষ হতেই ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে বক্তব্য দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। এসময় মঞ্চে উপস্থিত বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সামনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় চিৎকার করে মওদুদ আহমদকে বক্তব্যের সুযোগ না দেয়ার জন্য সভা পরিচালককে বলতে থাকেন। কিন্তু ব্যারিস্টার মওদুদ কারো কথায় কর্ণপাত না করে বক্তব্য দিতে উঠলে তাকে বেইমান বলে গায়ে ধাক্কা দিয়ে মাইক সরিয়ে দেন বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সভায় উপস্থিত থাকা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, এটি নিছক একটি ভুল বোঝাবুঝি। এত বড় দলে মতের অমিল থাকতেই পারে। এটি গুরুতর কোনো বিষয় নয়। বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য দলের দুই নেতাকেই আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।

সূত্র বলছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যানের পর বিএনপির নির্বাচিত পাঁচ এমপির শপথ, সংসদে যোগদান ও একজনের শপথ না নেওয়া নিয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের বিতণ্ডা চলছে প্রকাশ্যে। এই ইস্যুতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দুই ভাগ হয়ে দুই দিকে অবস্থান নিয়েছেন। তারা নিজেদের পক্ষ ভারী করার চেষ্টা করছেন। একপক্ষ এ নিয়ে আলোচনার জন্য জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভার দাবি জানিয়েছেন। অপরপক্ষ দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধীতাকারীদের সন্দেহের চোখে দেখছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ প্রমুখ দলের হাইকমান্ডের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন- কেন নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে আবার সংসদে গেলো বিএনপি? তারা বলছেন, সংসদে যাওয়ার কারণে দলে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে অনৈক্য ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। দলের তৃণমূলে হতাশা ভর করেছে।

অপরদিকে দলের অপর প্রভাবশালী নেতা বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের অনুসারীরা বলছেন, তারা স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পদত্যাগ চান। নতুন করে স্থায়ী কমিটি গঠন করতে হবে। কারণ বর্তমান কমিটির বেশিরভাগ সদস্যই ব্যর্থ।

এমন পরিস্থিতিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিভক্তি-বিভাজনের চিন্তা বাদ দিতে হবে। অনেকে হতাশার কথা বলছেন, এই হতাশা দূর করা দরকার। বিভক্তি নয়, ঐক্য জরুরি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির এমপিদের শপথ গ্রহণের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক করার জন্য একপক্ষের চাপ থাকলেও অপরপক্ষ বৈঠকে বসতে চাইছেন না। দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, পাঁচ এমপির শপথ গ্রহণের পর দলে বিতণ্ডা দেখা দিলে গত একমাসে দুই দফা স্থায়ী কমিটির বৈঠক করার চেষ্টা হলেও তা একটি পক্ষের বিরোধিতায় বারবার ভেস্তে গেছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি