রবিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৯



ঐক্যফ্রন্টের স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা জাফরুল্লাহর!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
14.10.2019

নিউজ ডেস্ক : জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট টিকে থাকবে কি না তা নিয়ে শঙ্কিত ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। তারা বলছেন, ঐক্যফ্রন্টের যাত্রার এক বছর পূর্ণ হলেও ফ্রন্টের অগ্রগতির পরিবর্তে পিছিয়ে পড়েছে জোটটি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উন্মুক্ত মঞ্চে না করে এবং রাজধানীতে র‌্যালি না করে ঘরের ভিতরে আলোচনা সভা করার কারণে নেতারা বলছেন, ঐক্যফ্রন্টের কোনো জোর নেই, তা বোঝা যাচ্ছে, নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছে জোটটি। তাই ঐক্যফ্রন্টকে টিকেয়ে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তারা বলছেন, এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব কিন্তু বিএনপি হাল ছেড়ে যেভাবে বসে আছে তাতে এটি প্রতীয়মান হচ্ছে যে, ঐক্যফ্রন্টের স্থায়িত্ব নিয়ে আর আশাবাদী হওয়া যায় না।

এদিকে প্রকাশ্যে কেউ স্বীকার না করলেও বর্ষপূর্তিতে ঐক্যফ্রন্টের সফলতার চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লাই ভারী করে দেখছেন নেতারা। কারণ যে দাবি ও লক্ষ্য নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয় তা এক বছরে এসেও পূরণ হয়নি। বরং দাবি ও লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার পরও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে জোটের সংসদ সদস্যদের এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণে আরো বেশি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদেরকে। আর নির্বাচনের পরে ঐক্যফ্রন্টের নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর ফ্রন্ট থেকে বের হয়ে যাওয়ার পরও প্রশ্ন উঠে যে, ঐক্যফ্রন্ট কি ভেঙে যাচ্ছে?

জানতে চাইলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সবচেয়ে বড় সফলতা হচ্ছে, এটা এখনো টিকে আছে। কিন্তু সেই সফলতা ম্লান হয়ে যায় ঐক্যফ্রন্টের নিষ্প্রাণ অবস্থা বিবেচনা করলে। ঐক্যফ্রন্ট টিকে থাকলেও জনগণের মনে তা দাগ কাটতে পারেনি। কেননা, ফ্রন্টের গতি এখনো ঢাকা কেন্দ্রিক রয়ে গেছে। এটা হচ্ছে, সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। সুতরাং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভবিষ্যৎ কি হবে- এটা অনেকাংশেই নির্ভর করছে নতুন করে উঠে দাঁড়াতে পারবে কিনা- তার উপরে।

বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জানতে চাইলে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান বলেন, ঐক্যফ্রন্টের সফলতাও আছে আবার ব্যর্থতাও আছে। কিন্তু ফ্রন্টের শরিকদের বিশেষ করে বিএনপির অনাগ্রহ সেই ব্যর্থতাকে প্রকাশ্যে আনছে। তাই স্থায়িত্ব নিয়ে যদিও এখনো কথা বলার সময় আসেনি, কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তিত।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ৭ দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়। যা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে জোটটি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি