রবিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৯



৩ শিক্ষকের অত্যাচারে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা, ডিসির কাছে অভিযোগ


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
14.10.2019

নিউজ ডেস্ক: ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সহযোগিতায় বগুড়ার সরকারি মুস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদরাসার তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিন শিক্ষকের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী মাদরাসা থেকে টিসি নেয়ার আবেদন করেছে। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এসব অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে অভিযোগ দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

অভিযুক্ত তিন শিক্ষক হলেন- মাদরাসার আরবি ও ইসলামী শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জি এম শামছুল আলম, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল জলিল ও প্রভাষক হোসনে ফেরদৌস। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান।

শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে সেগুলো হলো- মাসিক পরীক্ষার নামে রশিদ ছাড়া টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা, ক্লাসে অনুপস্থিতির অজুহাতে জোর করে টাকা আদায়, প্রাইভেট না পড়ার কারণে পরীক্ষায় ফেল করে দেয়া, ব্যক্তিগত কোচিংয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে বাধ্য করা। ওই তিন শিক্ষকের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্প্রতি অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, সরকারি মুস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদরাসার উচ্চ মাধ্যমিকের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা ওই তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, এই প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংখ্যা নয় শতাধিক। আলিম ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক পরীক্ষার নামে জনপ্রতি ২০০ টাকা হারে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। মাসিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করায় প্রতিজনের কাছ থেকে ২০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করা হয়।

ক্লাসে অনুপস্থিতির অজুহাতে একইভাবে টাকা নেয়া হয়। তাদের কাছে প্রাইভেট না পড়লে নিজ নিজ বিষয়ের পরীক্ষায় ফেল করে দেয়া হয়। সেইসঙ্গে অতিরিক্ত ক্লাসের নামে প্রতি ছাত্রের কাছে ১ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। পরীক্ষায় বিশেষ সুবিধা দেয়ার প্রলোভনে নিজেদের কোচিংয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হয়।

মাদরাসার একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ওই তিন শিক্ষকের অত্যাচারে উচ্চ মাধ্যমিকের ১৪ জন শিক্ষার্থী মাদরাসা থেকে টিসি নেয়ার জন্য আবেদন করেছে। তবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাদের এখনো টিসি দেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, উত্তরাঞ্চলের এই প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস করার জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের যোগসাজশে ওই তিন শিক্ষক প্রভাব খাটিয়ে এসব অপকর্ম করছেন।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সহযোগিতায় অভিযুক্ত শিক্ষকরা কেনাকাটা ও মেরামত কাজে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অনুমতি ছাড়া অধ্যক্ষের কক্ষে টাইলস লাগানো, অধ্যক্ষের রুমে এসি লাগানো, কোটেশন না করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে আরবি ও ইসলামী শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জি এম শামছুল আলম বলেন, আমরা মাদরাসায় আসার পর নির্বাচনী পরীক্ষাগুলোতে নকল বন্ধ করেছি। এজন্য কিছু শিক্ষকের ইন্ধনে আমাদের নামে ভুয়া অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা।

মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান বলেন, শিক্ষাথীরা যেসব অভিযোগ দিয়েছে সেসব ব্যাপারে আমি জানি না। কেন শিক্ষার্থীরা টিসি নিতে চেয়েছে তার সঠিক কারণ আমার জানা নেই। যারা টিসির জন্য আবেদন করেছে তাদের বোঝানো হয়েছে। সেজন্য টিসি আর দেয়া হয়নি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি