বুধবার ১৩ নভেম্বর ২০১৯



রাবি শিক্ষকদের মানববন্ধন


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
07.11.2019

নিউজ ডেস্ক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে নবম দিনের মতো মানববন্ধন করেছেন সরকারদলীয় শিক্ষকদের একাংশ।

‘দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজ’ এর ব্যানারে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার অপসারণের দাবিতে এ আন্দোলন করছেন শিক্ষকরা।

মানববন্ধনে পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও ভূতত্ত্ব খনিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি ড. মো. সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এখন দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এখানে চলছে স্বৈরাচার, অন্যায়-অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্য। অথচ যারা এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত তারা মুখে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলে বেড়ায়। নিয়োগ বাণিজ্যর ফোনালাপ প্রকাশ পেল, অথচ কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এমনকি তদন্ত কমিটি গঠন করার প্রয়োজন মনে করেননি তারা। এতে প্রতীয়মান হয় নিয়োগ বাণিজ্যের টাকায় ভিসিও অংশীদার।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতি প্রণয়ন করে সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছেন। সেখানে অনেক রাঘববোয়াল আইনের আওতায় এসেছে। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন দলীয় নেমপ্লেট ব্যবহার করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বেপরোয়া অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছে। সেগুলো তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকদের কোনো অভিযোগ অসত্য হলে বর্তমান প্রশাসনকে জনসম্মুখে সত্যতা প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে ‘দুর্নীতিবিরোধী’ শিক্ষক সমাজ।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এসএম একরাম উল্যাহ বলেন, রাবি শিক্ষক নিয়োগের যে নীতিমালা ছিল সেটি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুসরণ করত। কিন্তু নীতিমালা পরিবর্তন করে ৬৭তম হয়েও ভিসির জামাতা নিয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত লাভবান হলেও বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কিত করেছেন। পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের রোল মডেল ঠিক তখন রাবির ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ব্যস্ত বর্তমান প্রশাসন।

এদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় এদিন শহীদ ড. শামসুজ্জোহা চত্বরে প্রতিবাদ করেন অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান। জাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সেখানে ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান করেন তিনি।

ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ মুহাম্মদ আলী রেজার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অংশ নেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এসএম একরাম উল্যাহ, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সাবেক প্রশাসক ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী, সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান, সাবেক প্রক্টর ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. মজিবুল হক আজাদ খান প্রমুখ।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি