সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » Lead 4 » ‘বাংলা বন্ড’ চালুর মাধ্যমে প্রবাসী বিনিয়োগ আরও সহজ হবে,বললেন অর্থমন্ত্রী



‘বাংলা বন্ড’ চালুর মাধ্যমে প্রবাসী বিনিয়োগ আরও সহজ হবে,বললেন অর্থমন্ত্রী


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
13.11.2019

নিউজ ডেস্ক: অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আজ বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। বাংলা বন্ড চালু বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের একটি বড় পদক্ষেপ। এ বন্ড চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবাসী বিনিয়োগ আরও সহজ হবে।

সোমবার লন্ডন স্টক মার্কেটে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা টাকা বন্ডে লিস্টিং অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী। ‘রিং দ্য বেল’ নামের ওই অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য বলা হয়েছে।

‘বাংলা বন্ড চালুর পেছনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান বেশি, এমনকি বাংলা বন্ড নামকরণটিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া’ বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। আইএফসি ও লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক দিন। এটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে উৎসর্গ করছি।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আইএফসির এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট নেনা স্টেলকোভিক, ব্রিটেনে বাংলাদেশ হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনীম, বিডার চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মনোয়ার আহমেদ ও আইএফসি ডিরেক্টররা।

এদিকে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য ও পানীয় উৎপাদনকারী শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি প্রাণ গ্রুপকে তাদের কার্যক্রম ও সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশি টাকায় ৮০০ মিলিয়ন সমমূল্যের একটি বন্ড প্রদান করেছে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি)। আইএফসি তাদের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

লন্ডনের সময় সকাল সাড়ে ৯টায় লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ সেমিনার রুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে উৎসাহ দেয়ার জন্য লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে চালু হয়েছে ‘বাংলা টাকা বন্ড’। এ বন্ডের আকার হবে ১০০ কোটি ডলার। কিন্তু প্রাথমিকভাবে বাজার থেকে তোলা হবে এক কোটি মার্কিন ডলার বা ৮৪ কোটি টাকা। প্রবাসীরা ডলারে এ বন্ড কিনলেও প্রথমবারের মতো তা টাকায় রূপান্তর করে দেশের বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে। বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) হবে এ বন্ডের ইস্যু ম্যানেজার।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, এটির মাধ্যমে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সম্ভাবনার পথ চলার একটি ধাপ শুরু হলো, যা আমাদের ২০৪১ এর স্বপ্ন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে সহায়তা করবে। এই প্রথম বাংলাদেশের টাকা কোনো আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটের সঙ্গে সংযুক্ত হতে যাচ্ছে। টাকা লন্ডন স্টক মার্কেটে লেনদেন হবে। যে কেউ এ বন্ড কিনতে পারবে। ডলার দিয়ে এ বন্ড কিনতে হবে। সেই ডলার টাকায় কনভার্ট হয়ে তা বিনিয়োগ করা হবে। আইএফসি বাংলাদেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করেছে। এই এক বিলিয়ন ডলার ‘টাকা বন্ড’ ছাড়ার মাধ্যমে তাদের বিনিয়োগ আরও বাড়বে।

পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর করা হতে পারে। ভারতের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ‘রুপি বন্ড’ প্রথম তিন বছর মেয়াদি ছাড়া হয়েছিল। পরে তার সময়সীমা বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয়। এখন তা ১০ বছর পর্যন্ত হয়েছে। প্রবাসী ভারতীয়রা এ বন্ডে বিপুল হারে বিনিয়োগও করেছে। ২০১১ সাল থেকে এ ধরনের বন্ড ছাড়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। পরে ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ’র বার্ষিক সভায় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে আইএফসি’র নেতৃবৃন্দের এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বন্ড ছাড়ার প্রস্তাব দিলে তখনই প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। এরপর আইএফসি বাংলাদেশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠায় এবং তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অর্থ মন্ত্রণালয় একই বছর (২০১৫) ৪ অক্টোবর এক চিঠিতে ‘টাকা বন্ড’ ছাড়ার অনুমোদনের বিষয়টি জানায়।

প্রবাসীদের জন্য ‘ডলার বন্ড’ থাকলেও বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘টাকা বন্ড’ ছাড়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এ বন্ডের মাধ্যমে যে অর্থ উত্তোলন করা হবে তা আইএফসি অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে।

প্রাণ গ্রুপকে আইএফসির ৮০০ মিলিয়ন সমমূল্যের বন্ড প্রদান

এদিকে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য ও পানীয় উৎপাদনকারী শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি প্রাণ গ্রুপকে তাদের কার্যক্রম ও সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশি টাকায় ৮০০ মিলিয়ন সমমূল্যের একটি বন্ড প্রদান করেছে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি)।

আইএফসি এ বিষয়ে তাদের ওয়েবসাইটে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, শুধু খাদ্য ও পানীয় উৎপাদন নয়, বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী প্রাণ গ্রুপের এ বন্ডপ্রাপ্তির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো দেশটির মুদ্রায় (টাকা) আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে লেনদেন হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘বাংলা’ নামের বন্ডটি লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে ইতোমধ্যে তালিকাভুক্ত হয়েছে। উদীয়মান বাজারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাজ্যের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অব আমেরিকা মেরিল লিঞ্চের ব্যবস্থাপনায় তিন বছর মেয়াদি এ বন্ড পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করবে।

আইএফসি জানিয়েছে, বন্ডটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রাপ্ত অর্থ দ্বারা প্রাণ গ্রুপ যাতে গ্রামীণ পর্যায়ে তাদের প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ ও সরবরাহ বৃদ্ধি করতে পারে সে জন্যই এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এদিকে পুঁজিবাজারে প্রাণ গ্রুপের অন্তর্ভুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি