সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯



খেলাপি ঋণ আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হচ্ছে না


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
13.11.2019

নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকগুলোকে খেলাপি ঋণ আদায়ে লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও ব্যাংকগুলো ব্যর্থ হচ্ছে। আর এনিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৬১২ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণে এখনো শীর্ষে রয়েছে জনতা ব্যাংক। সরকারি পাঁচটি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পাশাপাশি গত তিন মাসে খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও ব্যর্থ হয়েছে চারটি ব্যাংক।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকগুলোর চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পারফরমেন্স মূল্যায়নে এসব তথ্য ওঠে এসেছে।

সার্বিকভাবে এসব সূচকে ব্যাংকগুলোর পারফরমেন্স ‘সন্তোষজনক নয়’ বলে মন্তব্য করেছে ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ’। ব্যাংকগুলোকে তাগিদ দেয়া হয়েছে বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী যেন তারা খেলাপি ঋণ আদায় করতে সক্ষম হয়।

বিভিন্ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায় পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অর্থবছরের তিন মাসে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল একহাজার কোটি টাকা। কিন্তু এই সময়ে আদায় করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ১৮৯ কোটি টাকা। অর্জনের হার ১৯ শতাংশ।

একইভাবে অলোচ্য সময়ে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০০ কোটি টাকা। আদায় করা গেছে ২৬৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। অর্জনের হার ৩৩ শতাংশ। অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ের টার্গেট রয়েছে ৪০০ কোটি টাকা। আদায় করা গেছে ৫৮ কোটি টাকা, লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৫ শতাংশ। রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায় করার কথা ছিল ২৫০ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যাংকটি আদায় করতে পেরেছে মাত্র ৩৭ কোটি টাকা, লক্ষ্যমাত্রার ১৫ শতাংশ ।

একইভাবে বেসিক ব্যাংকের খেলাপি আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫৫কোটি টাকা। কিন্তু আদা করতে পেরেছে ৪৩ কোটি টাকা, লক্ষ্যমাত্রার ২৭ শতাংশ। এই ব্যাংকগুলোকে ত্রৈমাসিক হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার ২৫ ভাগ খেলাপি ঋণ আদায়ের কথা ছিল। এর মধ্যে একমাত্র জনতা ব্যাংক তা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে।

এদিকে, রাষ্ট্রায়াত্ত্ব ব্যাংকগুলোকে আগামী জুনের মধ্যে খেলাপি ঋণের স্থিতি কী পরিমাণ রাখতে হবে তাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী বছরের জুন শেষে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের স্থিতি রাখতে হবে ১১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। বর্তমানে যা রয়েছে ১২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

একইভাবে জনতা ব্যাংকের খেলাটি ঋণের স্থিতি রাখতে হবে ১০ হাজার কোটি টাকা। এখন রয়েছে ১৯ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা। অগ্রণীকে স্থিতি রাখতে হবে পাঁচ হাজার ৬০০ কোট টাকা। এখন আছে ছয় হাজার কোটি টাকা।

রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের স্থিতি রাখতে হবে তিন হাজার ৮০০ কোটি টাকা। বর্তমানে রয়েছে চার হাজার ৩০০ কোটি টাকা। বেসিক ব্যাংকের খেলাটি ঋণের স্থিতি রাখতে হবে আট হাজার ২০০ কোটি টাকা। এখন যা আছে আট হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলোকে বার বার খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হলেও তারা ব্যর্থ হচ্ছে। এ অবস্থায় মঙ্গলবার এক বৈঠকে খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি