রবিবার ৮ ডিসেম্বর ২০১৯



হঠাৎ চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় অস্বস্তিতে ক্রেতারা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
17.11.2019

নিউজ ডেস্ক: সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি চিকন চালে সর্বোচ্চ দাম বেড়েছে ১০ টাকা, আর মোটা চালে ৬ টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত চাল মজুদ আছে। বোরো মৌসুমে বাম্পার ফলন হয়েছে। এরপরও অতি মুনাফার লোভে মিলারদের কারসাজিতে বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম।

শুক্রবার রাজধানীর মালিবাগ কাঁচাবাজার, নয়াবাজার ও কারওয়ান বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এদিন প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৪৮-৫০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ৪২-৪৪ টাকা। নাজিরশাল বিক্রি হয়েছে ৫৫-৫৮ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৪৪- ৪৮ টাকা। বিআর-২৮ বিক্রি হয়েছে ৩৮-৪০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৩৪-৩৫ টাকা। এ ছাড়া মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা বিক্রি হয়েছে ৩৮ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ৩২-৩৩ টাকা।

দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে মালিবাগ কাঁচাবাজারের খালেক রাইস এজেন্সির মালিক ও খুচরা চাল বিক্রেতা মো. দিদার হোসেন বলেন, পাইকারি বাজারে চালের দাম বাড়তি। কারণ পাইকাররাও মোকাম মালিকদের কাছ থেকে বেশি দরে চাল কিনতে বাধ্য হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। এর পেছনে মিলারদেরই কারসাজি রয়েছে।

ক্যাবের সভাপতি ড. গোলাম রহমান বলেন, হঠাৎ করে চালের দাম বাড়া অযৌক্তিক। কারণ দেশে চালের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ধানেরও বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্টদের এর কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। দাম যেন আর না বাড়ে সেই ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এ জন্য বিশেষভাবে বাজার মনিটরিং করতে হবে।

এদিন রাজধানীর পাইকারি চালের আড়ত ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ২৩০০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২১০০ টাকা। নাজিরশাল প্রতি বস্তা বিক্রি হয়েছে ২৭৫০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ২৬০০ টাকা।

বিআর-২৮ চাল বিক্রি হয়েছে দুই হাজার টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ১৮০০ টাকা। এ ছাড়া স্বর্ণা চাল প্রতি বস্তা বিক্রি হয় ১৭০০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ১৬০০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি আড়ত আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির মালিক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মিলাররা কারসাজি শুরু করেছে। তারা সব ধরনের চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের কাছে চালের অর্ডার দিলে তারা বাড়তি রেট (দর) আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে। তাই সে দামেই আমাদের আনতে হচ্ছে। বিক্রিও করতে হচ্ছে বাড়তি দরে।

তিনি আরও বলেন, নওগাঁ, দিনাজপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোকামে যে মিনিকেট চাল প্রতি বস্তা এক সপ্তাহ আগে কিনেছি দুই হাজার টাকা দরে। সেই চাল এখন ২২৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। নাজিরশাল প্রতি বস্তা কিনতে হচ্ছে ২৫০০ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগে ২৪০০ টাকা ছিল। বিআর-২৮ কিনতে হচ্ছে ১৭৫০ টাকায়। যা আগে ছিল ১৬০০ টাকা। এ ছাড়া স্বর্ণা চাল প্রতি বস্তার দাম ছিল ১৫০০ টাকা। যা এখন কিনতে হচ্ছে ১৬০০ টাকায়।

এদিকে- কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছে ধানের পরিমাণ কমে এসেছে। এই ধান দিয়ে আরও পাঁচ মাস চালাতে হবে। যার কারণে বাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিবছরের এ সময়ে এসে চালের দাম কিছুটা বেড়ে যায়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি