রবিবার ৮ ডিসেম্বর ২০১৯



মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
17.11.2019

নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার (১৭ নভেম্বর)। ১৯৭৬ সালের এইদিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে মওলানা ভাসানীর জন্ম। সিরাজগঞ্জে জন্ম হলেও তিনি জীবনের বড় অংশই কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে। তিনি তার কৈশোর-যৌবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি তৎকালীন বাংলা-আসাম প্রদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন।

মওলানা ভাসানী দেশের নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের মুক্তির জন্য সারা জীবন আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছেন। ১৯১৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। ত্রিশের দশকে তিনি আসামের ঘাগমারায় বাঙালিদের স্বার্থরক্ষার আন্দোলন শুরু করেন। ভাসানচরের জনসাধারণ তাকে ‘ভাসানী সাহেব’ বলে অভিহিত করে।

১৯৪৯ সালে ২৪ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হলে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের অন্যতম নীতিনির্ধারক ছিলেন তিনি। রাজনীতিতে অধিকাংশ সময় তিনি মাওপন্থি কমিউনিস্ট আদর্শের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এজন্য তিনি লাল মওলানা নামে পরিচিত ছিলেন। একজন দূরদর্শী নেতা হিসেবে পঞ্চাশের দশকেই তিনি নিশ্চিত হন, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান মিলে একটি দেশ আসলে অচল রাষ্ট্রকাঠামো।

১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হলে ‘ওয়ালাইকুম ওয়াস সালাম’-এর হুমকি দেন। গোলটেবিল ব্যর্থ হলে ২৩ মার্চ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে বললেন, শেখ মুজিব এবারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবেন এবং তার পক্ষে সমর্থন ঘোষণা করলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক দস্যুদলের হত্যাযজ্ঞ শুরু হলে মওলানা ভাসানী টাঙ্গাইলের সন্তোষ থেকে নৌকা নিয়ে যমুনা নদী পাড়ি দিয়ে সিরাজগঞ্জে পৌঁছে কৃষক সমিতির সাইফুল ইসলাম ও শ্রমিক নেতা মুরাদুজ্জামানকে নিয়ে রৌমারি সীমান্ত হয়ে কলকাতা পৌঁছে গেলেন। ভারত সরকার তাকে সব নিরাপত্তা দিয়ে নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করল।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহুবার কারাবরণ করেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাতেও প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৭২ সালে ‘হক কথা’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। মওলানা ভাসানী ফারাক্কা চুক্তিকে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি মনে করতেন। ১৯৭৬ সালের ১৬ মে রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে এক লং মার্চে নেতৃত্ব দেন।

তিনি সন্তোষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, পাঁচবিবিতে নজরুল ইসলাম কলেজ এবং কাগমারীতে মওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া আসামেও তিনি ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন।

১৯৭৬ সালের এইদিনে ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ টাঙ্গাইলের সন্তোষে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এ উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি