মঙ্গলবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » বিএনপিতে সবাই-ই নেতা, কেউ কাউকে মানেন না!



বিএনপিতে সবাই-ই নেতা, কেউ কাউকে মানেন না!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
13.02.2020

নিউজ ডেস্ক: টানা ১০ বছরেরও বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে বিএনপি। অথচ এই দীর্ঘ সময়েও দল গোছানোর কাজে মন দিতে পরেননি নীতিনির্ধারকরা। উপরন্তু সাংগঠনিক ভঙ্গুরতা ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বেচ্ছারিতায় দলবিমুখ হয়েছেন অনেক নেতাকর্মী। তাদের অভিযোগ, দলের দুর্দিনে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে হামলা-মামলার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও অবমূল্যায়িত হয়েছেন তারা। এ কারণে কারো উপর আস্থা রাখতে পারছেন না তারা। বিশিষ্টজনরা বিএনপির এ অবস্থাকে মহাবিপদ সংকেতের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে কারান্তরীণ। অপরদিকে একই অভিযোগে দেশছাড়া খালেদাপুত্র ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডনে বসে তিনি মোটা টাকার বিনিময়ে পদ-মনোনয়ন বাণিজ্য করছেন। যার বলি হয়ে দলের দুর্দিনের নেতাকর্মীরা পদ ও মনোনয়নবঞ্চিত হচ্ছেন। তবে এসবে ভ্রুক্ষেপ নেই তারেকের। অর্থই তার কাছে প্রধান। এতে দলের অবস্থা যাচ্ছেতাই। নেই কোনো চেইন অব কমান্ড। কেউ কাউকে মানছেন না, দিচ্ছেন না গুরুত্বও। একই সঙ্গে দলের কোনো জোরালো রাজনৈতিক কর্মসূচিও নেই।

শুধু নামসর্বস্ব সংবাদ সম্মেলন, নালিশ ও কূটনৈতিকদের কাছে সরকারের নামে গীবত করাই এখন বিএনপির প্রধান কাজ। আর এ কারণেই বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে দলটির।

এ নিয়ে বিএনপির বিদ্রোহী একটি অংশ বলছে, সিটি ভোটে নেতৃত্ব ও সমন্বয়ের চরম অভাব ছিলো, ছিলো বিশৃঙ্খল পরিবেশ। কেউ কাউকে মানছে না তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। এমনকি রাজনীতি তথা ভোটের মাঠে সমর্থক টানার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এটা অস্বীকার কারা কোনো পথ নেই যে, বিএনপিতে চেইন অব কমান্ডের ঘাটতি আছে। তাদের এখন উচিত- দ্রুত সম্মেলন করে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসা। বিশেষ করে তরুণদের নেতৃত্বে নিয়ে আসতে হবে। যারা বার্ধক্যে পৌঁছেছেন তাদের অবসরে যাওয়া উচিত। তাছাড়া লন্ডন থেকেও কিভাবে দল চালানো সম্ভব সেটিও আমার বোধগম্য নয়।

এ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক এ আরাফাত বলেন, বিএনপির নীতিনির্ধারক মহল থেকে শুরু করে ঢাউস তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে আন্তঃকোন্দল এখন চরমে। কমিটি থাকলেও দ্বিধাবিভক্ত। তবে এ নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো উদ্যোগ নেই দলের। এ থেকে অনুমেয়, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কোনোভাবেই চাইছেন না নিজের সাম্রাজ্যের পতন হোক। এ কারণে তিনি নিজের জন্মদাত্রী মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্ত করতে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না। কেননা খালেদার মুক্তি মানেই তারেকের সব বাহাদুরি শেষ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মীজানুর রহমান বলেন, যে রাজনৈতিক দলের ভেতরেই ঐক্য নেই, একে অপরকে মানেন না- তারা কিভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করবে? মানুষ এসব জানে বলেই ঘৃণাভরে বিগত অনুষ্ঠিত সবগুলো নির্বাচনে বিএনপিকে বর্জন করেছে জনগণ।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি