মঙ্গলবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০



ঢাকা-১০ উপনির্বাচনে লবিং-তদবিরে ব্যস্ত বিএনপি প্রার্থীরা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
13.02.2020

নিউজ ডেস্ক: ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি-কলাবাগান-হাজারীবাগ-নিউমার্কেট) আসনের আসন্ন উপ-নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। অথচ এখন অবধি বিএনপির পক্ষ থেকে লক্ষণীয় কোনো তৎপরতা নেই। তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, অন্যান্য নির্বাচনের মতো এবারও দলীয় হাইকমান্ড অর্থের জোরে অযোগ্য-অদক্ষদের নিয়োগ দেবে। যার পূর্বাভাস ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। এ কারণে তৃণমূলের কেউই দলের পক্ষে মাঠে নেই।

জানা গেছে, ঢাকা-১০ আসনে বিগত ৩টি নির্বাচনে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। ১ ফেব্রুয়ারির ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। তার পদত্যাগের কারণে ঢাকা-১০ আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। শূন্য এই আসনে ইতোমধ্যে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

আগামী ২১ মার্চ এই আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এই তিন আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি, মনোনয়নপত্র বাছাই ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ ফেব্রুয়ারি। এই আসনের নির্বাচনে অংশ নিতে ইতোমধ্যে অন্যান্য দলের প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করলেও বিএনপি প্রার্থীরা রয়েছেন সুপ্ত অবস্থায়।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে বিএনপিতে ঘুরেফিরে অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে কে হবেন চূড়ান্ত, তা নির্ভর করছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপর। কারণ কথিত আছে, ‌’যার অর্থ বেশি, তারেক রহমান ভারী করে তার পেশী’। সঙ্গে এও বলা হয়, যোগ্যতা বড় ব্যাপার নয়-তারেক রহমানকে খুশি কিংবা মনোরঞ্জন করতে পারলেই বিএনপির বাইরের যে কেউই মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে পারেন।

সূত্রটি আরও বলছে, লবিং-তদবিরের মাধ্যমে যাদেরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তাদের অধিকাংশই দায়িত্বশীল নন। ফলে দলের ‘দুঃসময়ে’ পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ থাকেন না। এ কারণেই আজ বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোর এই দশা।

দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকার শীর্ষে রয়েছে বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সম্পাদক ও ধানমন্ডি থানা কমিটির সদস্য সচিব শেখ রবিউল আলম রবির নাম। আছেন গত নির্বাচনের প্রার্থী আবদুল মান্নানেরও নাম। এছাড়া আবদুল মান্নানের জামাতা ও বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীমও দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন।

এ নিয়ে বিএনপির হাইকমান্ড বলছে, ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচনে কারা মনোনয়ন পাবেন- তা নির্ধারণ করবেন লন্ডনে বসবাসরত দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কারণ খোদার ইশারা যেমন গাছের পাতা নড়ে না, তেমনি তারেকের ইশারা ছাড়া দলের পদ-মনোনয়ন বৈধতা পায় না। তার উপরেই খালেদা জিয়ার অবর্তমানে নির্ভর করছে সব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অযোগ্য-অদক্ষ ও রাজনৈতিকভাবে অনভিজ্ঞদের টাকার বিনিময়ে প্রাধান্য দেওয়াই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাজ। এ কারণে মাঠের রাজনীতিতে ব্যর্থ নেতাকর্মীরা তার শরণাপন্ন হোন। লুফে নেন পদ-মনোনয়ন। যোগ্যদের প্রতি হাসেন কটাক্ষের হাসি। পক্ষান্তরে বঞ্চিত নেতাকর্মীরা দলবিমুখ হয়ে যান। যার ব্যতিক্রম হবে না ঢাকা-১০ আসনের এই উপনির্বাচনেও। এটা শুধু সম্ভাবনাই নয়, ধ্রুব সত্যে পরিণত হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি