রবিবার ২৯ মার্চ ২০২০
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » ‘তারেকের জন্য-ই খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি হচ্ছে না’



‘তারেকের জন্য-ই খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি হচ্ছে না’


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
20.02.2020

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য-ই খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে উদ্যোগ থমকে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে প্যারোলের আবেদন না করা হলে এবং প্যারোলের আবেদনে তার দণ্ডের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না করা হলে সরকার প্যারোলের বিষয়টি বিবেচনা করবে না। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকেও এখন প্যারোলের অবস্থান থেকে সরে আসা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির চেষ্টা করা হবে বলে বিএনপির নেতৃবৃন্দ এখন বলছে। স্পষ্টতই এরফলে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রক্রিয়া আবার প্রলম্ভিত হলো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, তারেকের হস্তক্ষেপের কারণেই এমনটি ঘটেছে। তারেক রহমান খালেদা জিয়ার মুক্তি নয়, বরং খালেদা জিয়াকে আটক রেখে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার কৌশলেই বেশি আগ্রহী বলে জানা গেছে। এমনকি তিনি তার ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, জীবিত খালেদা জিয়ার চেয়ে মৃত খালেদা জিয়া অনেক বেশি জনপ্রিয় হবে। সেটা বিএনপির রাজনীতির পুনরুত্থানের জন্য অনেক বেশি কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তারেক জিয়া গত কয়েকদিনে বিএনপির নেতৃবৃন্দর সঙ্গে কথা বলেন। তাদের নির্দেশেই বেগম জিয়ার জামিনের আবেদন হাইকোর্টে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরাই বলছেন, এটি একটি বিস্ময়কর ঘটনা। কারণ আপিল বিভাগ যে জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন। সেই জামিনের আবেদন কিভাবে হাইকোর্ট মঞ্জুর করবে তা তাদের বোধগম্য নয়। কিন্তু তারেকের নির্দেশের জন্যই তারা এমনটি করতে বাধ্য হয়েছেন। অবশ্য তারেকপন্থী আইনজীবি বলছেন, ডিসেম্বর মাসে বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন আর ফেব্রুয়ারি মাসে জামিনের আবেদনের মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য রয়েছে। সেই জামিনের আবেদন আপিল বিভাগ নাকচ করে দিলেও আপিল বিভাগের কিছু সুনির্দষ্ট অবজারভেশন ছিল। বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নততর চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলেছিল। তবে বেগম খালেদা জিয়া গত দুই মাসে সেই উন্নততর চিকিৎসা পাননি। তাই এখন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টি উত্থাপন করা যৌক্তিক।

কিন্তু খালেদা জিয়ার অন্যান্য আইনজীবীরা মনে করছেন যেহেতু এটা আপিল বিভাগ জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। কাজেই হাইকোর্টে আবার নতুন করে জামিনের আবেদন বিবেচনাতেই হাইকোর্ট নেবে না। তবুও তারেক জিয়ার নির্দেশে এটা করা হচ্ছে। কারণ তারেক জিয়া বেগম খালেদা জিয়াকে জিম্মি করে একটি রাজনৈতিক ক্ষেত্র তৈরি করছেন।

আর তারেক জিয়ার যে কৌশল সেটি হলো বেগম খালেদা জিয়া জেলে আটকে থাকবেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা সহানুভূতি তৈরি হবে। আর বেগম জিয়া যদি সত্যি সত্যি গুরুতর অসুস্থ হয়ে যান বা একজন মৃত্যুও বরণ করেন তাহলে সেটি সরকারের জন্য একটি নেতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হবে। আর সেটার ওপর ভর করেই বিএনপি আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে।

কিন্তু বিএনপি নেতারাই বলছেন কারাগারে বহু নেতাই মারা গেছেন। যাদের জন্য কেউ কান্না পর্যন্ত করেনি। যুদ্ধাপরাধীর শিরমনী গোলাম আযম কারাগারে মৃত্যু বরণ করেছেন। স্বাধীনতার পর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরী কারাগারে বিচারাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে মাওলানা আবদুস সোবহানও কারাগারে বিচারাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

কাজেই অপরাধী কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে মৃত্যু বরণ করতেই পারে। কারণ যে কোনো মত্যৃই সৃষ্টি কর্তার নির্দেশেই পরিচালিত হয়। সেই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বড় ধরণের আন্দোলন হবে সেই ভাবনাটা আকাশ কুসুম কল্পনা বলেই ভাবছেন বিএনপির অনেক নেতা।

কিন্তু তারেক জিয়া মনে করছেন খালেদা জিয়া যদি কারাগার থেকে বের হয়ে যান তাহলেও তিনি অনেক শক্তিশালী হবেন। তখন বিএনপিতে তারেকের কর্তৃত্ব নষ্ট হয়ে যাবে। আর এ জন্যই কি তারেক জিয়া চাচ্ছেন বেগম জিয়া জেলেই থাকুক। তাকে জেলে রেখেই তার ইস্যুটিকে আওয়ামী লীগ চাঙ্গা রাখুক? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে বিএনপির অনেকেই বিব্রত বোধ করছেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি