সোমবার ৬ এপ্রিল ২০২০
  • প্রচ্ছদ » Lead 4 » ‘নির্বাচনে ২১ স্থানে পোস্টার লাগাতে পারবেন প্রার্থীরা’



‘নির্বাচনে ২১ স্থানে পোস্টার লাগাতে পারবেন প্রার্থীরা’


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
24.02.2020

নিউজ ডেস্ক: ঢাকা-১০ আসনে উপনির্বাচনে ৫টির বেশি পথসভা করতে পারবে না প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলো। কখন কে পথসভা করবে তা সমন্বয় করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এছাড়া অলিগলি ও রাস্তাঘাটে পোস্টার ও মাইকিং করা যাবে না। ইসির নির্ধারিত ২১টি স্থানে স্ট্যান্ডে পোস্টার ঝোলাতে হবে। মাইকিং হবে নির্বাচনী ক্যাম্প ও নির্দিষ্ট স্থানে। আচরণবিধিমালায় জনসভার সুযোগ থাকলেও এ নির্বাচনে প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলগুলো তা করতে পারবে না।

ভোটের দিন নির্বাচনী এলাকায় অফিস খোলা থাকবে, চলবে গণপরিবহন। এসব বিষয়ে এ আসনের প্রার্থীরা একমত হয়ে একটি সমঝোতা স্মারকেও স্বাক্ষর করেছেন।

নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে রোববার প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের এক মতবিনিময় সভায় এ স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় প্রার্থীরা সুষ্ঠু নির্বাচন, ভোটারদের কেন্দ্রে আনা, এজেন্টদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরলেও তা আমলে নেয়নি কমিশন।

সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেন, এ উপনির্বাচনে সমঝোতা সফল হলে জাতীয় নির্বাচনের আচরণবিধিমালা সংশোধন করব।

সভায় জানানো হয়, সদ্যসমাপ্ত ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে মাইকিং, পোস্টার, সড়ক বা ফুটপাতের ওপর ক্যাম্প স্থাপনের কারণে জনদুর্ভোগ হয়। এছাড়া পোস্টারে পলিথিন ব্যবহারে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সামনের নির্বাচনগুলোতে এসব যন্ত্রণা দূর করতে কমিশন এ উদ্যোগ নিয়েছে। সভা শেষে ঢাকা-১০ আসনের ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে সবাইকে বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দীন।

সাম্প্রতিক সময়ে এবারই প্রথম আচরণবিধিমালার বাইরে প্রার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রচার-প্রচারে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করল কমিশন।

সভার শুরুতে প্রার্থীদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ২৫ টন পোস্টার এমনভাবে ঝোলানো হয়েছিল যে আকাশের চাঁদ-সূর্যও দেখা যায়নি। এসব পোস্টার ড্রেনসহ বিভিন্ন স্থানে গেছে। এতে পরিবেশ নষ্ট হয়। এছাড়া মাইকিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ক্ষতি হয়েছে।

পরে প্রার্থীরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ভোটারদের সুবিধার্থে গণপরিবহন সচল রাখার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, বিলবোর্ডে প্রচারের সুযোগ দিতে হবে। ভোটের আগে ইভিএম দেখার সুযোগ দেয়ার দাবি জানান তিনি।

বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম বলেন, এজেন্টদের নিরাপত্তা দেয়া হয় না। তাদের বের করে দেয়া হয়। এজেন্টদের কেন্দ্রে যাওয়া, অবস্থান ও বাড়িতে ফেরার নিরাপত্তা দিতে হবে, অন্যথায় নির্বাচন ব্যবস্থা থেকে এজেন্ট তুলে দিতে হবে।

এ সময় সিইসি বলেন, এজেন্টদের কেন্দ্রে আনার দায়িত্ব নেয়া সম্ভব নয়। বিদ্যমান বিধিও সংশোধন সম্ভব নয়। কেউ এজেন্টদের বের করে দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করবেন।

সিইসির এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান কয়েকজন প্রার্থী। তারা নির্বাচন ব্যবস্থা, ভোটারদের অনীহা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তারা বলেন, এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। অভিযোগ দেয়ার আগেই মেরে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। আরেক প্রার্থী বলেন, অনাস্থার কারণে ভোটাররা কেন্দ্রে যায় না। গোপন কক্ষে অন্যরা বসে থাকে। ইসি এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

তখন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী প্রার্থীদের প্রচারে-প্রচারণার বিষয়ে আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে সিইসি বলেন, এজেন্টদের কেন্দ্রে নেয়ার দায়িত্ব ইসির নয়। এটা রাজনৈতিক দলের। তবে কেন্দ্রে নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব প্রিসাইডিং কর্মকর্তার। কেউ নিরাপত্তা না দিলে আমাদের কাছে অভিযোগ করবেন, অ্যাকশন নেব। সিটি নির্বাচনে এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাইনি।

আলোচনায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. শাহাজাহান বলেন, নির্দিষ্ট স্থানে প্রচার চালালে অলিগলিতে তা সম্ভব হবে না। এতে ভোটাররা প্রার্থী সম্পর্কে জানতে পারবেন না।

তিনি বলেন, নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম। কিভাবে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো যায়, তা ভেবে দেখা উচিত। এজেন্টরা যাতে নিরাপদে কেন্দ্রে অবস্থান করতে পারেন সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ইসিকে ভ‚মিকা পালন করতে হবে। পরে অন্য প্রার্থীরাও বক্তব্য রাখেন।

পরে সিইসি বলেন, ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে প্রচারে এ সমঝোতা সফল হলে জাতীয় পর্যায়ে আচরণবিধি চেঞ্জ করব। এ নির্বাচনে প্রতিটি রাজনৈতিক দল সুবিধমতো জায়গায় ৫টি পথসভা করতে পারবে। যেখানে একদল পথসভা করবে, সেখানে আরেক দল করবে না। জনসভা করা যাবে না। ভোটের দিন গাড়ি চলবে।

তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে নির্বাচনী ক্যাম্পে মাইক ব্যবহার করা যাবে। এর বাইরে একেবারেই মাইক বাজাতে পারবেন না। নির্ধারিত ২১ জায়গায় পোস্টার টানাতে পারবেন। এর বাইরে কোথাও রাস্তা, অলি-গলিতে পোস্টার টানাতে পারবেন না। আর লেমিনেটেড পোস্টার টানাতে পারবেন না।

ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীরের সভাপতিত্বে এ মতবিনিময় সভায় সিইসি, চার কমিশনার এবং ছয় প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি