সোমবার ৬ এপ্রিল ২০২০
  • প্রচ্ছদ » Lead 4 » চসিক নির্বাচন: জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির মনোমালিন্য!



চসিক নির্বাচন: জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির মনোমালিন্য!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
24.02.2020

নিউজ ডেস্ক: আগামী ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে সরব হলেও বিএনপির তেমন তৎপরতা নেই বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চসিক নির্বাচনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। তবে তার পক্ষ থেকে নেই দলের পক্ষ থেকে সামান্যতম প্রচারণাও। রয়েছে স্থানীয় রাজনীতিতে বিভক্তি ও দলীয় নেতাকর্মীদের গাছাড়া ভাব। যার প্রভাব সম্প্রতি প্রবলভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের দ্বিতীয় প্রধান রাজনৈতিক দল জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে।

বিএনপির একটি মহলের দাবি, চট্টগ্রাম অঞ্চলে জামায়াতের সমর্থন ছাড়া নির্বাচনী মাঠে বিএনপির লড়াই তো দূরের কথা, অংশগ্রহণও বোকামি হবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য যারা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের নাম সর্বাগ্রে শোনা গেলেও রয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। কারণ অনেকেই বলছেন, টাকার জোরে ডা. শাহাদাত মনোনয়ন পেতে লবিং শুরু করেছেন। তবে তিনি মাঠের রাজনীতিতে জনবিচ্ছিন্ন একজন মানুষ। তাই তাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিলে বিগত নির্বাচনগুলোর মত ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

এদিকে, চট্টগ্রাম বিভাগের বিএনপির সাংগঠনিক রিপোর্টও রয়েছে ডা. শাহাদাতের প্রতিকূলে। ওই রিপোর্টে দেখা গেছে, শাহাদাত রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় একজন মানুষ। তাই তিনি যখন লবিং-তদবিরের মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দ্বারস্থ হন, তখন তারেক কৌশলে বিষয়টি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেখভালের নির্দেশ দেন। কিন্তু ফখরুল বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিয়ে না দেখে তারেককে প্রকৃত সত্যটা জানান।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রামে বিএনপির থেকে জামায়াতের আধিপত্য তুলনামূলক বেশি। এ কারণে দলীয় হাইকমান্ডে জামায়াতের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা হয়। শুরু হয় ২০ দলের অভ্যন্তরে ভাঙন ও মনোমালিন্য। যে কারণে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের নাম উঠলেও তাতে তেমন আগ্রহ দেখায়নি জামায়াত নেতারা। এতে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল বিএনপি পড়েছে বেকায়দা অবস্থায়। দলটি আশঙ্কা করছে, তাদের দলীয় সমন্বয়হীনতার কারণেই আসন্ন নির্বাচনে ভরাডুবি হতে যাচ্ছে বিএনপির।

রাজনৈতিক বিজ্ঞজনরা বলছেন, একের পর নির্বাচনগুলোতে বিএনপির শোচনীয় পরাজয় প্রমাণ করে-তারা রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন। অর্থাৎ জনগণ কোনভাবেই তাদের চান না। এজন্য ব্যালট কিংবা ইভিএমের মাধ্যমে তারা সেটিই জানিয়ে দিচ্ছে। তাছাড়া তাদের দলের সাংগঠনিক অবস্থাও ভঙ্গুর। নেই রাজনৈতিক কর্মসূচি। উপরন্তু রয়েছে দলীয় বিভক্তি। তারা দলের কেউ কাউকে মানেন না। এ থেকে সহজেই অনুমেয়, কেমন হবে বিএনপির অনাগত ভবিষ্যত ও তাদের পথচলা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি