শনিবার ৪ এপ্রিল ২০২০



খালেদার মুক্তিতে তারেককে এড়িয়ে চলছেন ফখরুলরা, ধরছেন না ফোনও!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
26.03.2020

নিউজ ডেস্ক: সরকারের উদারতায় মুজিববর্ষে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি পেয়েছেন প্রমাণিত দুর্নীতি মামলায় কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে তিনি মুক্তির পর নিজ বাসভবন ফিরোজাতে যাওয়ার প্রাক্কালে লন্ডন থেকে তার ছেলে ও দলের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একাধিকবার ফোন করেন। কিন্তু খালেদা তার ভাই শামীম ইস্কান্দারকে জানান তিনি ক্লান্ত। কোন ফোন ধরতে পারবেন না। উপায়ন্তর না দেখে তারেক ফোন দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। তিনিও একই আচরণ করেন। এতে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন উঠেছে, খালেদা জিয়ার মুক্তিতে মাইনাস ফর্মুলায় চলে গেছেন তারেক রহমান। এ কারণে তার মা ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার ফোন ধরছেন না।

বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই বছরের বেশি সময় কারাভ্যন্তরে থাকা খালেদা জিয়া বুঝতে পেরেছিলেন যে, তার কারামুক্তিতে কোন ভূমিকা রাখেনি বিএনপি নেতাকর্মী ও আইনজীবীরা। উপরন্তু তার মুক্তি ইস্যুকে ক্যাশ করে চেষ্টা করেছেন নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থের। এসব কিছুই অগোচরে ছিলো না খালেদার। একারণে তিনি যখন মুক্তির পর দেখেন দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে দেখে ‘লোক দেখানো’ স্লোগানে মত্ত। তিনি তখন হুংকার ছেড়ে দলের নেতাকর্মীদের ধমক দেন এবং বলেন, ‘তামাশা দেখতে এসেছো! কি করছো আমার মুক্তির জন্য? যা করার সরকারই করেছে।’ তার এমন বক্তব্যে উপস্থিত নেতাকর্মীরা হতবাক হন।

এরপর খালেদা যখন বিএসএমএমইউ ত্যাগ করেন, তখন থেকে লন্ডন থেকে লাগাতার শামীম ইস্কান্দারের মোবাইলে কল করতে থাকেন তারেক রহমান। এসময় বিরক্ত হয়ে খালেদা শামীম ইস্কান্দারকে বলেন, ‘ তারেকের ফোন কেটে দাও। আমি ক্লান্ত। কথা বলতে ভালো লাগছে না।’ তারেক রহমান পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। কিন্তু তিনিও ফোন ধরেননি। এতে তারেক ঘাবড়ে যান, ফোন দেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও তার ঘনিষ্ঠ সহচর রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে। তিনি তারেককে জানান, পরিস্থিতি অনুকূলে নেই। তাই তিনি নিজেও খালেদা মুক্তির সময় বিএসএমএমইউতে যাননি।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিভুরঞ্জন সরকার বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তিতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাওয়া তারেক রহমান এখন চোখে সরিষা ফুল দেখছেন। কারণ তিনি বুঝে গেছেন, মায়ের মুক্তি মানেই নিজ সাম্রাজ্যের পতন। একইসঙ্গে তার ছায়াতলে থাকা নেতাকর্মীরা পড়বেন চরম চাপে। হারাবেন পদ-পদবীও। এতে চওড়া হাসি হাসবেন খালেদাপন্থী নেতারা, বলবেন উচিৎ কাজই হয়েছে। পরিস্থিতি এখন সেদিকেই যাচ্ছে, যার কারণে তারেককে এড়িয়ে চলছেন অনেক নেতাই। এ থেকে সহজেই অনুমেয়, তারেক রহমান ও তার অনুসারী নেতাকর্মীদের ভবিষ্যৎ কী এবং কেমন হবে তাদের অনাগত দিনের পথচলা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি