সোমবার ৬ জুলাই ২০২০
  • প্রচ্ছদ » other important » করোনা ও আম্ফান: দেশবাসীকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর নিরন্তর চেষ্টা



করোনা ও আম্ফান: দেশবাসীকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর নিরন্তর চেষ্টা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
24.05.2020

করোনা ভাইরাস মোকাবিলা ও ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক দেশের সব ধরনের কার্যক্রম ও প্রস্তুতি মনিটরিং (পর্যবেক্ষণ) করছেন। ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ ও ভিডিও কলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। অতি জরুরি মনে হলে মিটিং-কনফারেন্স করছেন গণভবনে।

গণভবনের একটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও করোনার বিস্তাররোধে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের।

করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্বনেতাদের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উদ্বিগ্ন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সঙ্গেও।

প্রতিদিন সকাল থেকেই দলের কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়াও তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে দেশের সাধারণ মানুষের খোঁজ-খবর রাখছেন। শুক্রবারও একাধিক জেলার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। বিশেষ করে আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর নির্মাণ, অর্থ ও ত্রাণ সহায়তা, বিদ্যুত্ লাইন মেরামত ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যাপারে খোঁজ নেন।

দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবকিছুতেই কঠোর নজরদারি বাড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন কাজে বেশি সময় দিচ্ছেন তিনি।

ইতিমধ্যে তিনি দেশের আট বিভাগের জেলা প্রশাসক, চিকিত্সক, পুলিশ, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে ব্রিফিং ও নির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। কার কী প্রয়োজন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাও শুনছেন তিনি।

করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষগুলো যেন খাবার সংকটে না পড়ে সেজন্য তাদের পাশে দাঁড়াতে দলীয় এমপি-মন্ত্রী ও নেতা-কর্মীদের নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দুই জন নেতা জানান, আম্ফান দুর্যোগ পরবর্তী সংকট কাটিয়ে ওঠা ও করোনা ভাইরাস সংক্রমণের চলতি পরিস্থিতিতে নানা কাজের ব্যস্ততায় এখন প্রায় নির্ঘুম রাত কাটান প্রধানমন্ত্রী।

গত ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী বড়ো পরিসরে পালন করার কথা ছিল। বিদেশ থেকেও ভিভিআইপিদের দেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে পরে এসব অনুষ্ঠান বাতিল করে স্বল্প পরিসরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করা হয়।

এদিকে করোনার আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধির খবর আসতে থাকায় দেশের মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গত ২৫ মার্চ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় দেশের পোশাক খাতসহ রফতানি শিল্পের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন তিনি। জনগণের উদ্দেশ্যে গত ২৯ মার্চ পরামর্শ ও আহ্বান সংবলিত চারটি বার্তা দেন তিনি। ৩১ মার্চ গণভবন থেকে তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জেলা প্রশাসক, সিটি মেয়রের সঙ্গে কথা বলেন।

গণভবনে ৫ এপ্রিল প্রেস কনফারেন্স করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব উত্তরণে নতুন করে ৬৭ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেন। গত ১৩ এপ্রিল তিনি পুলিশের নবনিযুক্ত মহাপরিদর্শকের (আইজি) ব্যাজ পরিধান অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

একই দিন তিনি ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান গ্রহণ করেন। এছাড়া বাংলা নববর্ষ ১৪২৭ উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। ২৯ এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শেখ হাসিনাকে ফোন করেন।

করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে সম্ভাব্য খাদ্যসংকট মোকাবিলায় খাদ্য উত্পাদন বৃদ্ধিতে ঢাকা এবং দিল্লি একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। ঐ দিন অপরাহ্নে শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করেন সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভেনও।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি