সোমবার ৬ জুলাই ২০২০
  • প্রচ্ছদ » other important » ইউনাইটেড হাসপাতালে ‌‌ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রাখা হয়েছিল রোগীদের



ইউনাইটেড হাসপাতালে ‌‌ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রাখা হয়েছিল রোগীদের


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
28.05.2020

নিউজ ডেস্ক: ঢাকার গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালে বুধবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যে পাঁচজন রোগী মারা গেছেন তাদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দেবাশিষ বর্ধন।

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে একটি অস্থায়ী আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছে। মূল ভবনের পাশে অস্থায়ী ভিত্তিতে এটি তৈরি করা হয়েছে। এই আইসোলেশন সেন্টারে রোগীদের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রাখা হয়েছিল।’

‘এটা ভেরি রিস্কি ছিল (খুব ঝুঁকিপূর্ণ), ভেরি রিস্কি। যারা মারা গেছেন তারা ঠিক সানশেডের নিচে মারা গেছেন’ বলেন ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক।

বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের অবহেলা করা হচ্ছে বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। ইউনাইটেড হাসপাতালের ক্ষেত্রেও এটি ঘটেছে কি না? এমন প্রশ্নে দেবাশিষ বর্ধন বলেন, ‘আপনারা জানেন করোনা রোগীর আশপাশে কেউ থাকে না। আগুন লাগার পর তারা কেউ বের হতে পারে নাই। হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে।’

আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ইউনাইটেড হাসপাতালের সম্প্রসারিত অংশে ফায়ার ফাইটার, ফায়ার ড্রিল এবং ফায়ার-টিম ছিল না। ১১টি অগ্নিনির্বাপন যন্ত্রের মধ্যে মাত্র তিনটির মেয়াদ ছিল। অন্য আটটি অগ্নিনির্বাপন যন্ত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। হাইড্রেন্ট কে চালাবে, কে কাজ করবে, কার দায়িত্ব এগুলো সুনির্দিষ্ট করা ছিল না।’

মেয়র আরও বলেন, ‘হাসপাতালে মানুষ ভর্তি হয় আরোগ্য লাভ করার জন্য, এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক যে তারা এখানে অগ্নিদুর্ঘটনায় মারা গেলেন।’ এ সময় সব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ফায়ার সেফটির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন আতিকুল ইসলাম।

এদিকে, করোনা আইসোলেশন ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজন রোগী নিহত হওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বুধবার রাতেই একটি বিবৃতি দিয়েছে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্ভবত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে আগুন আইসোলেশন ইউনিটের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। সেসময় আবহাওয়া খারাপ ছিল এবং বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল। বাতাসের তীব্রতায় আগুন প্রচণ্ড দ্রুততার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার ফলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখানে ভর্তি পাঁচজন রোগীকে বাইরে বের করে আনা সম্ভব হয়নি।’

ঘটনার তদন্তে ফায়ার সার্ভিসকে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পূর্ণ সহায়তা করছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি