শনিবার ৪ জুলাই ২০২০



অস্তিত্ব সংকটের পথে বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
26.06.2020

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাভোগ করায় দেশবাসীর মধ্যে দলটি সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যে দলের নেত্রীই দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত সে দলটি সাধারণ মানুষের কাছে থেকে বিচ্ছিন্ন হবে- এটাই স্বভাবিক। আর জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে দলটি এখন অস্তিত্ব সংকটে।

যেকোনো দল সাধারণ মানুষের জন্যই রাজনীতি করে। আর তারাই দলের মূল শক্তি। কিন্তু সেই রাজনৈতিক দলের নৈরাজ্যের কারণে যদি হাজার হাজার মানুষের জীবন দিতে হয় তাহলে কাদের জন্য এ রাজনীতি? বিএনপি ঠিক এমনই একটি রাজনৈতিক দল যারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নিরীহ, সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া দিন মজুর, শ্রমিক, ড্রাইভার, ছাত্র, শিক্ষক সকলকেই মহাবিপদে ফেলেছে।

বিএনপি ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ সালে হরতাল অবরোধের নামে হাজার হাজার মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের চেষ্টা থেকেও বিরত থাকেনি দলটির নেতাকর্মীরা।

২০১৪ সালের নির্বাচন বানচাল করতেও বিএনপি চেষ্টার কমতি রাখেনি। জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি দিয়ে পুড়িয়ে মারে নিরীহ মানুষকে। তবু তারা জাতীয় নির্বাচন বন্ধ করতে পারেনি। কারণ দেশের জনগণ তাদের ডাকে সাড়া দেয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এসব জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি দিয়ে নিরীহ মানুষের জীবন শেষ করায় জনগণের কাছে থেকে ছিটকে পড়েছে বিএনপি। দেশের মানুষের কাছে বিএনপির জনপ্রিয়তা বলা চলে শূন্যে নেমে গেছে। তাই অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এখন বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ।

তাছাড়া বিএনপির অধিকাংশ নেতার নামেই দুর্নীতির মামলা রয়েছে। কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা রয়েছে, কেউ কেউ সাজাপ্রাপ্ত। খালেদা জিয়াসহ অধিকাংশ নেতাই দুর্নীতির মামলার অভিযুক্ত। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির মামলা রয়েছে। তাই বলা চলে বিএনপির সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায় হওয়ার আগেই রাতারাতি বিএনপি তাদের দলীয় গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা পরিবর্তন করেছে। এই ধারায় দুর্নীতিগ্রস্ত কিংবা সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নেতা হতে পারতেন না এমন উল্লেখ ছিল। রাতারাতি গঠনতন্ত্র সংশোধন করে বিএনপি দুর্নীতিকেই মেনে নিয়েছে। যে দল দুর্নীতিকে নীতি হিসেবে নেয় এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামির হাতে দলের দায়িত্ব দেয় তাদের তো সবাই দুর্নীতিবাজই বলবে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির ক্ষমতার উৎস বন্দুকের নল। আর আওয়ামী লীগের ক্ষমতার উৎস জনগণ। দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত হয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন কারাগারে গেছেন এবং জেল খেটেছেন। আর যারা দল চালাচ্ছেন, তারাও দুর্নীতিবাজ ও দণ্ডিত।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুর্নীতির কারণে বিএনপির জনপ্রিয়তা তলানিতে। তাই দলটি অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। দেশের ৯০ ভাগ মানুষ বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির বিপক্ষে। তারা বিএনপিকে চায় না। এটা বিএনপির অপরাজনীতির ফল। হত্যা, খুনের রাজনীতি করা তাদের পুরনো দিনের অভ্যাস।

তিনি বলেন, এ ধরনের দল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা ক্ষমতার রাজনীতি করে, ক্ষমতা পেলে সব ঠিক আর ক্ষমতা না পেলে কোন কিছুই ঠিক না। তারা গণতন্ত্রের ভাষা বোঝে না, আইন মানে না, আদালত মানে না, পার্লামেন্ট মানে না। তাদের একমাত্র লক্ষ্য যেকোনো উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়া।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির লক্ষ্য ক্ষমতায় গিয়ে লুটপাট করা, আবারো হাওয়া ভবন তৈরি করা। এসব বিষয়ে দেশের জনগণ জানতে পেরে তাদেরকে প্রত্যাখান করেছে। তাই জনপ্রিয়তা হারিয়ে জনগণ থেকে বিছিন্ন হয়ে আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বিএনপি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি