রবিবার ৫ জুলাই ২০২০



বিএনপি থেকে নিজেদের গুটিয়ে রেখেছে জামায়াত


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
26.06.2020

নিউজ ডেস্ক: ২০ দলীয় জোটের মধ্যে বিএনপি’র কাছে জামায়াতের গুরুত্ব এক সময়ে অন্যরকম থাকলেও বর্তমানে বিপরীত চিত্র। কারণ ভোটের রাজনীতিসহ বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে আপাতত নিজেদের গুটিয়ে রেখেছে জামায়াতে ইসলামী।

বিএনপির এই রাজনৈতিক মিত্র জামায়াত নেতারা মনে করছেন, বিএনপি’র কোনো কর্মসূচিতে গিয়ে নতুন করে সরকারের দৃষ্টিতে পড়তে চাইছে না জামায়াত। কেননা বিএনপি শুধুমাত্র তাদের স্বার্থে জামায়াতকে ব্যবহার করতে চায়। বিএনপির দুর্দিনে জামায়াত পাশে থাকলেও কোনো সহানুভূতিও দেখায়নি বিএনপি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াত নেতারা বলেন, জামায়াতের প্রত্যাশা ছিল দুর্দিনে বিএনপি তাদের পাশে থাকবে। কিন্তু বিএনপির নীরবতা তাদেরকে স্তম্ভিত করেছে। তাই এখন তারা বিএনপিকে আর সেভাবে বিশ্বাস করে না। এ কারণে সদ্য অনুষ্ঠিত ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, খালেদা মুক্তির আন্দোলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতেও নীরব ভূমিকা পালন করেছে জামায়াত।

দলের হাইকমান্ড থেকে নির্দেশনা ছিল ঢাকা সিটি নির্বাচন বা বিএনপির কেনো কর্মসূচিতে গিয়ে কোনো নেতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে জামায়াত তার দায়-দায়িত্ব নেবে না। এখনো পর্যন্ত এ নির্দেশনা বহাল রয়েছে। তাছাড়া দলের সংস্কারপন্থীদের নিয়ে নীতি নির্ধারকরা এমনিতেই অনেক চাপে আছেন। তাই এই মুহূর্তে নতুন করে আর কোনো চাপ বাড়াতে চাচ্ছেন না তারা। ফলে বিএনপিকে এড়িয়ে চলছে দলটি।

অবশ্য জামায়াত নির্বাচন বয়কট করলেও তাদের অন্যতম রাজনৈতিক মিত্র বিএনপি অবস্থান বদলে নির্বাচনে ফিরে এসেছে। কয়েকটি নির্বাচন বর্জন করে আবার সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এ পর্যন্ত শুধু বগুড়ায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শূন্য আসনে জেতা ছাড়া আর কোনো অর্জন নেই বিএনপির। তবুও ভোটের মাঠে থাকাই ভালো মনে করছেন দলের শীর্ষ নেতারা।

জামায়াতের কয়েকজন নীতি নির্ধারকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধুমাত্র নির্বাচন কেন্দ্রীক রাজনীতি থেকে নয়, সাংগঠনিক কার্যক্রমেও কিছুটা ধীরে চলার কৌশল নিয়েছে দলের নতুন নেতৃত্ব।

তারা মনে করছেন, বিএনপির রাজনৈতিক অপরিপক্কতা, অদক্ষতা ও নিস্ক্রিয়তায় সবকিছুই এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে। আর শিগগিরই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। তাই এই সময়টাতে চুপচাপ থেকে কর্মী সমর্থকদের সংগঠিত রাখার কৌশলকে গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।

এছাড়া সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত নেতাদের একটি অংশ দল থেকে বের হয়ে যে তৎপরতা চালাচ্ছে তা নিয়েও জামায়াতের শীর্ষ নেতারা অস্বস্তিতে আছেন। এরইমধ্যে জামায়াতের পেশাজীবী ফোরামের সভাপতি ও সাবেক সচিব এএসএম সোলায়মান চৌধুরী এবং রংপুর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা আবু হেনা এরশাদ হোসেনসহ দলের সাবেক নেতারা জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ এর যুক্ত হয়েছেন।

নতুন সংগঠনের নেতারা বিভিন্ন জেলায় সফর করছেন। যার প্রভাব পড়েছে জামায়াতের নেতাকর্মীদের উপর। গত ডিসেম্বরে আমির পদে শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল পদে মিয়া মোহাম্মদ পরওয়ার জামায়াতের নেতৃত্বে আসেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি