শনিবার ৪ জুলাই ২০২০



সিন্ডিকেটে আবদ্ধ ছাত্রদল


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
27.06.2020

নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে সিন্ডিকেটে আবদ্ধ ছাত্রদল। ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করলেও এখনো সিন্ডিকেট মুক্ত হতে পারেনি এ ছাত্র সংগঠনটি। কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হলেও নতুন সিন্ডিকেটের কব্জায় পড়ে যায় তারা। দায়িত্ব নেয়ার পর কয়েকটি ইউনিটের কমিটি করতে গিয়ে আবারো সেই সিন্ডিকেটের প্রভাবে পড়ে। যোগ্য ও ত্যাগীদের সাইড লাইনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ কমিটি করার উদ্যোগ নেয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, কাউন্সিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পরও প্রত্যাশিত গতি আসেনি ছাত্রদলে। এছাড়া কমিটির শীর্ষ নেতাদের বয়স সারাদেশের ইউনিট নেতাদের চেয়ে কম বলে জেলা ও মহানগর নেতারা কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ অনেক ক্ষেত্রে মানছেন না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সংগঠনের চেইন অব কমান্ড নেই বললেই চলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারাদেশে ১১৭টি ইউনিটের বেশিরভাগই মেয়াদোত্তীর্ণ। কাউন্সিলের মাধ্যমে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর এখনো কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি।

বর্তমান কমিটির দায়িত্ব নেয়ার প্রায় ৯ মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক কমিটি ছাড়া কোনো কমিটি গঠন করতে পারেনি। কয়েকটি নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠায় সেগুলো বাদ দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বর্তমান কমিটির একজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যাদেরকে নির্বাচিত করা হয়েছে, তাদেরকে দিয়ে বড়জোর একটা ওয়ার্ড নেতৃত্ব দেয়া যেত। বর্তমান কমিটির সিন্ডিকেটে আবদ্ধ দাবি করে তিনি বলেন, সংগঠনের কোনো চেইন অব কমান্ড নেই। দায়িত্বপ্রাপ্তদের নেতৃত্বের কোনো দক্ষতা নেই।

তিনি আরো বলেন, ভোটে নেতা নির্বাচিত হওয়ায় ছাত্রদলসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রত্যাশা করেছিলেন ছাত্রদল এবার তাদের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পারবে। নেতাকর্মীরাও সেই আশায় প্রহর গুণতে থাকেন। কিন্তু কমিটি ঘোষণার পর এখনো প্রত্যাশিত ফলাফল দেখাতে পারিনি নতুন নেতৃত্ব।

১৯৯২ সালে সরাসরি ভোটে রুহুল কবির রিজভী (বর্তমানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব) ছাত্রদলের সভাপতি ও ইলিয়াস আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কিন্তু ভোটে নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সিন্ডিকেট তৎপর হয়ে ওঠে। যার ফলে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দিতে বাধ্য হয় কেন্দ্র।

এরপর দীর্ঘ ২৭ বছর ওই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ছিল ছাত্রদল। নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় অযোগ্য, নিষ্ক্রিয় ও তাদের আস্থাভাজনদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হয়েছে। ফলে যোগ্য ও সাহসী নেতা কর্মীরা ছাত্রদলের রাজনীতি করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

দীর্ঘ ২৭ বছর পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে ফজলুর রহমান খোকন সভাপতি ও ইকবাল হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি