শনিবার ৪ জুলাই ২০২০



অসহায় মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে আত্মগোপনে বিএনপি নেতারা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
27.06.2020

নিউজ ডেস্ক: বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে অসহায় ও কর্মহীন মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে নিজেদের রক্ষায় আত্মগোপনে গিয়েছেন বিএনপির নেতারা। এ নিয়ে দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষের সমালোচনার মুখে দলটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দুই একজন নেতা ছাড়া সবাই নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। করোনাভাইরাস দুর্যোগে তারা সাধারণ মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে বাসায় থেকে শুধু সরকারের সমালোচনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, দেশে করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই ‘বিএনপি কড়াকড়িভাবে লকডাউন’ পালন করছে। রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং গুলশানে দলীয় চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয় এখন নেতাশূন্য। করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকে সিনিয়র নেতারা যার যার বাসায় অবস্থান করছেন। নেই কোন সাংগঠনিক কার্যক্রমও। হাতে গোনা দুই একজন নেতা মাঝে মাঝে দলীয় কার্যালয়ে আসেন। তারা কয়েক ঘন্টা দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করে আবার বাড়ি ফিরে যান। এছাড়া কৃষকদল, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ প্রায় সব অফিসে তালা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে দলের সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। বিএনপিতে আর রাজনৈতিক ছন্দ নেই। নেই কোন চেইন অব কমান্ড। জাতির এই দুর্দিনে আমাদের দলের সিনিয়র নেতাদের উচিত ছিল অসহায় ও কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু তা না করে উল্টো নিজেরাই আত্মগোপনে চলে গেছেন। যার ফলে আমরা এখন পর্যন্ত জনকল্যাণমূলক কোন কাজ করতে পারিনি।

বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, বিএনপি সর্বদা ভুলের রাজনীতিকেই বেছে নেয়। করোনা পরিস্থিতিতে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা বিএনপির অন্যতম একটি রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত। কেননা এই সময়ে তারা জনগণের কাছে যেতে পারতো।

তারা বলেন, বিএনপিতে অনেক ধনাঢ্য ও সম্পদশালী নেতা রয়েছেন। কিন্তু করোনার এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কয়েকজন নেতা জনগণের সামনে এসেছে? মনোনয়ন কেনার সময় হাজার হাজার নেতা-কর্মী টাকার বস্তা নিয়ে লাইন ধরে থাকেন, কিন্তু মানুষের দুঃসময়ে তারা পকেট থেকে টাকা বের করতে চান না। এভাবে মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যাবে না বা জনসমর্থন আদায় করা যায়না।

তারা আরো বলেন, আপনি নিজে জনগণের কাছে যাবেন না। আবার সরকার যদি যায় আপনি তার সমালোচনা করবেন, সেটা তো ঠিক নয়। আপনার উচিত সরকারের উদ্যোগটা ভুল প্রমাণিত করে তার চেয়ে ভালো কোন উদ্যোগ গ্রহণ করে দেখানো। জনগণকে কাছে পেতে হলে জনগণের কাছে যেতে হবে। দুঃসময়ে জনগণের খোঁজখবর নিতে হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি