শনিবার ৪ জুলাই ২০২০



অভিমানে দলীয় কার্যক্রম থেকে দূরে থাকছেন বিএনপি নেতারা!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
28.06.2020

নিউজ ডেস্ক: দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে একে-অপরকে দোষারোপ করছেন বিএনপির জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতারা। জেলার নেতাদের দাবি, কেন্দ্রের দুই-তৃতীয়াংশ নেতাও যদি রাজপথে সক্রিয় থাকতেন, তাহলে তাদের প্রত্যেক কর্মসূচি সফল হতো। দলের চেয়ারপার্সনকে ২ বছরের অধিক সময় ধরে কারাগারে থাকতে হতো না।

জেলার নেতারা জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের কর্মসূচিতে দলের বেশির ভাগ সিনিয়র নেতাই অনুপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, আমরা দেখেছি এসব নেতাদের সক্রিয় করতে বিভিন্ন কৌশল নেয়া হলেও তারা সক্রিয় হননি।

তাদের মধ্যে অনেকে রাগ আর অভিমানে দলীয় কার্যক্রম থেকে দূরে থেকেছেন। অনেকে পদত্যাগ ও দলত্যাগ করেছেন। আবার অনেকে দলের মধ্যে কোণঠাসা থাকায় কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নেননি। যার ফলস্বরূপ দুই বছরের অধিক সময় দলের চেয়ারপার্সনকে কারাগারে থাকতে হয়েছে।

অপরদিকে, দলের হাইকমান্ড মনে করে, জেলার নেতাদের সার্বিক ব্যর্থতার কারণে কোন কার্যক্রমে সফল হচ্ছে না। তারা বলছেন, বেশিরভাগ তৃণমূল নেতৃত্বই আজ ভোটের মাধ্যমে করা হচ্ছে না। যেসব জেলার নেতা থানা ও উপজেলা কমিটি করেছেন, তাতে তাদের নিজস্ব বলয়ের নেতাদের স্থান দিয়েছেন। বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে যারা ছিলেন তাদের মূল্যায়ণ করেননি। আবার কয়েকটি জেলা আছে, যার কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যক্রম শুরু করেননি।

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, যে উদ্দেশ্য নিয়ে দল পুনর্গঠনের নির্দেশনা ছিল তা জেলার নেতাদের ব্যর্থতার কারণে সফল হচ্ছে না। বেশিরভাগ জেলার নেতারা এখনো তৃণমূল গোছাতে পারেননি। নির্দিষ্ট সময়ে ইউনিয়ন থানাসহ সংশ্লিষ্ট জেলার সব ইউনিটের কমিটি করতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন।

তারা বলেন, বেশ কিছু জেলার শীর্ষনেতারা পদ পেয়েও সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন না বলে কেন্দ্রের কাছে তথ্য রয়েছে। যারা নিষ্ক্রিয়, তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে পারছেন না, তাদের একটি তালিকা করা হচ্ছে। তালিকা ধরে ওইসব নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট জেলার কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন করে কমিটি দেয়া হবে।

বিএনপির নীতিনির্ধাকরা বলেন, প্রায় প্রতিটি জেলার মধ্যেই নেতাদের মধ্যে কোন্দল লক্ষ্য করা গেছে। দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের তেমন না দেখা গেলেও বিভেদ বিভক্তিতে ঠিকই সক্রিয় হয়ে ওঠেন তারা।

তারা আরো বলেন, এরইমধ্যে শীর্ষ নেতারা নিষ্ক্রিয় থাকায় নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই অভিযোগে শিগগিরই আরো কয়েকটি জেলার কমিটি ভেঙে দেয়া হবে। সিলেট জেলা বিএনপির আওতাধীন বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন নিয়ে আবারো বিভক্তি দেখা দিয়েছে। প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে ঘোষিত কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপির একাংশ। এ বিষয়টি কেন্দ্র থেকে কঠোরভাবে দেখা হবে।

জানতে চাইলে দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, জেলা কমিটি গঠনের পর তাদের কাছে দলের একটা প্রত্যাশা থাকে, তা হলো দলকে উজ্জীবিত করা। থানা কমিটিরসহ অধীনস্থ ইউনিটের কমিটি সফলভাবে করা। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল না পেলে সেই জেলা কমিটি তো রাখার দরকার নেই।

তিনি বলেন, আমরা তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে চাই। যারা ব্যর্থ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে- এটাই স্বাভাবিক।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল শেষে যে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়, তাতে যোগ্য-অযোগ্য অনেককেই তখন পদ দিয়ে খুশি করা হয়। কিন্তু পদ পাওয়ার পর থেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন তারা।

এ বিষয়ে বিএনপি পন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বুদ্ধিজীবীরা জানান, জেলার নেতাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা আছে-এটা যেমন সত্য তেমনি কেন্দ্রেও অনেক অলস ও অযোগ্য নেতা রয়েছেন। যারা শুধু শুধু পদ-পদবি দখল করে রয়েছেন। এটা আন্দোলন বা দলের কর্মসূচি সফলতার প্রধান অন্তরায়। জেলার নেতারা জেলার রাজনীতিতে ব্যর্থ, আর কেন্দ্রের নেতারা কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ব্যর্থ।

তারা বলেন, অলস, অযোগ্য ও নিষ্ক্রিয় এসব নেতাদের দলের সাইডলাইনে নিয়ে ত্যাগী আর রাজপথের নেতাদের সামনে আনার পরিকল্পনা নিতে হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি