রবিবার ৫ জুলাই ২০২০
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » ফিরে দেখা ২০১৩: বিএনপি-জামায়াতের পেট্রোল বোমা আর সহিংসতার কথা ভোলেনি বাংলাদেশ



ফিরে দেখা ২০১৩: বিএনপি-জামায়াতের পেট্রোল বোমা আর সহিংসতার কথা ভোলেনি বাংলাদেশ


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
28.06.2020

নিউজ ডেস্ক: ২০১৩ সাল, কাঁচের বোতল,পেট্রোল আর কিছু ভাঙা কাঁচ বা মার্বেলের টুকরা ব্যবহার করে পেট্রোল বোমা তৈরি করে গণতন্ত্রের নামে সাধারণ মানুষ নিধনে নামে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের দুর্বৃত্তরা৷ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সুযোগ বুঝে সেগুলো নিক্ষেপ করে যাত্রীবাহী গাড়িতে৷ যার ফলে গাড়ির সঙ্গে পুড়ে মরে জীবন্ত মানুষ৷ সে সময়ে বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতার কথা ভেবে আজও শিউরে ওঠে দেশের মানুষ।

বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গণমাধ্যমের সংবাদ বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, নির্বাচনসংক্রান্ত জটিলতা ছাড়াও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে ২০১৩ সালে দেশে নারকীয় সহিংসতার ঘটনা ঘটায় বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। হরতাল, অবরোধ চলাকালে তারা আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে। তাদের হত্যাযজ্ঞ ও সহিংসতার হাত থেকে নিরীহ সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রেহাই পায়নি পশুপাখিও।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে, যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হওয়ার পর থেকেই দানবীয় রূপ ধারণ করে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। তারা একের পর এক সহিংসতা চালায়। তাদের সেই রাজনৈতিক সহিংসতার ৪১৯ টি প্রধান ঘটনায় ৪৯২ জন নিহত হয় এবং ২,২০০ জন আহত হন।

২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কুখ্যাত রাজাকার কাদের মোল্লার আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশের ঘোষণায় দুই দিনের হরতাল ডাকে জামায়াত। ওই হরতালে বিএনপি-জামায়াত ও ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীর হাতে কমপক্ষে তিন জন নিহত হয়। এছাড়া একই ঘটনায় ২৪ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলায় হরতালে পুলিশের সাথে জামায়াত-শিবির কর্মীদের সংঘর্ষে ৪ জন নিহত এবং কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়। এরপর একই বছরের ১২ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা ও যুদ্ধাপরাধের আসামি কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের পর জামায়াত ও ছাত্র শিবিরের সহিংসতায় সারাদেশে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৭ জন নিহত ও ১৫০ জন আহত হয়।

একই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে আরেক শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিতের ঘটনাতেও। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের সহিংসতায় ১২ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৪০ জন নিহত হন এবং ২ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন। গাইবান্ধা জেলায় ৪ পুলিশ সদস্যসহ ৬ জন নিহত হয়, সাতক্ষীরায় ১ জন বেসামরিক নাগরিক, ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ জন, চট্টগ্রামে ৪, কক্সবাজার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ও নোয়াখালী জেলায় ২ জন করে এবং ঢাকা, মৌলভীবাজার, নাটোর ও বগুড়া জেলায় একজন করে বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। পরে ১ মার্চ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে জামায়াত ইসলামীর সংঘর্ষে কমপক্ষে ৭ জন মানুষ নিহত হন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭ জনে।

গণমাধ্যমের সংবাদ বিশ্লেষণ করে আরও জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১ মার্চ গাইবান্ধায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষে এক রিকশাচালক ও চায়ের দোকানদার নিহত হন। সিলেট নগরীতে সশস্ত্র শিবির কর্মীরা ছাত্রলীগ নেতা জগৎজ্যোতি তালুকদারকে হত্যা করে । এছাড়া বগুড়া, রাজশাহী, ঝিনাইদহসহ অন্যান্য জায়গায় বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের সহিংস তাণ্ডবে একাধিকজন আহত ও নিহত হন।

এ বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যারা জীবন্ত মানুষকে পেট্রোল বোমা দিয়ে পুড়িয়ে মেরে ফেলতে পারে, তারা পশুর থেকেও অধম। কারণ, নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তারা যাদের প্রাণ নিয়েছিলেন, সবাই-ই ছিলেন নিরপরাধ। তাই দেশ ও দশের স্বার্থে এসব আগুন সন্ত্রাসী ও সহিংস ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বর্জন করুন। একইসঙ্গে তারা যাতে অসৎ উপায় অবলম্বন করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে না পারে সেদিকে সরকারসহ দেশবাসীকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি