শনিবার ৪ জুলাই ২০২০
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » বিএনপি ও পরিবারের কাছে ‘অচ্ছুত’ হয়ে পড়েছেন লুৎফুজ্জামান বাবর!



বিএনপি ও পরিবারের কাছে ‘অচ্ছুত’ হয়ে পড়েছেন লুৎফুজ্জামান বাবর!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
28.06.2020

নিউজ ডেস্ক: ‘চিরদিন কারো নাহি যায় সমান’ এমন প্রবাদের সত্যতা হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছেন বিগত বিএনপি-জামায়াত শাসনামলের বিতর্কিত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। বিপদের দিনে তার পাশে নেই দল এমনকি পরিবারের সদস্যরাও। লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে যোগসাজশে দেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের মদদদাতা হিসেবে কুখ্যাতি অর্জন করা বাবরের জীবন কাটছে কারাগারে। তার সাথে দেখা করতে যান না পরিবারের সদস্যরা।

তথ্যসূত্র বলছে, বিগত এক যুগের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন বিএনপির নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর। কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে নিঃসঙ্গ জীবন কাটছে এক সময়ের প্রভাবশালী এই নেতার। ২০১৮ সালের নভেম্বরের পর থেকে এখন পর্যন্ত তার পরিবারের সদস্য বা আইনজীবীরা কেউ কারাগারে দেখতে যাননি তাকে। নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত সাবেক এই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কারাগারে থেকেই শোনেন তোলপাড় করা দুই মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায়। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করলেও তাতে কোনো গতি নেই। জানা গেছে, বাবরের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে গুলশানের বাসায় থাকেন। তার বড় ছেলে আগে দেশের বাইরে থাকলেও এখন দেশে আছেন। তিনিই পরিবারের দেখভাল করেন। তবে অদৃশ্য কারণে বিগত প্রায় দুবছরে বাবরের সাথে দেখা করেননি তারা। পরিবারের তরফ থেকে দলীয় হাইকমান্ডকে তার (বাবর) সাজা মওকুফ কিংবা মুক্তির বিষয়ে একাধিকবার তদবির করা হলেও কোন কাজ হয়নি বলেও বাবরের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। দলের কাছে প্রায় অচ্ছুত হয়ে পড়েছেন সাবেক এই বিতর্কিত নেতা। এছাড়া তারেক রহমানের অপরাধ সঙ্গী হওয়ায় অনেকেই ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে বাবরের বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখেন না বলেও জানা গেছে।

এদিকে কারাগারের সূত্র বলছে, দুটি আলোচিত মামলায় ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে কারাগারে বাবর স্বাভাবিকই আছেন। কনডেম সেলে থাকছেন বলে আগের মতো তেমন দাপট নেই। তবে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসের পর পরিবার কিংবা আইনজীবী কেউ তার সাথে দেখা করেননি।

উল্লেখ্য, বিএনপি সরকারের সময়ের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তারের সাত বছর পর ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি আলোচিত দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। এর চার বছর পর ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে বাবরসহ ১৯ জনের ফাঁসির রায় দেন আদালত।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি