শুক্রবার ৭ অগাস্ট ২০২০



প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়ালো জামায়াত আর এবি পার্টি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
01.07.2020

নিউজ ডেস্ক: দলের সাবেক নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘আমার বাংলাদেশ পার্টির’ (এবি পার্টি) সঙ্গে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে জামায়াতে ইসলামী। একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধ বিরোধী এ দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি বক্তব্যের জেরে উভয়পক্ষের বিরোধ এবার দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠে এসেছে।

গত ২২ শে জুন অনলাইনে অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনে এক কর্মীর প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে এবি পার্টি প্রসঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বলেন জামায়াতের আমির।

বৈঠকে তাকে প্রশ্ন করা হয়, কিছু লোক এবি পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে তাদের ব্যাপারে আমাদের করণীয় কি? জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, গত মে মাসের ২ তারিখে এবি পার্টি গঠন হয়। ওইদিন তাদের দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করা হয়- এই পার্টির নীতি ও কর্মকৌশল হবে তিনটি জিনিসের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হচ্ছে- সাম্য, সামাজিক সুবিচার ও মানবাধিকার। এটার উপরেই তারা কাজ করবেন। তারা পরিষ্কার করে বলেছেন, তাদের কর্মসূচির এজেন্ডায় ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধের চ্যাপ্টার থাকবে না। এটাকে বাদ দিয়েই হবে তাদের সবকিছু। ফলে আমাদের আর কিছু বলার প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, তারা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। কারণ দ্বীন তাদের সাবজেক্ট নয়, আর দ্বীনটাই আমাদের সাবজেক্ট। এ জায়গায় তাদের সঙ্গে আমাদের আদর্শিক পথ সম্পূর্ণ আলাদা। তারা একসময় আমাদের ভাই ছিলেন, আমাদের প্রিয় মানুষ ছিলেন। এখন আমরা কী করবো এই ভাইদের ব্যাপারে?

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে জামায়াতের আমির বলেন, ‘এবি পার্টির ভাইদের সঙ্গে কোনো বিতর্কে জড়াবেন না। তাদের কোনো প্রশ্নের জবাব দেবেন না। তাদের সঙ্গে অবশ্যই ফেসবুক চ্যাটিংয়ে লিপ্ত হবেন না। পজিটিভও না নেগেটিভও না।

জামায়াতের আমিরের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে এবি পার্টি। গত ২৮ জুন দলের পক্ষ থেকে এবিএম খালিদ হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

এতে বলা হয়, একটি দলের প্রধান কর্তৃক অন্য একটি রাজনৈতিক দল সম্পর্কে দোয়া করার নাম করে অশোভন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করা বাংলাদেশে বিরল।

আমরা তার মত ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের বিভেদমূলক ও অপরানৈতিক আচরণ পেয়ে ব্যথিত। এ রকম রাজনৈতিক চর্চা চালু হলে সব দলই অপর দলের জন্য, হেদায়েতের পথে আসার ও পরিপূর্ণ মুসলমান হওয়ার জন্য দোয়া করতে থাকবে, যা এক ধরনের অসুস্থ সংস্কৃতির জন্ম দেবে ও মূলত ধর্মেরই অবমাননা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এবি পার্টির দলীয় ইশতেহার নিয়ে শফিকুর রহমানের বক্তব্য ভুল, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এবি পার্টি ২ মে দলের যে ৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তার প্রথম দফা হলো- জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা। যেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যকার বিভেদ ও বিভাজন সৃষ্টিকারী সব মত ও পথ পরিহার করে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রে উল্লেখিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার মূলনীতির ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি