শুক্রবার ৭ অগাস্ট ২০২০
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » বিএনপি দেশের দুর্দিনেও নাই, উন্নয়নেও নাই



বিএনপি দেশের দুর্দিনেও নাই, উন্নয়নেও নাই


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
01.07.2020

নিউজ ডেস্ক: চলমান করোনা সংকটসহ যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা দেশের উন্নয়নযজ্ঞ, কোথাও অংশগ্রহণ নেই বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের। উপরন্তু সীমাহীন লুটপাট-দুর্নীতিতে জড়িয়ে গুছিয়েছেন নিজেদের আখের। এ কারণে দুর্নীতিতে ৫ বার চ্যাম্পিয়ন দল বিএনপির প্রতি আস্থা নেই দেশের জনগণের।

বিশিষ্টজনরা বলছেন, দেশের এমন কোন সেক্টর নেই, যেখানে বিএনপি দুর্নীতি করেনি। স্বজনপ্রীতি ও অদক্ষ লোকবল নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিটি খাতকে পঙ্গু করে দিয়েছিল দলটির নেতারা। যেখান থেকে বাংলাদেশকে পুনর্জীবিত করেছে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। মানুষের ভোট-ভাত ও নানাবিধ অধিকার আদায়ে সদা অগ্রণী ভূমিকা রাখা এই দলটির কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিক দেশের মানুষের সেবায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করেছেন। এমনকি উদ্ভূত করোনা পরিস্থিতিতেও তারা রেখেছেন মানবতার অনন্য নজির।

দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার তাদের শাসনামলে ঘূর্ণিঝড় আইলা, মহাসেন, ফণী, বুলবুল, আম্পান ও চলমান করোনাভাইরাস মহামারিতে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে তাদের নানাবিধ সহায়তা করেছে এবং করছে। কিন্তু দেশের এমন সব সংকটময় পরিস্থিতিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঠে দেখা যায়নি। বরং তারা হাত-পা গুটিয়ে ঘরে বসে থেকে সরকারের ইতিবাচক তৎপরতার মিথ্যাচার করেছেন এবং এখনও করছেন। এটা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কারণ তারা ‘নেই কাজ তো খৈ ভাজ’ নীতিতে চলছেন। আর এ কারণে পান থেকে চুন খসলেই তার সত্যতা যাচাইয়ের আগে সরকারের বিরুদ্ধে লাগামহীন মিথ্যাচার ও গুজব ছড়াচ্ছেন।

সূত্রটি আরো জানায়, বিএনপি সরকারের উদাসীনতা ও গাফিলতিতে ৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ মারা যায়। আশ্রয়হীন হয় প্রায় এক কোটি মানুষ। শুধু তাই নয়, ওই ঘূর্ণিঝড়ে শুধু যে মানুষের প্রাণহানি ও বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছিল তা কিন্তু নয়। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বিভিন্ন অবকাঠামো এবং যন্ত্রপাতির। যার মধ্যে ছিল চট্টগ্রাম বন্দর, বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান এবং নৌবাহিনীর জাহাজ। অথচ সেসব তৎকালীন সময় যেন গায়েই মাখেননি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে যত মরার কথা, তত মানুষ মরে নাই।

এর বাইরেও অসংখ্য অমানবিক নজির গড়েছে বিএনপি। সন্ত্রাস-দুর্নীতি-জঙ্গিবাদের উত্থান, সবই হয়েছে তাদের শাসনামলে। এমনকি খাম্বা দুর্নীতি, নাইকো, গ্যাটকো ও সিমেন্স দুর্নীতির মত কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। এসবের পাশাপাশি তাদের সার্বিক লুটপাটের ভিত্তিতে দেশ দুর্নীতিতে ৫ বার চ্যাম্পিয়ন হয়। কিন্তু তাতেও হুঁশ ফেরেনি বিএনপি নেতাকর্মীদের। উল্টো প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে সরকারের উন্নয়নযজ্ঞ যেমন-পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল নির্মাণ, দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হয়ে ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, কয়লাভিত্তিক রামপাল থার্মাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা বন্দর নির্মাণ এবং মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের কাজ নিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। পাশাপাশি করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকারদলীয়রা যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরলস পরিশ্রম করছে, তখন বিএনপি নেতারা অনলাইনে খোশগল্প আর নাটক-সিনেমা দেখে সময় কাটাচ্ছেন। আর টিপ্পনী কেটে বলছেন, সরকার মানুষের জন্য কিছুই করছে না।

এ বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মিথ্যাচার আর নালিশ করা ছাড়া বিএনপির অন্য কোন কাজ নেই। রাজনৈতিক কর্মসূচিহীন এই দলটির এখন ‘গুজব সেল’র মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোই অদ্বিতীয় কাজে পরিণত হয়েছে। এ কারণে তাদেরকে দেশের দুর্দিন বা উন্নয়নকর্মে পাওয়া যায় না।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি