শুক্রবার ৭ অগাস্ট ২০২০



ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্ন অর্জনে তরুণরাই মূল যোদ্ধা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
02.07.2020

নিউজ  ডেস্ক: ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্ন অর্জনে তরুণারাই হচ্ছে মুল যোদ্ধা। তাই তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলার দিকে জোর দিতে হবে। আওয়ামী লীগের বিশেষ ওয়েবিনারের ৮ম পর্বে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। করোনাকাল ও পরবর্তী বাংলাদেশ নিয়ে আওয়ামী লীগের বিশেষ ওয়েবিনার ‘বিয়ন্ড দ্য প্যানডেমিক’-এর ৮ম পর্ব অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার রাতে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদের সঞ্চালনায় এতে আলোচক ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর, গুরুকুল অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম-এর প্রতিষ্ঠাতা সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর।

আলোচনার শুরুতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি বলেন, গত ১৭ মার্চ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পর ২৯ মার্চ থেকে সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিকের ক্লাস চালু করেছি। যেখানে সাধারণ শিক্ষা, মাদ্রাসা শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা সমান তালে চলছে। এছাড়া অনলাইনে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো তাদের শিক্ষাথীদের ক্লাস নিচ্ছেন। আমরা দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জরিপ করে দেখেছি ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৯২ শতাংশ শিক্ষাথীদের কাছে পৌঁছাতে পারছি। বাকি শিক্ষাথীদের জন্য যাদের কাছে অনলাইনে পৌঁছাতে পারছি না, তদের কাছে পৌঁছাতে ৩৩৩৬ নম্বরে মোবাইল ফোন কলের মাধ্যমে শিক্ষকদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে পড়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এছাড়া কমিউনিটি রেডিও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে আর কিভাবে পৌঁছানো যায়, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়েছি। আশা করছি আগামী নভম্বরের মধ্যে বার্ষিক সিলেবাসগুলো মোটামুটি শেষ করে নিতে পারবো। অনুকূল পরিবেশ শুরু হলে এইচএসসিসহ সব পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, ইশতেহারে আমরা সবসময় তরুণদের গুরুত্ব দিয়েছি। শেখ হাসিনা এই তরুণদের যুক্ত করেছেন আমাদের স্বপ্নের সঙ্গে, জাতীয় স্বপ্নের সঙ্গে। এই স্বপ্ন অর্জনের পথে তরুণরাই আমাদের ভবিষ্যৎ, তরুণরাই হচ্ছে মূল যোদ্ধা। তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলা ও দক্ষতা শিক্ষার উপর জোর দিতে হবে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ হাসান রাসেল বলেন, করোনার প্রভাবে সারাবিশ্বের মত আমাদের যুব সম্প্রদায় যারা বিভিন্ন কর্মস্থানে আছেন তারা অনেকেই আংশিক বা পুরোপুরি বেকার হয়ে যাবে। এই হঠাৎ বেকার হয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর যারা গ্রামে চলে গেছেন বা যাবেন ভাবছেন তাদের সেখানেই আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তাদের জন্য লোনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আগে লোনের ক্ষেত্রে যে সুদ দিতে হতো আমরা সেটা অর্ধেকে নামিয়ে নিয়ে এসেছি। এই মুজিববর্ষে কেউ যাতে বেকার না থাকে, সে লক্ষ্যে কর্মসংস্থান ব্যাংকের সাথে চুক্তি করে ‘বঙ্গবন্ধু যুব ঋণ’ নামে একটি প্রকল্প চালুর ব্যবস্থা করেছি। যেখানে নিম্নে ২০ হাজার টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনা জামানতে ঋণ সুবিধা দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সারাদেশে বেকার হয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আর সে হিসেবে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো। আমাদের টার্গেট রয়েছে আগামী ৩ বছরের মধ্যে ১২ লাখ দক্ষ যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল যুগের সুফল হিসেবে আমরা এখন অনলাইনে আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে হাত তালির চিন্তা বাদ দিয়ে আলোচনা করতে পারছি। এতে আমাদের মনোজগতের একটা পরিবর্তন এসেছে। তথ্য প্রযুক্তি অবকাঠামো এখন আগের থেকে অনেক শক্তিশালী। ডিজিটাল বাংলাদেশের যে স্বপ্ন আমাদের দেখিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়, সেটা আজ বাস্তবতা। আমরা এখন ঘরে বসে থেকেই মন্ত্রণালয়ের কাজ করছি। অনলাইনে শিক্ষকরা ক্লাশ নিচ্ছেন, জরুরি সভা করছেন। পৃথিবীর কোন সংবিধানে বিদ্যুৎ মৌলিক অধিকার বলে উল্লেখ নাই, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সংবিধানে বিদ্যুতকে অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে সন্নিবেশিত করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনা সারাদেশে বিদ্যুৎ পৌছানোর ব্যবস্থা করেছেন। যার ফলে তথ্য প্রযুক্তিতে আমরা এগিয়ে যেতে পেরেছি।

দৈনিক জনকন্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার বিভাষ বাড়ৈ বলেন, আমি মনে করি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো সঠিক অবস্থানে আছে। সবার কাছে এখন নিরাপত্তা আগে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মন্ত্রণালয় এখন সঠিক অবস্থানে আছে এবং সঠিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থা বেশি স্থিতিশীল রয়েছে। আমরা খুব তাড়াতাড়ি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারছি না, যদি মহামারি দীর্ঘ হয়। সে ক্ষেত্রে আলোচনা সাপেক্ষে মন্ত্রণালয় ভাল সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

সংসদ টিভির ব্যাপারে আরেকটু পদক্ষেপ নিলে একেবারে রুট লেভেলের ছাত্র-ছাত্রীরা উপকৃত হবে। তারা যাতে এই টিভি দেখতে পারে সেক্ষেত্রে ক্যাবল অপারেটরদের সাথে কথা বললে মনে হয় ভালো হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর বলেন, আমাদের শিক্ষামন্ত্রী যেভাবে কাজ করছেন তা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। আমরা দেখতে পেলাম অনলাইন শিক্ষার যে কয়টি পদ্ধিতি আছে, প্রত্যেকটি পদ্ধতিতে সরকার ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পৌঁছানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে। নিশ্চয়ই এটি ভাল উদ্যোগ। অনলাইন ক্লাস এর ক্ষেত্রে শতভাগ পার্টিসিপেন্ট বা ক্লাস পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে সবার কাছে মোবাইল আছে। ক্লাস শুরুর পূর্বে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ফোনে যদি মেসেজ বা ভয়েস মেসেজ দেয়া যায় তাহলে ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণ আরো বেশি পাওয়া যাবে। যেমন আজকে তোমাদের ক্লাস, এসাইনমেন্ট। এতে করে শিক্ষার্থীরা আগে থেকে প্রস্তুত থাকলো।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি