শুক্রবার ৭ অগাস্ট ২০২০
  • প্রচ্ছদ » other important » করোনার দুঃসময়েও বিএনপির প্রভাবশালী নেতারা ত্যাগী কর্মীদের পাশে নেই!



করোনার দুঃসময়েও বিএনপির প্রভাবশালী নেতারা ত্যাগী কর্মীদের পাশে নেই!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
02.07.2020

নিউজ ডেস্ক: করোনা পরিস্থিতিতে বিএনপির কেন্দ্রের কার্যক্রমে হতাশ তৃণমূল নেতৃবৃন্দ। তাদের অভিযোগ, বৈশ্বিক এই দুর্যোগের সময়ে প্রভাবশালী নেতারা ত্যাগী কর্মীদের পাশে নেই। তারা এলাকার খোঁজ-খবর নেন না। কিন্তু নির্বাচন এলে দেখা যায় নানা রকম প্রতিশ্রুতি নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ান এসব মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। সে সময় তারা লাখ লাখ টাকা খরচ করলেও এই ভয়াবহ দুর্যোগের সময় এক টাকাও বের করতে চান না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা দুর্যোগে বিএনপির হাজারো নেতা লেজ গুটিয়ে বসে থাকায় চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ দলের কর্মীরা। কেন্দ্রের প্রতি তারা আস্থা হারিয়ে ফেলছেন।

তারা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। কিন্তু এই সময়ে কর্মীদের পাশে না থেকে দলের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করছেন। যার ফলে বিএনপির মাঠের কর্মীরা আজ মানবেতর জীবন যাপন করছে। একদিকে যেমন তাদের কর্ম নেই, অন্যদিকে ঘরে খাবার নেই।

ঢাকার একেবারে নিকট জেলা গাজীপুর। প্রথম থেকেই করোনার হট স্পট হিসেবে খ্যাত। যেখানে অসংখ্য খেটে খাওয়া দিনমজুর, শ্রমিক, গার্মেন্টস কর্মী ও ভাসমান মানুষের বসবাস। এ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের বিপরীতে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে গেল সংসদ নির্বাচনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পান পাঁচজন। কিন্তু জিততে পারেননি তারা।

তারা বর্তমানে নিজ নিজ ঘরেই অবস্থান করছেন। কাপাসিয়ায় উপজেলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মরহুম আ স ম হান্নান শাহ’র ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নানকে মনোনয়ন দেয়া হয়। কিন্তু বর্তমান ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে তাকে দেখা যায়নি। এমপি নির্বাচনে লড়াই করা রিয়াজুল স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশে নেই। কালিয়াকৈরে প্রভাবশালী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীও নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। টঙ্গীতে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান উদ্দিন সরকারের ভাই সালাহউদ্দিন সরকার। মাঠে নেই তিনিও। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন কালীগঞ্জের সাবেক এমপি। এবারও তিনি সেখান থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তিনি বেশিরভাগ সময়েই তার ঢাকার কাকরাইল বাসাতেই থাকেন।

এছাড়া নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, লালমনিহাট, সিলেট, বরিশাল, ভোলা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, পাবনা, ঈশ্বরদী, ঝিনাইদহ, যশোর, কুষ্টিয়া, চাঁদপুর, লক্ষীপুর, নোয়াখালীসহ প্রায় প্রতিটি জেলার চিত্র একই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ত্রাণ কার্যক্রমে নেই বিএনপি নেতাদের অংশগ্রহণ। কেন্দ্রীয় প্রায় সব নেতাই ঢাকায় অবস্থান করছেন। এমনকি দলীয় সকল প্রকার সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত। তবে দু-একটি জায়গায় যেমন খুলনা, কুমিল্লায় ২/৪ জন কেন্দ্রীয় নেতা ত্রাণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন।

তাছাড়া, প্রায় সব জেলার তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের অভিযোগ, নেতারা মনোনয়ন পাওয়ার জন্য লাখ লাখ কিংবা তারও বেশি টাকা খরচ করতে পারেন, তবে মহামারি করোনায় পকেট থেকে এক টাকাও বের করতে পারেন না।

তারা বলেন, অনেক নেতা আছেন যারা ঈদ ছাড়া এলাকায় যান না। আর ভোট এলে গ্রামমুখী হন। তাদের এমন আচরণে রীতিমতো সবাই ক্ষুব্ধ ও হতাশ।

কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশনা দেয়ার পরও নেতারা কেন কর্মীদের পাশে নেই। জানতে চাইলে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, দল থেকে সব সময় নেতাকর্মীদের এ বিষয়ে বলা হচ্ছে। তাছাড়া করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটা মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। তারা সব সময় তা পর্যবেক্ষণ করছেন। আমি আবারো সবাইকে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি