শুক্রবার ৭ অগাস্ট ২০২০



বিএনপিতে মা-ছেলের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চরমে!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
03.07.2020

নিউজ ডেস্ক: বিএনপিতে খালেদা জিয়া অনুসারী এবং তারেক রহমান অনুসারীদের মতপার্থক্য এখন আর গোপন কিছু নয়। মা ছেলের ক্ষমতার এই লড়াইয়ে বিপর্যস্ত বিএনপির বিভিন্ন বৈঠকে তা স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।

জানা গেছে, বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃত্বে এখন তারেক এবং খালেদা জিয়ায় বিভক্ত। ২০১৪ সালের নির্বাচনের কথাই ধরা যাক, ওই নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে ছিলেন খালেদা জিয়া। কিন্তু লন্ডনে অবস্থানরত তারেক জিয়া তাকে নির্বাচনে না যাওয়ার জন্য চাপ দেয়। এভাবে প্রতিটি সিদ্ধান্তে পুত্রের বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন খালেদা জিয়া। কিন্তু এবার জেল জীবনে প্রকাশ্যেই ছেলের সমালোচনা করেছেন তিনি। ছেলের অনেক সিদ্ধান্ত তিনি নাকচ করে দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দীর্ঘ দুই বছর এক মাস ১৬ দিন কারাভোগের পর গত ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য মুক্তি পান খালেদা জিয়া। মুক্তি পাওয়ার পর এখন পর্যন্ত তিনি তারেকের বিশ্বস্ত কারো সঙ্গে দেখা করেননি।

সূত্র আরো জানায়, বিএনপিতে এখন তারেক জিয়ার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রুহুল কবির রিজভী। তাই তিনি এদের সঙ্গে কোন পরামর্শ বা এখন পর্যন্ত দেখাও করতে চাননি। তাইতো দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বারবার ডেকে কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তারেক সম্পর্কে বলেছেন, দীর্ঘদিন বিদেশ থেকে দেশের বাস্তবতা সে বুঝে না, আপনি আপনার মত করে দলের কার্যক্রম চালান। আর জেল থেকে মুক্তির পরও তিনি প্রথম দলের মহাসচিবের কাছেই সবকিছু জানতে চেয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি’র সিনিয়র এবং দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, বিএনপিতে মা-ছেলের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আজকের নয়। কর্তৃত্বের দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল ২০০১ সাল থেকেই। বিএনপিতে মায়ের নিরংকুশ কর্তৃত্বে ভাগ বসাতে আলাদা বলয় গড়ে তুলেছিলেন তারেক জিয়া। যার ফলে ২০০৬ সালে দলে নিজেই কোণঠাসা হয়ে পড়েন খালেদা জিয়া।

তৃণমূল থেকে শুরু করে তরুণরা হয়ে যান তারেকপন্থী। ২০০৭ সালে খালেদা জিয়ার প্রায় সব কাছের মানুষই সংস্কারপন্থী হয়ে যান। দলের মহাসচিব মান্নান ভূঁইয়া থেকে সাদেক হোসেন খোকার মত নেতারাও খালেদা জিয়াকে ছেড়ে যান। এর ফলে দলের কর্তৃত্ব নেয় তারেক জিয়া। পরবর্তীতে লন্ডনে থেকেই দলের বিভিন্ন কমিটি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃত্ব ঠিক করতে থাকেন তারেক। কিন্তু মা ছেলের ক্ষমতা কখনো প্রকাশ্যে রূপ নেয়নি বরং খালেদা জিয়া সবকিছু সহ্য করেই ছেলেকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। ছেলের সব সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নিয়েছেন।

আজ খালেদার এই পরিনতির জন্য শুধুই তার ছেলে দায়ি। তিনিই (তারেক) খালেদা জিয়াকে ক্ষমতার লোভে রাজনীতি শুন্য করার ষড়যন্ত্র করেছেন এবং তার শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছেন। বিএনপির সব সিনিয়র নেতাকে জিম্মি করে রেখেছেন তারেক রহমান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক সিনিয়র নেতা জানান, মা-ছেলের ক্ষমতার এই লড়াইয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিএনপি’র তৃণমূলসহ সব পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। নিজের স্বার্থের জন্য দলটাকে আজ ব্যবসায়ীদের হাতে বিক্রি করে দিয়েছেন তারেক জিয়া। দলের ত্যাগী নেতাদের কোন মূল্যায়ন নেই। তাদেরকে রাজনীতি শূন্য করে রাখা হয়েছে। শুধু তাই-ই নয় রাজনৈতিকভাবে বন্দী করে রাখা হয়েছে তাদের। এ দলে এখন নেই চেইন অফ কমান্ড, নেই কোনো শৃঙ্খলা। যে যার মত করে তদবির করে যাচ্ছে।

তিনি আরো জানান, অবমূল্যায়ন আর অপমানে ত্যাগী নেতারা আজ রাজনীতি শূন্য হয়ে পড়ছে। তারা রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। সারাজীবন তারা যে দলের জন্য শ্রম দিয়েছে আজ তাদের এই অবমূল্যায়ন আর হতাশা দেখে নিজেরা রাজনীতি থেকে বিদায় নিচ্ছেন। মা-ছেলের এই দ্বন্দ্বে বিএনপি আজ বিপর্যস্ত। বিএনপি আজ মাঝি হারা নৌকার মত।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি