শুক্রবার ৭ অগাস্ট ২০২০
  • প্রচ্ছদ » other important » শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলা মামলার নিষ্পত্তি হয়েছিল আজ



শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলা মামলার নিষ্পত্তি হয়েছিল আজ


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
03.07.2020

নিউজ ডেস্ক: পাবনার ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছিলেন আদালত। এ ছাড়া, এ মামলায় ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৩ জনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। একইসঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে তিন বছর করে কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের তিনলাখ টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরও দুইবছর করে কারাদণ্ড এবং ১০ বছর করে কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের একলাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও একবছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পাবনার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক রোস্তম আলী এ রায় ঘোষণা করেছিলেন।

ফাঁসির আসামিরা হলেন—ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোকলেছুর রহমান বাবলু, পাবনা জেলা বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক একেএম আকতারুজ্জামান, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, পৌর যুবদলের সভাপতি মোস্তফা নূরে আলম শ্যামল, বিএনপি নেতা মাহবুবুল রহমান পলাশ, শামছুল আলম, শহীদুল ইসলাম অটল, রেজাউল করিম শাহীন ও আজিজুর রহমান শাহীন।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—আমিনুল ইসলাম (পলাতক), আজাদ হোসেন ওরফে খোকন, ইসমাইল হোসেন জুয়েল, আলাউদ্দিন বিশ্বাস, শামসুর রহমান শিমু, আনিসুর রহমান সেকম (পলাতক), আক্কেল আলী, মো. রবি (পলাতক), মো. এনাম, আবুল কাশেম হালট (পলাতক), কালা বাবু (পলাতক), মামুন (পলাতক),সেলিম, কল্লল, তুহিন, শাহ আলম লিটন, আব্দুল্লাহ আল মামুন রিপন, লাইজু (পলাতক), আব্দুল জব্বার, পলাশ, হাকিম উদ্দিন টেনু, আলমগীর, আবুল কালাম (পলাতক) ও একেএম ফিরোজুল ইসলাম পায়েল।

১০ বছর করে সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নেফাউর রহমান রাজু, ঈশ্বরদী পৌরসভার কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, বিএনপি নেতা রন রিয়াজী (পলাতক), আজমল হোসেন ডাবলু, মুক্তার হোসেন, হাফিজুর রহমান ওরফে মুকুল, হুমায়ুন কবির দুলাল, তুহিন বিন সিদ্দিকী, ফজলুর রহমান, চাঁদ আলী (পলাতক), এনামুল কবির, জামরুল (পলাতক) ও বরকত।

রায় শোনার জন্য আদালত প্রাঙ্গণে উৎসুক জনতার ভিড়মামলায় সরকারপক্ষের আইনজীবী আকতারুজ্জামান মুক্তা বলেন, ‘১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাওয়ার পথে ঈশ্বরদী স্টেশনে যাত্রাবিরতি করেন। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা ওই ট্রেনে ও তার কামরায় গুলিবর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ওই সময়ে জিআরপি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাত জনের নামে মামলা দায়ের করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পুলিশ মামলাটি পুনঃতদন্ত করে। তদন্ত শেষে নতুন করে ঈশ্বরদী বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনকে মামলায় আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পরের বছর পুলিশ কোনও সাক্ষী না পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে। কিন্তু আদালত ওই রিপোর্ট গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করে। পরে সিআইডি তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলা নম্বর এসটি ৪২/৯৭।’

জানা যায়, এই মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে এ বছরের ৩০ জুন বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের ৩০ জন নেতাকর্মী আদালতে হাজির হলে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। মামলার আরও দুই আসামি ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মোখলেছুর রহমান ওরফে বাবলু এবং বিএনপি নেতা আব্দুল হাকিম টেনু আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি