বুধবার ৫ অগাস্ট ২০২০



নতুন মহাসচিবেও আস্থা নেই জাপায়


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
27.07.2020

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় পার্টিতে (জাপা) নতুন করে ফিরে আসা মহাসচিব জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলুর প্রতি আস্থা নেই নেতাকর্মীর। নিজস্ব কর্মী সমর্থকও নেই এ নেতার। দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার পর পার্টি অফিস বা কোথাও ছিলো না কোনো মিছিল‌। দেখা যায়নি নতুন মহাসচিবকে অভিনন্দন জানানোর জন্য নূন্যতম জনসমাগম। ফলে দলের উদারপন্থী নেতারা হতাশা ব্যক্ত করেছেন। পার্টির সাবেক মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাকে সরানোর জন্যই আপাতত বাবলুকে পদায়ন করা হয়েছে এমনটাই জানিয়েছেন জাপার এক জ্যেষ্ঠ নেতা।

তিনি বলেন, জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু নিজেই চলতে পারেন না। বয়সের ভারে মাঝে মধ্যেই অসুস্থ থাকেন। পার্টি চালাবেন কীভাবে? তাছাড়া এই বয়সে পার্টির উন্নয়নে দৌড়ঝাঁপ করা যে কারো জন্য কঠিন।

এ নেতা আরো বলেন, জাতীয় পার্টির পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের আগেই মহাসচিবকে সরিয়ে দিলেন জি এম কাদের। এতো কম সময়ে মহাসচিব পরিবর্তনের ঘটনায় জাতীয় পার্টির মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনায় মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বিরোধী গ্রুপের লোকজন খুবই খুশি। তবে বিকল্প হিসেবে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে পছন্দ করাটাও সঠিক সিদ্ধান্ত মনে করছেন না তারা। এভাবে মহাসচিব পরিবর্তন মোটেই পার্টির জন্য সুখকর হয়নি।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যখন তখন সিদ্ধান্ত নিতেন, উদারপন্থীরা আশা করেছিলেন জি এম কাদের পার্টির নেতৃত্বে আসায় এ ধারা বিলুপ্ত হবে। কিন্তু জি এম কাদেরকে তারা এরশাদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে রাখছেন। কারণ গত সপ্তাহেও মহাসচিবকে সঙ্গে নিয়ে টানা কর্মসূচি পালন করে হঠাৎ তাকে সরিয়ে দিয়েছেন তিনি।

জাতীয় পার্টির কাউন্সিল হয় ২৮ ডিসেম্বর। সেই কাউন্সিলে চেয়ারম্যান ও মহাসচিব পদে ঘোষণা আসে। এরপর দফায় দফায় বিভিন্ন পদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ঘোষিত এসব তালিকা আবার রদবদল করেও প্রকাশ করা হয়। প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ পূর্ণাঙ্গ কমিটির এখনো বেশ কিছু পদ শূন্য রয়েছে। কাউন্সিলের কিছুদিন পরই করোনার কারণে স্থবির হয়ে যায় রাজনীতি। ঠিক তেমন সময়ে মহাসচিবকে সরিয়ে দেয়ায় নানা আলোচনার জন্ম হয়েছে পার্টিতে।

কেউ কেউ মনে করছেন চেয়ারম্যানের সঙ্গে মহাসচিবের অনেকদিন ধরেই মতের মিল হচ্ছিল না। পার্টির কোনো কিছুতেই দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতেন না মহাসচিব। আবার কেউ কেউ মনে করছেন একটি বিশেষ মহলকে খুশি করতে জি এম কাদের মহাসচিবকে সরিয়ে দিয়েছেন। আরেক পক্ষ মনে করে রংপুরে জাতীয় পার্টির দু-তিনটি ধারা বিদ্যমান। এরমধ্যে রসিক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা হচ্ছেন জি এম কাদেরের আস্থাভাজন। এই গ্রুপও রাঙ্গার উপর নাখোশ। সম্প্রতি জাপায় ফেরা জি এম কাদেরের ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ারের সঙ্গে রাঙ্গার ছিলো দা-কুমড়া সম্পর্ক।

কারণ যাই হোক খুশি-নাখোশ দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই রয়েছে দলটিতে। তবে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে বিকল্প এবং যোগ্য বলে মানতে চাইছেন না অনেকেই। তারা মনে করছেন এর আগে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু মহাসচিব ছিলেন। তার সাংগঠনিক দক্ষতা দলের সবার জানা আছে। একমাত্র এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে দিলে পার্টি চাঙা হতো। এখন যা হয়েছে এতে পার্টির খুব একটা লাভ হবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শীর্ষ নেতা বলেন, জি এম কাদেরের জন্য এই পরিবর্তন সুখকর হলো না। নেতাকর্মীরা তার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে। অনেকে ভেবেছিলেন জিএম কাদের ভেবেচিন্তে সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। যা তিনি বিভিন্ন সভা সমাবেশে জানান দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, আমি হঠাৎ করে কাউকে নেতা বানানো বা কাউকে সরিয়ে দেয়া পছন্দ করি না। এতে পার্টির ক্ষতি হয়। অতীতে যা হয়েছে, এখন তার পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত হচ্ছে না।

বিদায়ী মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, আমি কিছুই জানি না। কেনো তিনি আমাকে মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে দিলেন।

এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ার জন্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে হঠাৎ ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর তৎকালীন মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে মহাসচিব পদে আনা হয় রাঙ্গাকে। তৎকালীন পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এই আদেশ দিয়েছিলেন। এরপর ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর কাউন্সিলে পুনরায় মহাসচিব নির্বাচিত হন মোটরমালিক সমিতির নেতা রাঙ্গা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি