বুধবার ১২ অগাস্ট ২০২০



ভাঙন ধরেছে বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্কে


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
28.07.2020

নিউজ ডেস্ক: অনেক বছর ধরে বিএনপির কাঁধে ভর করে পথ চললেও বিএনপির সঙ্গে শেষ পর্যন্ত দূরত্ব তৈরি হয়েছে জামায়াতের। এ দূরত্ব এখন অনেকটাই দৃশ্যমান। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে বিএনপি গুরুত্ব দেয়ায় তা আজও মানতে পারেনি জামায়াত। এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে দলটির নানা কর্মকাণ্ডে। ফলে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্কের ফাটল আরো বাড়ছে বলে দাবি করেন ঐক্যফ্রন্টের একজন শীর্ষ নেতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই নেতা বলেন, ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১৫ পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক ছিল সবচেয়ে মধুর। জামায়াতকে রাজনীতিতে শক্ত জায়গা করে দেয়ার জন্য বিএনপিকে কম কথা শুনতে হয়নি। বিশেষ করে ২০০১ সালে জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দেয়ায় বিএনপিকে দেশবাসীর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

তবে দৃশ্যপট পালটাতে থাকে ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর। যখন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের একের পর এক ফাঁসি হয়, তখন বিএনপিকে পাশে পায়নি জামায়াত। এমনকি জামায়াতের ওই সব নেতার পক্ষে কোনো প্রতিক্রিয়াও দেখায়নি বিএনপি। এতে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয় জামায়াত।

এরপর থেকে বিএনপি সরকারবিরোধী যত আন্দোলন-সংগ্রামের ডাক দিয়েছে, সেগুলোতে জামায়াত নৈতিক সমর্থন দিয়েই দায় এড়িয়েছে। কৌশলগত কারণে জোট থেকে বিচ্ছিন্ন না হলেও আগের সেই সখ্যতা আর দেখা যায়নি। এমনকি ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতাকেও দেখা যায়নি।

বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে আলাদা একটি জোটে বিএনপি শরিক হওয়ার পর। বিএনপি কার্যত ২০ দলকে পেছনে ফেলে নতুন জোটের নেতাদের নিয়ে কাজ করে। ড. কামালের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের কেউ জামায়াতকে মেনে নিতে পারেনি।

এমনকি জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ না করায় বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দল বিকল্পধারা বিএনপির সঙ্গে জোটে আসেনি। ড. কামাল, কাদের সিদ্দিকী, আ স ম রব, মাহমুদুর রহমান মান্না শেষ পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে জোট করলেও দলটির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক মেনে নেননি।

এসব বাস্তবতা সত্ত্বেও বিএনপি সুকৌশলে চেষ্টা করেছে ২০ দলকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সমান্তরালে হাঁটতে। এক্ষেত্রে বিএনপিকে হোঁচট খেতে হয়েছে প্রতি পদে। শেষ পর্যন্ত ২০ দলকে আড়ালে রেখে ঐক্যফ্রন্টকেই সামনে দিয়ে নির্বাচন করে বিএনপি।

২০ দল ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা আজ পর্যন্ত একসঙ্গে বসেনি। সিদ্ধান্ত নিতে দুই জোটের সঙ্গে আলাদাভাবে বসতে হয়েছে বিএনপিকে। এ ক্ষেত্রেও বাধা জামায়াত। এসব নিয়ে দুই জোটের শরিকদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে শোচনীয় ভরাডুবি হয় বিএনপি জোটের। দুই জোটের ২৭ দল মিলে পায় মাত্র সাতটি আসন।

এরপরই জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। বিএনপিতে জামায়াতবিরোধী বলয় হিসেবে যারা পরিচিত, তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত দলটির সঙ্গ ছাড়তে চাপ সৃষ্টি করে শীর্ষ নেতাদের।

এদিকে জামায়াতও বঞ্চনা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে থাকবে কেন- তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। দলটির প্রবীণ নেতাদের একটি বড় অংশের যুক্তি হচ্ছে- শুধু বিএনপিকে রাজপথে ও ভোটের মাঠে শক্তি জোগানোর কারণে তাদের (জামায়াত) রাজনীতির করুণ পরিণতি হয়েছে।

তাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের অন্য শরিকদের প্রতিনিধিরা বিএনপির ডাকা মিটিংয়ে থাকলে জামায়াতের কেউ আসে না।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি