বুধবার ৫ অগাস্ট ২০২০
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » ‘বন বিভাগের ভূমি দখল করার ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে অপপ্রচারে বৌদ্ধ ভিক্ষু’



‘বন বিভাগের ভূমি দখল করার ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে অপপ্রচারে বৌদ্ধ ভিক্ষু’


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
29.07.2020

নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের খুরুশিয়া রেঞ্জের সংরক্ষিত বনে ৫০ একর জায়গা দখল করার ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে বৌদ্ধ ভিক্ষু শরণংকর থের ও তার অনুসারীরা দেশ-বিদেশে অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক শাহ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়।

এতে উল্লেখ করা হয়, “চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের প্রশাসনিক অধিক্ষেত্রাধীন খুরুশিয়া রেঞ্জের খুরুশিয়া বিট এবং সুখবিলাস বিটের ফলাহারিয়া মৌজায় ১৯৩১ সনে ঘোষিত সংরক্ষিত বনভূমি যার আর, এস দাগ নং-৬৫৮,৬৫৯,৬০৭ এবং বি,এস দাগ নং-৬০৫,৬৪৬,৬৪৭। জনৈক ভদন্ত শরণংকর থের, পিতা-দিলীপ বড়ুয়া, উপজেলা হাটহাজারী, জেলা-চট্টগ্রাম ধর্মীয় ধ্যানের নামে জ্ঞানশরণ মহাঅরণ্য বৌদ্ধ বিহার নাম দিয়ে সরকারি আনুমানিক ৫০ একর সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল করে ছোট-বড় মূর্তি, তোরণ, পুকুর, টিনের ঘরসহ বিবিধ স্থাপনা আইন বহির্ভূতভাবে নির্মাণ করেন।”

এছাড়া আরও ৫০ একর সংরক্ষিত বনভূমি দখল করার উদ্যোগ শরণংকর থের নিয়েছেন জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, “উক্ত জবরদখলকৃত সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখলমুক্ত করার জন্য ভদন্ত শরণংকর থের-কে নোটিশ প্রদানসহ অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে বন কর্মচারী ও পুলিশকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজসহ রোপণকৃত ৩ হাজার বিবিধ প্রজাতির চারা কর্তন, প্রস্তাবিত বাগানের ৩টি সাইনবোর্ড ধ্বংস, ২০১৯-২০ আর্থিক সনে বাগান সৃজনের নিমিত্তে উত্তোলিত ৭৬ হাজার ৬০০টি বিবিধ প্রজাতির চারা কর্তন ও ২০টি খুঁটি পুড়িয়ে ফেলে। এতে সরকারের ১১ লক্ষ তিন হাজার টাকার ক্ষতি হয়।”

এ প্রেক্ষিতে জবরদখলকারী ভদন্ত শরণংকর থের’র বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ কর্তৃক ৩টি পুলিশি মামলা এবং বন আইনের আওতায় ৩টি পি.ও.আর বন মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বন বিভাগ বলছে, “উক্ত জবরদখলকারী ও তার অনুসারীরা হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার মানসে বিভিন্ন সময়ে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে দেশ-বিদেশে অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে ভদন্ত শরণংকর থের বন বিভাগ কর্তৃক বারংবার নিষেধ করার পরও বন বিভাগের জায়গা দখল করে নতুন স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রাখলে বন বিভাগ বাধা প্রদান করে তখন ভিক্ষু ও তার অনুসারীগণ বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং পুলিশকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেয়।”

“মূলত ভদন্ত শরণংকর থের ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্য এসব অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এই অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের জন্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ হতে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” বিজ্ঞপ্তিতে যোগ করা হয়।

এর আগে গত ৯ জুলাই রাতে শরণংকর থের নিজের ফেইসবুকে ১৪ মিনিটের একটি ভিডিওবার্তা পোস্ট দেন। সেই ভিডিওবার্তায় চলতে-ফিরতে স্থানীয় লোকজনের হাতে তার সহকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন মর্মে অভিযোগের পাশাপাশি তিনি সাম্প্রদায়িক অভিযোগের তীর ছোঁড়েন খোদ রাষ্ট্রযন্ত্র ও সরকারের বিরুদ্ধে।

এই অভিযোগের সূত্র ধরে ১০ জুলাই সকালে আমাদের একটি প্রতিনিধি দল রাঙ্গুনিয়ার দুর্গম এলাকা পদুয়ার ফলাহারিয়ায় অবস্থিত জ্ঞানশরণ মহারণ্য বিহারে যান এবং বিহার-অধ্যক্ষ শরণংকর থের’র সাথে কথা বলেন। কথা বলেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীসহ স্থানীয় নানা ধর্মের লোকজন এবং ভুক্তভোগীদের সাথে।

নিয়ম-কানুনের কোনও তোয়াক্কা না করে, সরকারি মামলা, পুলিশ, প্রশাসন সবকিছুকে থোরাই কেয়ার করে একের পর এক বনভূমি দখল এবং সেখানে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে অনুসন্ধানে।

উল্লেখ্য, শরণংকর থের কর্তৃক দখলকৃত বন বিভাগের সরকারি জায়গায় কর্তৃপক্ষ অনেকবার সাইনবোর্ড লাগালেও শরণংকরের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা এসব সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলে দিত বলে অভিযোগ রয়েছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি