বুধবার ৫ অগাস্ট ২০২০



তারেক রহমানের যত কেলেঙ্কারি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
31.07.2020

নিউজ ডেস্ক: দেশে সীমাহীন দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়ে দণ্ড মাথায় নিয়ে লন্ডনে ফেরারি আসামি হয়ে ঘুরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন তার দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আজও মানুষ ভোলেনি। সন্ত্রাস আর দুর্নীতির আস্তানা হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন হাওয়া ভবন। এসব কারণে ক্ষমতা হারানোর ১৫ বছর পরেও বিএনপির ওপর আস্থা রাখতে পারছে না মানুষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির সিনিয়র ও দায়িত্বশীল একজন নেতা বলেন, জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পর টেলিভিশনে ভাঙা স্যুটকেস ও ছেঁড়া গেঞ্জি দেখানো হয়। তাকে সততার মূর্ত প্রতীক বানানো হলো। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই দেখা গেল, জিয়া পরিবার হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক। লঞ্চ, টেক্সটাইল মিলস, বিদেশে বাড়ি, ব্যাংক-ব্যালান্স- এগুলো হঠাৎ কোথা থেকে এলো?

আদালতে খালেদা জিয়া ও তার দুই ছেলের দুর্নীতি প্রমাণ হওয়ায় সাজা হয়েছে। তারা শুধু দুর্নীতির মাধ্যমে টাকার মালিক হয়েই ক্ষান্ত হননি, সেই টাকা বিদেশে পাচারও করেছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার করে যেসব কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন তার মধ্যে রয়েছে-

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২২ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়। ওই হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তি থেকে তারেকের জড়িত থাকার প্রমাণ বেরিয়ে এসেছে। মুফতি হান্নান জানায় তারেকের নির্দেশেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। বিএনপি সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর বাসা থেকে নেয়া ১৫টি গ্রেনেড দিয়ে ওই দিন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ঢাকায় জনসভায় হামলা চালানো হয়। ওই হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জঙ্গি নেতাদের সঙ্গে হাওয়া ভবনে একাধিকবার বৈঠক হয়।

দশ ট্রাক অস্ত্র চালান: ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল চাঞ্চল্যকর ভাবে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে দশ ট্রাক অস্ত্রের চালান। তারেকের নির্দেশ ও পরিকল্পনায় এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী উলফার জন্য আনা হয়েছিল।

দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা: ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জঙ্গি সংগঠন জেএমবি সারাদেশে একযোগে ৬৩ জেলার ৪৩৪ স্থানে বোমা বিম্ফোরণ ঘটায়। ওইদিনের ঘটনায় দু’জন নিহত এবং অর্ধশত আহত হয়। পরবর্তী সময়ে জেএমবির আরো কয়েকটি বোমা হামলায় বিচারক ও আইনজীবীসহ ৩০ জন নিহত হয়। জেএমবির এসব হামলা মূলত তারেক ও বিএনপি সরকারের প্রত্যক্ষ মদদেই হয়েছিল।

বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি: শুধু বিদ্যুৎ সেক্টর থেকেই বিশ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছিলেন তারেক। বিদ্যুতের নতুন সঞ্চালন লাইন স্থাপনের নামে শুধু খুঁটি পুঁতে এই টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন।

বসুন্ধরা গ্রুপের প্রকৌশলী সাব্বির হত্যা: তারেকের পরোক্ষ মদদে ২০০৬ সালের ৪ জুলাই বসুন্ধরা গ্রুপের প্রকৌশলী সাব্বিরকে খুন করা হয়। পরবর্তীত সময়ে সাব্বির হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের বাঁচাতে এবং এই হত্যা মামলা ধামাচাপা দিতে ২১ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন তারেক ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর।

ঘুষের টাকা সিঙ্গাপুরে পাচার: টঙ্গীর বিসিক শিল্প এলাকায় একটি ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের নামে ‘নির্মাণ কনস্ট্রাকশন’ কোম্পানির কাছ থেকে তারেক রহমান ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুন ২০০৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০০৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা নিয়ে তা সিঙ্গাপুরে পাচার করেন।

সৌদিতে অর্থ পাচার: সৌদি আরবে ১২০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ পাচার করেছেন তারেক জিয়া। এই অর্থ থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ জঙ্গি ও মৌলবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যবহৃত হতো।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি: এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এর নামে বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন তারেক ও তার মা খালেদা জিয়া।

দুবাই, মালয়েশিয়া ও বেলজিয়ামে অর্থ পাচার: বেলজিয়ামে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার, মালয়েশিয়ায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার এবং দুবাইয়ে কয়েক মিলিয়ন ডলার অর্থ পাচার করেন। এই অর্থ দিয়ে দুবাইয়ে বিলাসবহুল বাড়ি কিনেছিলেন তারেক। তার বাড়ির ঠিকানা :স্প্রিং ১৪, ভিলা :১২, এমিরেটস হিলস, দুবাই।

নাইকো দুর্নীতি: কানাডার কোম্পানি নাইকোকে অনৈতিকভাবে সুবিধা দেয়ার বিনিময়ে বিপুল অংকের টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন তারেক। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দেওয়ায় রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি