রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Slider » ঐক্যফ্রন্টকে আপদ ভাবছে বিএনপি, দ্রুত তালাকের তাগিদ নেতাদের!



ঐক্যফ্রন্টকে আপদ ভাবছে বিএনপি, দ্রুত তালাকের তাগিদ নেতাদের!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
29.01.2019

নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে রাজনীতিতে সংস্কারাভিজান চালিয়ে দেশ শাসনের লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে ফাটল। এদিকে জোট গঠনের মাত্র চার মাসের মাথায় সিদ্ধান্তহীনতা ও মতবিরোধের কারণে জোট ভেঙ্গে যাওয়াটা মুহূর্তের ব্যাপার বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতির সঙ্গে কুটিল ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির আদর্শিক সংঘর্ষের কারণে ঐক্যফ্রন্টে ক্রমেই অতীতের অন্যান্য রাজনৈতিক জোটগুলোর মতো বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।

এই বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক এ আরাফাত বলেন, ২০ দলের নেতারা আগে থেকেই ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের পছন্দ করছিলেন না। এখন বিএনপিও তাদের সন্দেহের চোখে দেখছে। আমার ধারণা, নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং মোকাব্বির খান সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে চাওয়ার কথা বলার পর বিরক্ত হয়েছে বিএনপি। যদিও ভোটারদের সম্মান রাখতে সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা। এ নিয়ে জোটে শুরু হয়েছে কানাঘুষা। দুই নেতার শপথ নেয়ার কারণে বিএনপির ভেতরের ভাঙন নেতা-কর্মীদের বক্তব্যের মাধ্যমেই কিন্তু স্পষ্ট হয়েছে। যে জোট ছোট ছোট সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে, সেই জোটের পক্ষে গণমুখী রাজনীতি করা সম্ভব নয়। এই জোট দীর্ঘপথ চলতে সক্ষম হবে না। আদর্শের রাজনীতির কাছে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বেমানান। ড. কামালরা হয়তো এখন তা অনুধাবন করতে পারছেন।

দ্বন্দ্বের বিষয়টিকে সাময়িক দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, শুরু থেকেই ড. কামালদের সঙ্গে আমাদের মতের মিল ছিল না। আমরা মাঠের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। গোলটেবিল বৈঠকের রাজনীতি মেয়াদ উত্তীর্ণদের জন্য পারফেক্ট। বিএনপির রাজনীতি আওয়ামী লীগের পরিত্যক্তরা নিয়ন্ত্রণ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। আমরা অন্তত এটি হতে দেব না। ভোটের আগে কামাল হোসেনের ভূমিকা ও নানা বক্তব্য নিয়ে আপত্তি ছিল চরমে। কিন্তু জোটের স্বার্থে এ নিয়ে কথা বলিনি আমরা। ড. কামালরা যখন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন বাদ দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলো তখনই তাদের উদ্দেশ্য আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। অনেক আশা নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট করা হলো। কামাল হোসেন যখন বিএনপিকে জামায়াত ছাড়তে শর্ত বেঁধে দেন, তখনই আমার মনে হয়েছে এখানে গণ্ডগোল আছে। জামায়াত ছাড়লে বিএনপি যে দুর্বল হয়ে যাবে সেটি বুঝেই আমাদের ঘাড়ে এমন শর্ত চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে আমি বিএনপির তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, বিএনপি অন্তত জামায়াতকে ছাড়বে না।

এ বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের মধ্যস্থতাকারী গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, শুনতে খারাপ লাগলেও বাস্তবতা হলো- বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য দলগুলোর মত মিলছে না। এখানে বোঝারও ভুল রয়েছে। বিএনপি ভাবছে তাদের গৃহপালিত দলে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি কিন্তু তা নয়। বরং বিএনপি-জামায়াতকে সঠিক পথে আনার জন্যই ঐক্যফ্রন্টের অন্যান্য দলগুলো পথনির্দেশকের কাজ করছে। বিপদে পড়লে বাঘকেও ঘাস খেতে হয়, সেটি বিএনপির নেতারা ভুলে গেছেন সম্ভবত। ড. কামাল হোসেনকে ঐক্যফ্রন্টের নেতা বানানো ভুল ছিল বলে মনে করেন বিএনপির নেতারা। এটিও তাদের বড় ভুল। ভুলের সাগরে ভাসছে বিএনপি। এই ভুলের কারণে আজকে জনগণের সমর্থন হারিয়েছে বিএনপি। বিপদের দিনের আশ্রয়দাতাকেই গালমন্দ করছে বিএনপি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

বিএনপির আগের জোট ২০ দলের শরিক এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম অনেকটাই ক্ষুব্ধ ঐক্যফ্রন্টের উপর। তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের কিছু নেতার আচরণে আমরা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। বিএনপির কাঁধে ভর করে গণফোরাম সব থেকে বেশি লাভবান হয়েছে। এদের যত দ্রুত বিদায় করা যাবে, ততই বিএনপির জন্য ভালো।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি