সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১



ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থীর সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
29.01.2019

নিউজ ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে প্রার্থীর সর্বোচ্চ বয়স ৩০ বছর নির্ধারণ করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। এজন্য তিন দশক পর নির্বাচনের জন্য ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুসারে ভোটগ্রহণ হবে হলগুলোতে; আর প্রার্থী ও ভোটার হতে পারবেন ৩০ বছর বয়সের মধ্যে থাকা স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের পাশাপাশি এমফিলের শিক্ষার্থীরাও।

মঙ্গলবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সভায় সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুমোদিত হয়। সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মলন করে এ কথা জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এনামউজ্জামান।

তিনি বলেন, যেসব শিক্ষার্থী প্রথমবর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং এমফিল পর্যায়ে অধ্যয়নরত আছেন এবং যারা বিভিন্ন আবাসিক হলে আবাসিক অনাবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সংযুক্ত রয়েছেন এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখে যাদের বয়স কোনোক্রমেই ৩০ এর অধিক হবে না কেবল তারাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল ছাত্র সংসদের ভোটার হতে পারবেন।

ভোটারই প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রাখে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা সান্ধ্যকালীন বিভিন্ন কোর্স, প্রোগ্রাম, প্রফেশনাল এক্সিকিউটিভ, স্পেশাল মাস্টার্স, ডিপ্লোমা, এমএড, পিএইচডি, ডিবিএ, ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স, সার্টিফিকেট কোর্স অথবা এ ধরনের অন্যান্য কোর্সে অধ্যয়নরত আছেন তারা ভোটার হতে পারবেন না।

তবে ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে শিক্ষার্থীরা যে কোর্সেই অধ্যয়নরত থাকেন না কেন তারা ভোটার হতে পারবেন না। সরকারি-বেসরকারি অথবা দেশে বা বিদেশে যেকোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো শিক্ষার্থী ভোটার হতে পারবেন না। অধিভুক্ত ও উপাদানকল্প প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী ভোটার হতে পারবেন না।

ভোটকেন্দ্র নিয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এনামউজ্জামান বলেন, গঠনতন্ত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আবাসিক হলে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের সুপারিশ, প্রস্তাব এবং সময়ের চাহিদা বিবেচনা করে কয়েকটি সম্পাদক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

ডাকসুর সভাপতির ক্ষমতার ভারসাম্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রস্তাবনার বিষয়টিও সিন্ডিকেট বিবেচনায় নিয়েছে। সিন্ডিকেটের কার্যাবলী অনুমোদন হওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

নির্বাচনের আচরণ বিধি
লিফলেট বা হ্যান্ডবিলে শুধু সাদাকালো ছবি ব্যবহার করা যাবে, হল সমূহে সিসিটিভি ব্যবস্থা আছে, প্রয়োজনবোধে হল প্রাধ্যক্ষ আরো সিসিটিভির ব্যবস্থা করবেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ মোবাইল নেটওয়ার্ক নিরিবচ্ছিন্ন রাখা হবে, পরিচালনার সময় সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত রাখা হয়েছে, সভা-সমাবেশ ও অডিটোরিয়ামে মাইকের সাহায্যে প্রচারণা চালানো যাবে, কোনো প্রকার স্থাপনা, যানবাহন ও দেয়ালে লিখন বা লিফলেট-হ্যান্ডবিল না লাগানোর বিষয়টি সংযোজিত হয়েছে, সভা-সমাবেশের অনুমতি গ্রহণের সময় ৪৮ ঘণ্টা পূর্বের পরিবর্তে ২৪ ঘণ্টা পূর্বে রাখা হয়েছে, গঠনমূলক সমালোচনার সুযোগ সবসময় আছে, ছাত্র সংগঠনগুলোর কোনো প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের ওপর হয়রানি করা হবে না, ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে সিসিটিভি বসানো আছে প্রয়োজনে আরো বসানো হবে, রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক অনুমোদিত ব্যক্তিরাই ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন।

নির্বাচনের তারিখ
পদাধিকার বলে ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান নির্বাচনের জন্য আগামী ১১ মার্চ ইতোমধ্যে দিন ঠিক করেছেন।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী ১১ মার্চ সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলবে।

সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন হয়েছিলতিন দশক আগে; ১৯৯০ সালের পর আর নির্বাচন হয়নি।

ডাকসুসহ বিভিন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় দেশে রাজনৈতিক নেতৃত্বের যথাযথ বিকাশ হচ্ছে না বলে রাজনীতিবিদরা হতাশা প্রকাশ করে আসছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তনে গিয়ে ডাকসু নির্বাচন আয়োজন করতে বলেছিলেন।

ডাকসু নির্বাচন চেয়ে আদালতে রিট আবেদন হয়েছিল, তাতে ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা আসে গত বছর হাই কোর্ট থেকে।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আবেদনে ওই আদেশ স্থগিত করেছিল আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আপিল বিভাগ গত ৬ জানুয়ারি সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিলে নির্বাচন আয়োজনের বাধা কাটে। এর ফলে আগামী ১৫ মার্চের মধ্যেই ডাকসু নির্বাচন করতে হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি