যেভাবে বদলে গেলেন সুলতান মনসুর

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে নির্বাচন করলেও বর্তামানে সুর পাল্টাচ্ছেন তিনি। কিন্তু কিভাবে বদলে গেলেন তিনি? এ নিয়ে নানা প্রকারের প্রশ্ন থাকলেও মূলত সুলতান মনসুর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরই বদলে গিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ঐক্যফ্রন্টের একজন প্রার্থী হিসেবে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচনে বিজয়ী হন। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে তার যোগাযোগের খবর পাওয়া যায়।

সর্বশেষ জানা গেছে, গত সপ্তাহে তিনি গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ ১৫ মিনিট একান্ত আলাপ হয়েছে। আলোচনার পরই সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বদলে যান। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলছেন, তিনি কখনো আওয়ামী লীগ ত্যাগ করেননি। তিনি এটাও দাবি করেছেন, ‘গণফোরাম বা বিএনপির সদস্য নন তিনি।’ তিনি এখনও আওয়ামী লীগেরই সদস্য আছেন।

এদিকে ৩০ জানুয়ারি গণফোরামের ৫ম জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি সভাতেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। গুঞ্জন রয়েছে, তিনি আওয়ামী লীগেও ফিরে যেতে পারেন। এ ব্যাপারে আইনগত বিভিন্ন দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেহেতু তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন, সেহেতু তিনি আবার নতুন করে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে পারবেন কিনা বা সেটা ‘ফ্লোর পসিব’ হবে কিনা সে বিষয়টির আইনগত বৈধতা যাচাই বাচাই করা হচ্ছে। তবে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন ঘনিষ্ঠ ছাত্রনেতা ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ডাকসুর ভিপি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। তিনি ১৯৬৭ সালের পরে প্রথম ছাত্রলীগের ডাকসুর ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০০১ সালে তিনি সংস্কারপন্থী হয়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরপরে তিনি আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় হয়ে পরেন। ২০০৮ সালে তাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এরপরে তিনি সরকারের একজন সমালোচক হয়ে উঠেন। কিন্তু নির্বাচনে বিজয়ের পর সুলতান মোহাম্মদ মনসুর সরকারের সঙ্গে নিজেই ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরই সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বদলে গেছেন।

বিভিন্ন সূত্র বলছে যে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরই সুলতান মোহাম্মদ মনসুর অত্যন্ত আপ্লুত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ব্যাবহারে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠদের তিনি বলেছেন, ‘কে কী বললো সেটা কোন বিষয় নয়। তিনি সংসদে যাবেন এটা নিশ্চিত। তবে কবে যাবেন কিংবা কিভাবে যাবেন তার আইনগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের ঘনিষ্ঠরা আরও বলেন, ‘তার সংসদে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। সংসদে যাওয়ার পর যেন কোন আইনগত জটিলতা না হয়। তার আগেই বিষয়গুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা হচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও দেখুন

কর্নেল ফারুক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনির মার্কাও ধানের শীষ!

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয় ১৫ আগস্ট ১৯৭৫। সেই নারকীয় হত্যাকাণ্ডকে দেশবিরোধী দল বিএনপি নাম দেয় “আগস্ট বিপ্লব” বলে। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য রাষ্ট্রের এমন কোনো খাত নেই যেখানে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী তথা বিএনপি-জামায়াতের লোকদের পদায়ন করা হয়নি। এমনকি জাতির পিতার খুনিকেও […]

বিস্তারিত
বিএনপি

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে ১৬ আগস্ট মিলাদ পড়াবে বিএনপি

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আগস্ট মাসে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিএনপি। জানা গেছে, আইনি প্রক্রিয়ায় নেত্রীর মুক্তি আদায়ে ব্যর্থ হওয়ায় আগস্ট মাসে ক্ষমতাসীন দলের আবেগকে পুঁজি করে বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে প্রয়াস চালাবে দলটি। সে লক্ষ্যে ১৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে […]

বিস্তারিত
১৫ আগস্ট ও খালেদা জিয়া

১৫ আগস্ট ও খালেদা জিয়ার জঘন্য জন্মদিন নাটক

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: খালেদা জিয়া। এই নামটিই বাংলাদেশে বারবার জন্ম দিয়েছে একের পর এক বিতর্কের। কখনো অতি স্বজনপ্রীয়তা কিংবা দুর্নীতি আবার কখনোবা চারিত্রিক ত্রুটি। তবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার দিনটিকে তথা জাতীয় শোক দিবসে (১৫ আগস্ট) জন্মদিন পালনের যে জঘন্য রীতি সে তৈরী করেছে তা […]

বিস্তারিত