এবার নওগাঁয় ৬ ঘণ্টা পরীক্ষা দিল ছয় শিক্ষার্থী

নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নপত্র ভুলে একই বিষয়ে চলতি মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় নওগাঁয় ছয় শিক্ষার্থীকে দুইবার পরীক্ষা দিতে হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর পর প্রথমে ওই শিক্ষার্থীদের ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলেও পরবর্তীতে ২০১৯ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। ঘটনায় কক্ষে দায়িত্বরত শারীরিক শিক্ষা বিষয় শিক্ষক জিয়াউর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। শনিবার নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে।

পরীক্ষা কেন্দ্র ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৯৯৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। সকাল ১০টা থেকে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা শুরু হয়। ওই কেন্দ্রে ২১০ নম্বর কক্ষে ‘নওগাঁ কেডি উচ্চ বিদ্যালয়’ ও শহরের ‘আরজি-নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়’ এর ৩০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে। প্রথমে পরীক্ষার্থীরা আধাঘণ্টা সময়ে বহু নির্বাচনী পরীক্ষা দেয়। এরপর পরীক্ষার্থীদের সৃজনশীল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়।

পরীক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর কক্ষে দায়িত্বে থাকা শিক্ষক জিয়াউর রহমানকে বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু ওই শিক্ষক কোনো গুরুত্ব দেননি। এতে ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্রেই নওগাঁ কেডি উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন ছাত্র নাফি, মুনতাসির ও মুদ্ধ এবং আরজি-নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন ছাত্রী নিশাদ তাবাসুম, সুমাইয়া ও মুফতিসহ ছয়জন পরীক্ষা দেয়। পরে পরীক্ষা শেষ হতে প্রায় ২৫ মিনিট বাকি থাকতে কেন্দ্রে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার উপজেলা তথ্য সেবা কর্মকর্তা তানিয়া খন্দকার ওই কক্ষে পরিদর্শনে যান। এসময় পরীক্ষার্থীরা বিষয়টি অবগত করে।

এরপর তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করে তাদের ২০১৯ সালের বাংলা প্রথম পত্রের সৃজনশীল প্রশ্নপত্র দিয়ে আবার পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করেন। পরে পরীক্ষার্থীরা বিকেল ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত একই বিষয়ে দুইবার পরীক্ষা দেয়।

বিড়ম্বনার শিকার পরীক্ষার্থী মুনতাসির, মুদ্ধ ও নিশাদ তাবাসুম জানায়, প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর প্রশ্নপত্রের রংটাও কিছুটা আলাদা ছিল। তাক্ষণিকভাবে কক্ষের দায়িত্বরত স্যারকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেননি। সিলেবাসের বাইরেও তিনটি প্রশ্ন ছিল। সৃজনশীল পাঁচটা প্রশ্ন লেখা শেষ হওয়ার পর এক ম্যাডাম কক্ষে আসলে আমরা বিষয়টি জানালে তিনি পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে লাগাতার পরীক্ষা দেয়ায় আমরা খুব একটা ভালো পরীক্ষা দিতে পারিনি।

উপজেলা তথ্য সেবা কর্মকর্তা তানিয়া খন্দকার বলেন, পরীক্ষার্থীরা প্রথমে প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর কিছুটা অমিল পেয়েছিল। বিষয়টি কক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষককে জানানো হলেও তিনি হয়তো তখন বুঝতে পারেননি। কিন্তু কক্ষ পরিদর্শনের সময় আমাকে পরীক্ষার্থী জানালে বুঝতে পারি সেটি ছিল ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্র। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক স্যারের সঙ্গে আলোচনা করা হলে পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করতে বলেন।

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান বলেন, পরবর্তীতে পুনরায় পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও দেখুন

সাক্কু

বিএনপি থেকে অব্যাহতি পেয়ে স্বস্তিতে মেয়র সাক্কু

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তৃতীয়বারের মত অংশ নেয়ার জন্য কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি নিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সদ্য বিদায়ী কুমিল্লা সিটির মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। কুসিক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘তফসিল অনুযায়ী মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। তাই বিএনপির […]

বিস্তারিত
জেএসএস

সেনাবাহিনীকে হটিয়ে পার্বত্যাঞ্চলকে জুম্মল্যান্ড বানাতে চায় সশস্ত্র উপজাতিরা

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দরবান খাগড়াছড়ি এই তিন এলাকায় জেএসএস (মূল), জেএসএস (সংস্কার), ইউপিডিএফ (মূল) ও ইউপিডিএফ (সংস্কার) সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ অনেকটা প্রকাশ্যেই চাঁদাবাজি করছে। হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, গাছের ফল, ক্ষেতের ফসল, জমি কেনা-বেচা, এমনকি ডিম-কলা বিক্রি করতে গেলেও চাঁদা দিতে হয় তাদের। ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কৃষক-শ্রমিক-মৎসজীবী, সড়কে […]

বিস্তারিত

খুলনায় মন্দিরের প্রতিমা ভেঙে ধরা পড়লো হিন্দু যুবক

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে একের পর অপতৎপরতা চালাচ্ছে একটি চক্র। যার ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা, রংপুর ও নওগাঁয় মন্দিরে হামলার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটায় তারা। এরপর নতুন করে খুলনায় ঘটিয়েছে এমন ঘটনা। জানা যায়, খুলনার ফুলতলা এম এম কলেজ সার্বজনীন পূজা মন্দিরে স্বরস্বতী প্রতিমার মাথা ভেঙে পালানোর সময় অনিক মন্ডল […]

বিস্তারিত