প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইবেন ড. কামাল!

নিউজ ডেস্ক: নিজের রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্তের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমা চাইতে একান্ত সাক্ষাতের চেষ্টা করছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। ৩ জানুয়ারি রাতে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বহস্তে লিখিত একটি চিঠি পাঠিয়ে ড. কামাল এই সাক্ষাতের অনুমতি চেয়েছেন বলে জানা গেছে।

সূত্র বলছে, ৩ জানুয়ারি গণফোরামের প্যাডে ড. কামালের স্বহস্তে লেখা ওই চিঠি নিয়ে গণভবনের সামনে হাজির হন দলটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু। চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের কাছে হস্তান্তরও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, প্রধানমন্ত্রী চা চক্রের মতো একটি সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করেছিলেন। তাতে ড. কামাল হোসেন অংশগ্রহণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক জোট ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কামাল সাহেব সেই চা চক্রে উপস্থিত হতে পারেননি। তাই বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ড. কামাল। গণফোরাম যেহেতু বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী একটি দল। তাই আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না।

মোস্তফা মহসিন মন্টু আরো বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সাথে পথ চলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও গণফোরাম যেকোনো রাজনৈতিক ভুলের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে কুণ্ঠাবোধ করবে না। গণফোরাম তথা কামাল হোসেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে। তিনি বঙ্গবন্ধুর মতো উদার রাজনৈতিক দর্শনে বিশ্বাস করেন।

জানা যায়, যে সকল রাজনৈতিক দল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল তাদেরকে নিয়ে ২ জানুয়ারি বিকেলে চা চক্রের আয়োজন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সেই চা চক্রে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বাম মোর্চাসহ বেশকিছু দল যোগ দেয়নি বলে গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে। তবে চা চক্রে যোগ না দিলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন কখনোই এই অনুষ্ঠানটিতে অনুপস্থিত থাকতে চাননি। শুধুমাত্র বিএনপির সাথে রাজনৈতিক জোট করার জন্য তিনি বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাড় না দিতে।

অবশ্য গণফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও গণফোরাম দুটি পৃথক সত্তা। গণফোরাম একটি নিজস্ব রাজনৈতিক দল এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত গণফোরাম এককভাবে নিতে পারে। গণফোরাম একক কর্মসূচিও দিতে পারে। কাজেই ড. কামাল হোসেন যদি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান এবং তাতে যদি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একমত নাও হয় তারপরও এই সিদ্ধান্ত গণফোরাম এককভাবে নিতে পারে। ফলে ড. কামাল হোসেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতের বিষয়ে স্বতন্ত্র। গণফোরাম আশা করে, এ বিষয়ে খুব শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও দেখুন

জাহেলিয়াতের যুগকেও হার মানায় বিএনপির শাসনামল

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের সাথে জোট বেধে ২০০১ সালের কারচুপির নির্বাচনে জয়ী হয় বিএনপি। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শ্রেষ্ঠ অর্জন ছিল দুর্নীতি এবং দুঃশাসন। জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি, দুঃশাসন, সীমাহীন লুটপাটে নিজের সন্তান তারেক রহমান ও মন্ত্রী-এমপিদের পৃষ্ঠপোষকতা করে তৎকালীন নিরক্ষর প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ-বিদেশি কুখ্যাতি অর্জন […]

বিস্তারিত

মির্জা ফখরুলের পারফর্মেন্সে চরম অসন্তুষ্ট বেগম জিয়া

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের ধীরে চলা নীতি, জামায়াত বিরোধিতার কারণে তার প্রতি চরম ক্ষুব্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিশেষ করে কোনো প্রকারের আন্দোলন না করে কেবল বক্তৃতায় নিজেকে আবদ্ধ রাখায় মির্জা ফখরুলের পারফর্মেন্সে চরম অসন্তুষ্ট বেগম জিয়া। গুঞ্জন উঠেছে, শিগগিরই তাকে ডেকে এনে মহাসচিবের […]

বিস্তারিত

যেভাবে বিএনপিকে মাটিতে মিশিয়ে দিলেন তারেক রহমান

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারণে বেহাল হয়ে পড়েছে বিএনপি। দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগে তারেক রহমান বছর দেড়েক কারাগারে থেকে ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে চলে আসেন এবং ১৪ বছর ধরে লন্ডনেই আছেন। জানা গেছে, দলের সিনিয়র নেতাদের প্রতি অসম্মান, অন্য দল ও প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য এবং […]

বিস্তারিত