অন্তর্কোন্দলে জনসভা থেকে সরে এলো বিএনপি

নিউজ ডেস্ক: দলীয় অন্তর্কোন্দলের জেরে আবারো ভেস্তে গেলো বিএনপির জনসভার পরিকল্পনা। জানা গেছে, বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস ও আব্দুস সালামের দ্বন্দ্বের জের ধরে জনসভার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে দলটি।

দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত বিএনপির কারান্তরীণ চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ দলীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে নির্বাচনের পরই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৪ জানুয়ারি রাতে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতাদের নিয়ে এক গোপন বৈঠকে বসেন দলটির মহাসচিব।

সূত্র বলছে, আকস্মিক এই বৈঠকে বিএনপির প্রভাবশালী দুই নেতা মির্জা আব্বাস ও আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা করার প্রসঙ্গ উঠে আসতেই বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম দলের অভ্যন্তরে মীর জাফর রয়েছে বলে মন্তব্য করে বসেন। তিনি মির্জা আব্বাসকে ইঙ্গিত করে বলেন, যতক্ষণ পুরান ঢাকার মীর জাফর দলের ভেতর থেকে গোপনে সরকারের সঙ্গে আঁতাত করা বন্ধ না করবে ততক্ষণ এসব সভা করে কোনো লাভ হবে না।

জানা যায়, আব্দুস সালামের এসব আক্রমণাত্মক বক্তব্যের একপর্যায়ে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মির্জা আব্বাস তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান। এসময় মির্জা আব্বাস গণমাধ্যমের কাছে বলেন, জরুরি এই বৈঠকে আব্দুস সালাম আমাকে উদ্দেশ্য করে যেসব উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন তাতে বৈঠকে বসার মতো পরিবেশ নেই।

এ বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত ঢাকা মহানগরীর এক নেতা বলেন, মির্জা আব্বাস ও আব্দুস সালামের দ্বন্দ্ব বহু পুরনো। নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে গিয়ে দু’জনই দলের অনেক ক্ষতি করেছেন। নির্বাচনের পর যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলনে নামার কথা সেখানে তারা একে অপরকে দোষারোপ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভার বিষয়টিকে গুরুত্বহীন করে ফেলেছেন।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির ঢাকা মহানগরীর নেতাদের কড়া সমালোচনা করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, মামলার রায়ে বেগম জিয়ার কারাগারে বন্দি রয়েছেন। জনসভা কেন্দ্রিক এই বৈঠকে তার মুক্তির বিষয়টি সবার আগে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত ছিলো। যেসব নেতা এখনও নিজেদের আধিপত্যের রাজনীতি করেন তারা দলকে তথা দলের নেতৃত্বকে ভালোবাসেন না।

উল্লেখ্য, অন্তর্কোন্দলে জনসভার বৈঠকটি পণ্ড হবার পর নতুন কর্মসূচি দেন রুহুল কবীর রিজভী। এতে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে প্রতিবাদ সমাবেশ ডাকা হয়েছে। এছাড়াও ৯ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও দেখুন

২১ আগস্ট: দেশকে নেতৃত্বশূন্য করার সেদিনের মিশনে

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার প্রাক্কালে ১৪ ডিসেম্বর যেভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল, ঠিক একই উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় চালানো হয়েছিল ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা। দেশে বিরোধী মতকে দমন ও নিশ্চিহ্ন করার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর এই হামলা […]

বিস্তারিত

‘শেখ হাসিনা বেঁচে গেছে আমাদের সর্বনাশ হচ্ছে’

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। তারেক জিয়ার পরিকল্পিত গ্রেনেড হামলা মঞ্চস্থ হয় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে। মূল পরিকল্পনা করেছিলেন তারেক জিয়া হাওয়া ভবনে বসে। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল একটাই- শেখ হাসিনাকে হত্যা করা এবং এই হত্যাকাণ্ডের পর এটি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে চালিয়ে দেওয়া। কিন্তু অলৌকিকভাবে বেঁচে […]

বিস্তারিত

জোট নেতাদের প্রশ্ন, নেতৃত্ব দেবে কে?

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: সরকারবিরোধী ‘বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট’ গড়তে এরই মধ্যে ছোট-বড় সমমনা ডান-বাম ও ইসলামী ২২টি দলের সঙ্গে প্রাথমিক সংলাপ শেষ করেছে বিএনপি। ‘গণতন্ত্র মঞ্চে’র শরিক পাঁচটি দলের সঙ্গেও সংলাপ করে দলটি। কিন্তু সবারই একই প্রশ্ন নেতৃত্ব দেবে কে? তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে চায় না কোনো জোট নেতা। […]

বিস্তারিত