বাংলাদেশের প্রশংসা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

নিউজ ডেস্ক: রাখাইন রাজ্যে সব সম্প্রদায়ের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারের ‘আন্তরিক সদিচ্ছা’ প্রত্যাশা করেছেন জনপ্রিয় হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। মঙ্গলবার কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি। ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে বদান্যতা দেখিয়েছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আর এটা মানবিকতার দৃশ্যমান নিদর্শন।’

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি তিন দিনের সফরে গত সোমবার ঢাকায় আসেন। সোমবারই তিনি কক্সবাজার চলে যান। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার অবস্থা দেখতেই জোলির বাংলাদেশ সফর। এ সমস্যা সমাধানে করণীয় নিয়েও কথা তিনি কথা বলেছেন মঙ্গলবার।

গতকালের মতো মঙ্গলবারও রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন জোলি। পরে কুতুপালংয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন। ইউএনএইচসিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জোলির বক্তব৵ তুলে ধরা হয়েছে।

জোলি বলেন, কয়েক মাসের মধ্যে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে চলে আসতে বাধ্য হয়। এখনো বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আসা অব্যাহত আছে।

জোলি বলেন, ‘আজ কক্সবাজারে যেখানে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, সেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয়শিবিরটি। এখানে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গার আশ্রয় হয়েছে।’ তিনি বলেন, সব শরণার্থীই দুর্দশাগ্রস্ত। তবে রোহিঙ্গারা শুধু গৃহহারা নয়, তারা দেশহারা।

বিভিন্ন মানবিক তৎপরতায় জোলি বলেন, রোহিঙ্গাদের যে দেশে জন্ম, সেই দেশের নাগরিকত্ব তারা পায়নি। এটি সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘন। তাদের রোহিঙ্গা নামে ডাকাও হয় না।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেন, দেশে ফেরার পূর্ণ অধিকার আছে রোহিঙ্গাদের। তবে তখনই তারা দেশে ফিরবে, যখন তারা মনে করবে সেখানে তাদের যথেষ্ট নিরাপত্তা আছে। আর ফিরে যাওয়ার পর তাদের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো হবে, সেই নিশ্চয়তাও পেতে হবে।

জোলি রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের পর তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘গতকাল এক নারীর সঙ্গে কথা হলো। তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মিয়ানমারে। তিনি আমাকে বললেন, “আমার নিরাপদ ব্যবস্থা না করে যদি ফেরত পাঠাতে চান, এর আগে আমাকে এখানেই মেরে ফেলুন।”’

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশের পাশে এসে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে আহ্বান জানান জোলি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও দেখুন

২১ আগস্ট: দেশকে নেতৃত্বশূন্য করার সেদিনের মিশনে

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার প্রাক্কালে ১৪ ডিসেম্বর যেভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল, ঠিক একই উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় চালানো হয়েছিল ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা। দেশে বিরোধী মতকে দমন ও নিশ্চিহ্ন করার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর এই হামলা […]

বিস্তারিত

‘শেখ হাসিনা বেঁচে গেছে আমাদের সর্বনাশ হচ্ছে’

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। তারেক জিয়ার পরিকল্পিত গ্রেনেড হামলা মঞ্চস্থ হয় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে। মূল পরিকল্পনা করেছিলেন তারেক জিয়া হাওয়া ভবনে বসে। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল একটাই- শেখ হাসিনাকে হত্যা করা এবং এই হত্যাকাণ্ডের পর এটি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে চালিয়ে দেওয়া। কিন্তু অলৌকিকভাবে বেঁচে […]

বিস্তারিত

জোট নেতাদের প্রশ্ন, নেতৃত্ব দেবে কে?

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: সরকারবিরোধী ‘বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট’ গড়তে এরই মধ্যে ছোট-বড় সমমনা ডান-বাম ও ইসলামী ২২টি দলের সঙ্গে প্রাথমিক সংলাপ শেষ করেছে বিএনপি। ‘গণতন্ত্র মঞ্চে’র শরিক পাঁচটি দলের সঙ্গেও সংলাপ করে দলটি। কিন্তু সবারই একই প্রশ্ন নেতৃত্ব দেবে কে? তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে চায় না কোনো জোট নেতা। […]

বিস্তারিত