ড. কামালকে ধুয়ে দিলেন সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান!

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণফোরামের প্রার্থী সিলেট-২ আসন থেকে জয়ী মোকাব্বির খান এবং মৌলভীবাজার-২ আসনের বিজয়ী প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পক্ষে থাকলেও গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেনের নিষেধাজ্ঞার কারণে শপথ গ্রহণ নিয়ে দ্বিধায় পরেছেন তারা।

এ অবস্থায় সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান বারবার ধর্ণা দিচ্ছেন দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কাছে। তারা বলছেন, আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। জনগণের জন্য কথা বলতে সংসদে যেতে চাই।

জানা গেছে, ৪ ফেব্রুয়ারি সকালে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খান হাজির হন ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে। সেখানে দেন-দরবারে ব্যর্থ হন তারা। একপর্যায়ে তারা উচ্চবাচ্য করেন। এমনকি বাক-বিতণ্ডায়ও লিপ্ত হন তারা। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের অন্যতম নেতা আ ও ম শফিক উল্লাহ।

তবে তিনি দাবি করেন, ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে আমি ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে ছিলাম। ওই সময় সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান এসেছিলেন। তবে তাদের ড. কামাল হোসেন কী বলেছেন- তা বলতে পারবো না। তিনি জানান, দলের একটি অংশ চায় তারা দুজন শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দিক। অন্যদিকে অপর একটি অংশ চায় তারা যাতে সংসদে না যান।

জানা গেছে, শপথের অনুমতি চেয়ে মোকাব্বির খান ড. কামাল হোসেনের কাছে একাধিকবার ধর্ণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যেকোন মূল্যে তিনি শপথ নিতে চান, দল থেকে অনুমতি দিলে বিষয়টি ভালো দেখায়। তবে কামাল হোসেন তাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দলীয় ফোরামের সিদ্ধান্তের বাইরে তিনি কিছু করতে পারবেন না।

এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আরামবাগে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ওই দুই সংসদ সদস্যের আচরণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের আচরণের খবরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

গণফোরামের এক নেতা জানান, সুলতান মনসুর এবং মোকাব্বির খান কয়েকদিন ধরেই ড. কামালের পেছনে লেগে আছেন। তবে ড. কামাল বারবার নিষেধ করে দেওয়ায় ওই দুই নেতা অসন্তুষ্ট হয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করেন। এতে তাদেরকে চেম্বার থেকে বের করে দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও দেখুন

২১ আগস্ট: দেশকে নেতৃত্বশূন্য করার সেদিনের মিশনে

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার প্রাক্কালে ১৪ ডিসেম্বর যেভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল, ঠিক একই উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় চালানো হয়েছিল ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা। দেশে বিরোধী মতকে দমন ও নিশ্চিহ্ন করার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর এই হামলা […]

বিস্তারিত

‘শেখ হাসিনা বেঁচে গেছে আমাদের সর্বনাশ হচ্ছে’

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। তারেক জিয়ার পরিকল্পিত গ্রেনেড হামলা মঞ্চস্থ হয় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে। মূল পরিকল্পনা করেছিলেন তারেক জিয়া হাওয়া ভবনে বসে। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল একটাই- শেখ হাসিনাকে হত্যা করা এবং এই হত্যাকাণ্ডের পর এটি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে চালিয়ে দেওয়া। কিন্তু অলৌকিকভাবে বেঁচে […]

বিস্তারিত

জোট নেতাদের প্রশ্ন, নেতৃত্ব দেবে কে?

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: সরকারবিরোধী ‘বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট’ গড়তে এরই মধ্যে ছোট-বড় সমমনা ডান-বাম ও ইসলামী ২২টি দলের সঙ্গে প্রাথমিক সংলাপ শেষ করেছে বিএনপি। ‘গণতন্ত্র মঞ্চে’র শরিক পাঁচটি দলের সঙ্গেও সংলাপ করে দলটি। কিন্তু সবারই একই প্রশ্ন নেতৃত্ব দেবে কে? তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে চায় না কোনো জোট নেতা। […]

বিস্তারিত