এবার বান্দরবান সীমান্তে ৪০ বৌদ্ধ শরণার্থীর অনুপ্রবেশ

নিউজ ডেস্ক: বান্দরবান সীমান্তে বৌদ্ধ শরণার্থীরাবান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী প্রাংসা সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ৪০ শরণার্থী অনুপ্রবেশের খবর পাওয়া গে‌ছে। বুধবার বিকা‌লে এ ঘটনা ঘ‌টে। এর আগে ১৬৩টি প‌রিবার বাংলা‌দেশ সীমা‌ন্তের চাইক্ষাং পাড়ায় অবস্থান নেয়।

নতুন ক‌রে এ ৪০ জনের প্র‌বে‌শের পর শরণার্থীর সংখ্যা দাড়ালো ২০৩ জনে। বর্তমা‌নে এসব শরণার্থীরা চাইক্ষ্যং পাড়ার কা‌ছে সীমান্ত এলাকায় খোলা জায়গায় ত্রিপল টেনে তাঁবুর মতো করে বসবাস করছে। রেমাক্রী প্রাংসা ইউপি চেয়ারম্যান জিরা বম এসব তথ্য নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান জানান, ‘আশপাশের পাড়াগুলো থেকে খাবার দিয়ে এলাকাবাসী সহায়তা করলেও তীব্র শীতের কারণে শিশু ও বয়স্করা চরম ভোগা‌ন্তি‌তে প‌ড়ে‌ছে।’

এদিকে সীমান্তে শরণার্থীদের পরিস্থিতি পর্য‌বেক্ষণ কর‌তে সেখানে সেনাবাহিনী ও বিজিবির সমন্বয়ে একটি পর্যক্ষেণ টিম পাঠা‌নো হ‌য়ে‌ছে। এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েকটি টহল দল সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করছে। বুধবার হেলিকপ্টারে করে এসব সদস্য‌দের রুমার রেমাক্রী প্রাংসা ইউ‌নিয়‌নের মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহেদুর রহমান জানান, ‘সীমান্ত এলাকায় শরণার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর টিম পাঠানো হয়েছে। শরণার্থীদের মনোভাব জানার পর সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

স্থানীয়ভা‌বে জানা গে‌ছে, গত শনিবার মিয়ানমারের চীন রাজ্য থেকে ১৬৩ জন বৌদ্ধ শরণার্থী পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নের চাইক্ষাং সীমান্তের শূন্যরেখায় (নোম্যান্স ল্যান্ড) অবস্থান নেয়। এরপর তারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। বুধবার আরও ৪০ জন সেখানে জড়ো হয়।

ডিসেম্বর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন ও চীন রাজ্যে সহিংসতার খবর পাওয়া যায়। এর পর থেকে আতঙ্কে খুমি, খেয়াং, বম ও রাখাইনসহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন সীমান্ত পথে বান্দরবান দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় বান্দরবান ও কক্সবাজার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী মুসলমান রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে নির্বিচারে গণহত্যা ও নির্যাতন চালানোর কারণে দেশটি থেকে কমপক্ষে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে দেশটি থেকে আরও চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘের সহযোগিতায় কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় তাদের জন্য শরণার্থী শিবির খোলা হয়েছে। তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। এরমধ্যেই মিয়ানমারে নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ায় বৌদ্ধ ও হিন্দুসহ বিভিন্ন জাতি ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর সদস্যরা নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। এজন্য সীমান্তে বাড়তি সর্তকতা নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও দেখুন

বিএনপি আমলে তারেক খাম্বার ব্যবসা করেছে, বিদ্যুৎ আসেনি: নানক

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, বিএনপি বিদ্যুৎ খাত ধ্বংস করে দিয়েছিলো। ৯৬ সালে শেখ হাসিনার সরকার ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছিলেন। বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে তারেক রহমান খাম্বার ব্যবসা করেছে, বিদ্যুৎ আসেনি। সেই বিদ্যুৎ ২ হাজার মেগাওয়াটে চলে এসেছিলো। আর শেখ হাসিনার […]

বিস্তারিত

বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমান জড়িত: হানিফ

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলো। জিয়া বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পুনর্বাসন করেছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী কর্নেল রশিদ বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছিলো, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তারা কিভাবে জড়িত ছিলো। তিনি বলেন, রশিদ বলেছিলো হত্যাকাণ্ডের আগে একাধিকবার তারা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বৈঠক […]

বিস্তারিত

১৫ আগস্টের খুনি চক্র এখনও সোচ্চার: শেখ তাপস

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin ১৫ আগস্টের খুনি চক্র এখনও সোচ্চার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ঢাদসিক) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। সম্প্রতি জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কদমতলী থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে তবারক বিতরণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস […]

বিস্তারিত