বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সীমান্ত হত্যাকাণ্ডগুলো সীমান্তে হচ্ছে না: বিজিবি মহাপরিচালক

নিউজ ডেস্ক: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম বলেছেন, সীমান্তে সব হত্যাকাণ্ড সীমান্তে হচ্ছে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হচ্ছে ভারতের অভ্যন্তরে ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার ভেতরে। এটা ‘সীমান্ত হত্যাকাণ্ড’ নয়।

রাজধানীর পিলখানায় বুধবার বিজিবি সদর দপ্তরে বিজিবির নতুন ডেটা সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিজিবি মহাপরিচালক এ কথা বলেন।

মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম বলেন, ‘দেখেন, মানুষের জীবন অতি মূল্যবান। সেটা আমাদের দেশি হোক বা অন্য দেশীয় হোক। আমরা বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিউম্যান রাইটসের প্রতি অত্যন্ত সচেতন। কোনো কিলিংই আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না, কোনো হত্যাকাণ্ডই আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না। কিন্তু আপনারা যখন বলেন, এটি সীমান্ত কিলিং, তার মানে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড একটা হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই হত্যাকাণ্ডগুলো সীমান্তে হচ্ছে না। এটা ভারতের অভ্যন্তরে ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার ভেতরে হচ্ছে। কিন্তু যেহেতু এরা বাংলাদেশি নাগরিক, আমাদের দেশে হয়তোবা পরিবার-পরিজন আছে, আমরা তখন চেষ্টা করি যখন খবর পাই, তাকে বাংলাদেশে নিয়ে এসে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা। এটা একটা মানবিক দিক থেকে আমরা করে থাকি। এখন সীমান্তের ১৫-২০ কিলোমিটার ভেতরে যে হত্যাকাণ্ড হয়, সেটিকে কি আমরা সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বলতে পারি? এটা একটা হত্যাকাণ্ড।’

বিজিবি মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘যদি সীমান্তের ১৫০ বা ২০০ গজের ভেতরে হয়…নো ম্যানস ল্যান্ডে হয়, তাহলে আমরা সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বলতে পারি। কেউ সীমান্ত পার হতে যাচ্ছে, তখন কোনো পক্ষই গুলি করেছে বা তাকে হত্যা করেছে, তখন আমরা তাকে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বলব।’ তিনি বলেন, ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যেটা হচ্ছে, সেটা ভারতের ১০ কিলোমিটারের ভেতরে হচ্ছে। ১০ কিলোমিটারের ভেতরে কেন হচ্ছে, সেটা আপনারা জানেন, অবগত আছেন।’

সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘সীমান্তে কিছু হলে তার দায়িত্ব আমরা নিচ্ছি, কিন্তু ভারতের ১০ কিলোমিটার ভেতরে যেটা হচ্ছে, সেটা পেটি ক্রাইমের অংশ হিসেবে হচ্ছে।’ তিনি জানান, সব হত্যাকাণ্ডের ঘটনাতেই বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে এবং দৃঢ় প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রত্যেকটি মানুষের জীবনই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই অবৈধ পারাপার বন্ধ করতে বিশেষ করে পশ্চিমের সীমান্তে কার্যক্রম জোরদার করেছি।’

বিজিবি মহাপরিচালক জানান, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ। বিজিবির ডিজিটাল কার্যক্রম চালানোর জন্য একটি ডেটা সেন্টার অপরিহার্য হয়ে গিয়েছিল। তাই এই ডেটা সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। এর কাজ ২০১৬ সালে শুরু হয়েছিল, এখন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিজিবির সব ধরনের কাজ ব্যবস্থাপনার জন্যই এই ডেটা সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া সীমান্ত ব্যাংকও এটি ব্যবহার করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও দেখুন

২১ আগস্ট: দেশকে নেতৃত্বশূন্য করার সেদিনের মিশনে

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার প্রাক্কালে ১৪ ডিসেম্বর যেভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল, ঠিক একই উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় চালানো হয়েছিল ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা। দেশে বিরোধী মতকে দমন ও নিশ্চিহ্ন করার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর এই হামলা […]

বিস্তারিত

‘শেখ হাসিনা বেঁচে গেছে আমাদের সর্বনাশ হচ্ছে’

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। তারেক জিয়ার পরিকল্পিত গ্রেনেড হামলা মঞ্চস্থ হয় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে। মূল পরিকল্পনা করেছিলেন তারেক জিয়া হাওয়া ভবনে বসে। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল একটাই- শেখ হাসিনাকে হত্যা করা এবং এই হত্যাকাণ্ডের পর এটি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে চালিয়ে দেওয়া। কিন্তু অলৌকিকভাবে বেঁচে […]

বিস্তারিত

জোট নেতাদের প্রশ্ন, নেতৃত্ব দেবে কে?

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: সরকারবিরোধী ‘বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট’ গড়তে এরই মধ্যে ছোট-বড় সমমনা ডান-বাম ও ইসলামী ২২টি দলের সঙ্গে প্রাথমিক সংলাপ শেষ করেছে বিএনপি। ‘গণতন্ত্র মঞ্চে’র শরিক পাঁচটি দলের সঙ্গেও সংলাপ করে দলটি। কিন্তু সবারই একই প্রশ্ন নেতৃত্ব দেবে কে? তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে চায় না কোনো জোট নেতা। […]

বিস্তারিত