নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করা নিয়ে মতবিরোধে বিএনপি!

নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে পুনর্নির্বাচনের দাবি পূরণ করতে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারেক রহমান মামলা করার নির্দেশ দিলেও দলের সিনিয়র নেতারা একযোগে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারেক রহমানের এমন সিদ্ধান্তে বিএনপি বিতর্কিত হয়ে পড়বে বলেও মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, ভোটে কারচুপির অভিযোগ আনলেও দেশবাসীর কাছে বিএনপি এখন পর্যন্ত কারচুপির কোনো প্রমাণ যোগাড় করতে পারেনি। অর্থাৎ বিএনপির কাছে এ সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ নেই। নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে- এমন প্রমাণ না থাকলে মামলা করাটা হবে ছেলেমানুষি। তাতে বিএনপি আরও বিতর্কিত দল হিসেবে আরো বেশি ধিক্কার পাবে।

প্রসঙ্গত, এ বিষয়ে অনুষ্ঠিত তারেক রহমানের সঙ্গে স্কাইপে ভিডিও কনফারেন্সের পর ঘরোয়া বৈঠকে তারেকের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন নেতারা। যা এখন আরও ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে মাত্র ৬টি আসনে বিজয়ী হয়। নির্বাচনের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রথম বৈঠকে নির্বাচনে কথিত কারচুপি এবং ভোট জালিয়াতির অভিযোগে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। নির্বাচন আইন অনুযায়ী, গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার বিধান রয়েছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে মামলা করার শেষ সময়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় ফোরামের বৈঠকে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলার সিদ্ধান্তের কথা জানান। কিন্তু ওই বৈঠকে কেউই এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেনি।

বরং বৈঠকে উপস্থিত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন ‘এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগে। আর মামলায় হেরে গেলে নির্বাচন আইনের চোখে বৈধতা পাবে।’সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ওই বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও মামলার বিরোধিতা করে বলেন ‘কারচুপির তথ্য কে দেবে?’ এরপর বিএনপির মামলার উদ্যোগ থেমে যায়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘গত নির্বাচনে দুর্নীতির দায়ে আদালতের মাধ্যমেই বিএনপির বেশ ক’জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। যেহেতু অভিযোগগুলোর প্রত্যাখ্যান করার মতো আমাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই। সুতরাং আদালতে গিয়ে আমরা কী পাবো? দলের অন্য একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য এ ধরনের সিদ্ধান্তকে ‘উদ্ভট’বলে মন্তব্য করেছেন।

নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপিতে তারেক রহমানের সঙ্গে সিনিয়র নেতাদের মতবিরোধ চলছে। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল নিয়ে তাদের বিপরীতমুখী অবস্থান এই মতবিরোধকে প্রকাশ্যে আনলো। বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, বিএনপির বিরুদ্ধে ক্রমশই তারেকবিরোধী মেরুকরণ তীব্র হচ্ছে। দলের সিনিয়র নেতারা এখন প্রকাশ্যেই বলছে, তারেক রহমান নেতৃত্বে থাকলে দলের কোনো উন্নতি হবে না। এই পরিস্থিতি দলকে ভাঙনের দিকে নিয়ে যায় কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও দেখুন

২১ আগস্ট: দেশকে নেতৃত্বশূন্য করার সেদিনের মিশনে

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার প্রাক্কালে ১৪ ডিসেম্বর যেভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল, ঠিক একই উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় চালানো হয়েছিল ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা। দেশে বিরোধী মতকে দমন ও নিশ্চিহ্ন করার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর এই হামলা […]

বিস্তারিত

‘শেখ হাসিনা বেঁচে গেছে আমাদের সর্বনাশ হচ্ছে’

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। তারেক জিয়ার পরিকল্পিত গ্রেনেড হামলা মঞ্চস্থ হয় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে। মূল পরিকল্পনা করেছিলেন তারেক জিয়া হাওয়া ভবনে বসে। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল একটাই- শেখ হাসিনাকে হত্যা করা এবং এই হত্যাকাণ্ডের পর এটি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে চালিয়ে দেওয়া। কিন্তু অলৌকিকভাবে বেঁচে […]

বিস্তারিত

জোট নেতাদের প্রশ্ন, নেতৃত্ব দেবে কে?

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: সরকারবিরোধী ‘বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট’ গড়তে এরই মধ্যে ছোট-বড় সমমনা ডান-বাম ও ইসলামী ২২টি দলের সঙ্গে প্রাথমিক সংলাপ শেষ করেছে বিএনপি। ‘গণতন্ত্র মঞ্চে’র শরিক পাঁচটি দলের সঙ্গেও সংলাপ করে দলটি। কিন্তু সবারই একই প্রশ্ন নেতৃত্ব দেবে কে? তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে চায় না কোনো জোট নেতা। […]

বিস্তারিত