বিশেষ মহলের আর্থিক প্রলোভনে উপজেলা নির্বাচন বর্জনের চেষ্টা করছে ওয়ার্কার্স পার্টি

নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় গৃহীত প্রস্তাবে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্ভাব্য হার অনুমান করেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়ার্কার্স পার্টি। তাদের মতে, বামদলগুলো ভেতরে ভেতরে সরকারবিরোধী একটি মহল দ্বারা আর্থিক মদদপুষ্ট হয়ে নির্বাচনকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্কিত করতেই এমন পাঁয়তারা করছে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নির্বাচন থেকে সরে যাওয়াকে বিরূপ রাজনৈতিক চর্চার বহিঃপ্রকাশ দাবি করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বাসদ নেতা কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, যেকোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে পরিপূর্ণতা পায়। জয়-পরাজয় এক্ষেত্রে মূল বিষয় নয়। বিষয় হলো গণতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা। অথচ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি উপজেলা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে নিজেদের রাজনৈতিক দৈনদশার পরিচয় দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আসলে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির তেমন কোনো অবদান নাই বললেই চলে। তারা বিভিন্ন সময়ে সুযোগসন্ধানীর ভূমিকা পালন করে রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করেছে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যক্রম কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে খুবই নগণ্য। অনেক উপজেলা পাওয়া যাবে যেখানে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কমিটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। এছাড়া নির্বাচন করতে গেলে জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থন লাগে। সেই সক্ষমতা অন্তত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেই। তাই এমন টালবাহানা করছে দলটি।

বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু বলেন, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হওয়ায় মূলত এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে পার্টি হিসেবে আমরা প্রতিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পার্টিকে প্রমোট করতে চাই। যদিও আমাদের প্রান্তিক পর্যায়ে সক্ষমতা কম। তারপরও আমরা লড়াই করতে চাই। সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তহীনতায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি আজকে বিতর্কিত অবস্থানে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। পার্টির একটি অংশ কিন্তু নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে রয়েছে। পরাজয় হলেও নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। গলাবাজি করে অন্তত জনপ্রিয়তা পাওয়া যায় না। আমি শুনেছি, নির্বাচনে অংশ না নেয়ার জন্য একটি বিশেষ মহলের কাছ থেকে পার্টির একটি অংশ বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। বিষয়টি পার্টির জন্য শুভকর নয়। সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে, এমনটাই চাই আমরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও দেখুন

২১ আগস্ট: দেশকে নেতৃত্বশূন্য করার সেদিনের মিশনে

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার প্রাক্কালে ১৪ ডিসেম্বর যেভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল, ঠিক একই উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় চালানো হয়েছিল ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা। দেশে বিরোধী মতকে দমন ও নিশ্চিহ্ন করার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর এই হামলা […]

বিস্তারিত

‘শেখ হাসিনা বেঁচে গেছে আমাদের সর্বনাশ হচ্ছে’

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। তারেক জিয়ার পরিকল্পিত গ্রেনেড হামলা মঞ্চস্থ হয় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে। মূল পরিকল্পনা করেছিলেন তারেক জিয়া হাওয়া ভবনে বসে। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল একটাই- শেখ হাসিনাকে হত্যা করা এবং এই হত্যাকাণ্ডের পর এটি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে চালিয়ে দেওয়া। কিন্তু অলৌকিকভাবে বেঁচে […]

বিস্তারিত

জোট নেতাদের প্রশ্ন, নেতৃত্ব দেবে কে?

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: সরকারবিরোধী ‘বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট’ গড়তে এরই মধ্যে ছোট-বড় সমমনা ডান-বাম ও ইসলামী ২২টি দলের সঙ্গে প্রাথমিক সংলাপ শেষ করেছে বিএনপি। ‘গণতন্ত্র মঞ্চে’র শরিক পাঁচটি দলের সঙ্গেও সংলাপ করে দলটি। কিন্তু সবারই একই প্রশ্ন নেতৃত্ব দেবে কে? তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে চায় না কোনো জোট নেতা। […]

বিস্তারিত