বিচ্ছেদের নাটকে বিএনপি-জামায়াত, ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে ষড়যন্ত্র!

নিউজ ডেস্ক: আদর্শগতভাবে মিল থাকায় বিএনপি-জামায়াত কেউ কাউকে ছাড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দু’দলই সাম্প্রদায়িক শক্তির এজেন্ট বলেও মনে করেন ওবায়দুল কাদের।

এদিকে বিএনপি-জামায়াতের লোক দেখানো বিচ্ছেদকে নতুন রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বিবেচনা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষদের সমর্থন আদায় করে গোপনে দেশব্যাপী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপাতেই এমন কৌশল অবলম্বন করেছে বিএনপি-জামায়াত বলেও শঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।

বিএনপি-জামায়াতের জোটগত প্রতারণার বিষয়ে মন্তব্য করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক এ আরাফাত বলেন, বিএনপি-জামায়াত সরকার গত ২০ বছর ধরে বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চর্চা করে আসছে। বাংলাদেশের যত দুর্নাম হয়েছে, তার পেছনে এই জোটটির হাত রয়েছে। যদিও বিএনপির একটি অংশ চেয়েছিল- জামায়াতকে বর্জন করে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে কিন্তু দলের নিয়ন্ত্রণকারীরা জামায়াতকে ছাড়তে নারাজ। তারা ভাবত, বিএনপির রাজনীতিতে জামায়াত একটি বড় ফ্যাক্ট। তাদের এই ধারণা ভুল প্রমাণ হয়েছে জাতীয় নির্বাচনে।

তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি বিএনপি সহসাই জামায়াতের ছায়া মাড়িয়ে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেখাতে পারবে না। বিএনপি-জামায়াতের বিচ্ছেদ নিয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে, এর পেছনে বড় ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতেই এমন মতলব এঁটেছে জোটটি।

বিএনপি-জামায়াতের বিষয়টিকে নতুন ষড়যন্ত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বিএনপি এখন সাংগঠনিকভাবে অনেক বেশি দুর্বল। এ অবস্থায় জামায়াতকে ছাড়া মানে অন্ধের হাতের লাঠি খোয়া যাওয়ার মতো বিষয় হবে। বিএনপিতো এমনিতেই বিধ্বস্ত, এর মধ্যে আবার বিকল্প মেরুদণ্ড হারিয়ে গেলে তো উঠে দাঁড়ানোটা অসম্ভব হয়ে পড়বে দলটির জন্য। বিএনপির নেতৃবৃন্দ সম্ভবত প্ররোচনায় পড়ে জামায়াতকে মাইনাস করার চিন্তা ভাবনা করছেন।

তিনি আরো বলেন, জামায়াতের শক্তির জোরেই অতীতে মাঠে দাঁড়াতে পেরেছিল বিএনপি। আমার ধারণা, বিদেশি বন্ধু ও ডোনারদের পরামর্শে আপাতত জামায়াতের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার নাটক করবে বিএনপি। সময় হলে দু’দলই একযোগে মাঠে নেমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, দুটি দলই জনগণের নার্ভ বোঝে না। মানুষ যে ধ্বংসের রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তার স্পষ্ট প্রমাণ হলো জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের মহা-বিপর্যয়। সুতরাং একসঙ্গে থাকুক আর আলাদা হোক, বিএনপি-জামায়াত কোনোদিনই দেশকে আর পিছিয়ে দেয়ার সুযোগ পাবে না বলে আমি মনে করি। ষড়যন্ত্রের রাজনীতির দিন শেষ। কারণ, বাংলাদেশের দায়িত্বে রয়েছে দেশপ্রেমিক শক্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন

সোহরাওয়ার্দীতে রাজি মির্জা আব্বাস, আপত্তি ফখরুলদের

নিউজ ডেস্ক : ১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশ নিয়ে শুরু থেকেই একর পর এক নাটক করে যাচ্ছে বিএনপি। এদিন সরকারকে টেনে নামাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে দলটির নেতারা। অথচ বিএনপির দাবি অনুযায়ী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এতেই বাধে বিপত্তি। দলের একটি অংশ সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করতে রাজী হলেও বাকীরা চায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় […]

বিস্তারিত

যে কারণে সমাবেশের জন্য ১০ ডিসেম্বর বেছে নিল বিএনপি

নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতাবিরোধী ও জনবিচ্ছিন্ন দল বিএনপি তাদের সমাবেশের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর অর্থাৎ বাংলাদেশের বিজয় দিবসের পর না দিয়ে কেন ১০ ডিসেম্বর বেছে নিয়েছে, এই প্রশ্ন এখন জনমনে। তারা বলছেন, বিএনপি কি জানে না বাংলাদেশের ইতিহাস? ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ বুদ্ধিজীবী হত্যার […]

বিস্তারিত

সুসংগঠিত না হয়ে কাঁচের মতো টুকরো টুকরো বিএনপি

নিউজ ডেস্ক: দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে সবাই-ই মুখ খোলে। খুলতে বাধ্য হয়। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হলো না। গুলশানের বাসায় গৃহপরিচারিকা ফাতেমার কাছে আক্ষেপ করে তিনি বললেন, আজ যা এতকিছু। সব কিছুর জন্য তারেকই দায়ী। তার জন্যই দলটা শেষ হয়ে গেছে। নেতাকর্মীরা কেউই এখন আর কোন আন্দোলন-সংগ্রামে আসতে চান না। আর […]

বিস্তারিত