ঋণ খেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের তালিকা চেয়ে হাইকোর্টের আদেশ, লাপাত্তা বিএনপি নেতারা

নিউজ ডেস্ক: গত ২০ বছরের ব্যাংকিং খাতের ঋণ খেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার এ সংক্রান্ত একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এদিকে হাইকোর্ট ঋণ খেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের নামের তালিকা চাওয়ায় বিএনপির রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কারণ বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন ব্যবসার নাম করে ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন করে ফেরত দেননি খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আবদুল আউয়াল মিন্টু, মোসাদ্দেক আলী ফালু, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মতো নেতারা। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে অর্থ পাচারের অভিযোগ। হাইকোর্টের আদেশে হঠাৎ করে লাপাত্তা হয়ে গেছেন উক্ত নেতারা। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করে তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিএনপির নয়াপল্টন পার্টি অফিস সূত্রে জানা যায়, হাইকোর্ট ঋণ খেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের তথ্য চাওয়ার পর থেকেই দলের ভেতর অসন্তোষ ও ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির ব্যবসায়ী নেতারা হাইকোর্টের আদেশের পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে আসন্ন বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ারও চেষ্টা করছেন। যদিও অনেক নেতা বলছেন, আদালতের আদেশে ভয়ের কিছু নেই।

বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিএনপির সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, ফালু, আমির খসরুর মতো সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে বিদেশে অর্থ পাচার, রাষ্ট্রীয় সম্পদ তছরুপ, বিভিন্ন ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে খন্দকার মোশাররফ, মিন্টু ও ফালুর বিরুদ্ধে বিদেশে বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে অর্থ পাচারের জন্য দুদক মামলা করেছে। এর মধ্যে ফালুর যাবতীয় সম্পদ ক্রোক করে নেয়ারও আদেশ দিয়েছেন আদালত। মোশাররফ ও মিন্টু দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মামলায় জামিনে রয়েছে। আমির খসরুর বিরুদ্ধেও মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, নতুন করে ঋণ খেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের তালিকা চাওয়ায় ঘাপটি মেরে বসেছেন বিএনপির অভিযুক্ত নেতারা। অনেক চেষ্টা করেও মিন্টু, খসরু ও ফালুকে ফোনে পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নতুন মামলা থেকে বাঁচতে তারা গা ঢাকা দিয়েছে।

বিএনপি নেতাদের এমন লুকাচুরির বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, আদালত নতুন করে অর্থ পাচারকারীদের তালিকা চেয়েছেন শুনেছি। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বিএনপির নেতারা অনেকেই ব্যবসা করেন। বিভিন্ন কারণে দেশে-বিদেশে টাকা পাঠাতে হয়। এগুলোকে তো অর্থ পাচার বলা যায় না। হ্যাঁ, এটি সত্য যে কজন নেতা ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে অল্প কিছু টাকা বেনামে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। এগুলোর বিচার চলছে। নতুন করে নাম চাওয়াটা আমাদের জন্য খানিকটা বিব্রতকর। ক্ষমতায় থাকলে ছোট-খাটো ভুলত্রুটি হতেই পারে। এটার জন্যে তো ঢোল পিটিয়ে বদনাম করার কিছু নেই। আমরা রাজনৈতিকভাবে চাপের মুখে আছি। এখন বিচারিকভাবে চাপে রাখলে তো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। যদিও আমি দেশছাড়ার পক্ষে নই। আমি ঘোষণা দিতে চাই, বিএনপির যে সব নেতারা নতুন করে ঋণ খেলাপি ও অর্থ পাচারের মামলায় অভিযুক্ত হবেন তাদের মামলাগুলো পরিচালনা করার দায়িত্ব নিব আমি। ভয়ের কিছু নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন

আ.লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার শক্তি বিএনপির নেই : পানিসম্পদ উপমন্ত্রী

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম বলেছেন, আন্দোলন করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার শক্তি বিএনপির নেই। বিএনপি আন্দোলন করতে না পেরে অন্যের কাঁধে ভর করে এবং বিদেশিদের কাছে ধরণা দেয়। তিনি বলেন, তারা এসব করে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। তারা দেশ ও জাতির শত্রু। দেশের জনগণ তাদের আর […]

বিস্তারিত

দেশ ধ্বংসে নেমেছে বিএনপি-জামায়াত : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ ধ্বংস নেমেছে স্বাধীনতাবিরোধী ও প্রতিক্রিয়াশীল বিএনপি-জামায়াত এবং দেশের বাইরে তাদের অর্থায়নকৃত প্রতিনিধিরা। এমন সময়ে আরও দৃঢ়তার সঙ্গে ও দৃপ্ত প্রত্যয়ে অনলাইন গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখতে হবে। তাহলে স্বাধীনতাবিরোধী ও প্রতিক্রিয়াশীলরা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ ধ্বংস করতে পারবে না। সম্প্রতি রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনলাইন […]

বিস্তারিত

রাজাপুরে বিএনপির ১০৬ নেতাকর্মীর নামে মামলা

ঝালকাঠির রাজাপুরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর বোমা হামলার ঘটনায় বিএনপির ১০৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে মামলাটি করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ইলিয়াস ফরাজি। মামলায় রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি তালুকদার আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক নাসিম উদ্দিন আকনসহ ২৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রাজাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা বলেন, সোমবার রাত […]

বিস্তারিত