তারেক রহমানকে চার ঘন্টাব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ

 

নিউজ ডেস্ক: লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের হোম ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা। লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের একাধিক সূত্র মারফত জানা গেছে, তারেক রহমানকে বাংলাদেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া হিসেবেই এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা বলছেন, একাধিক মামলায় দণ্ডিত তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের আবেদনের প্রেক্ষিতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ।

জানা গেছে, তারেক রহমানকে লন্ডনে চার ঘন্টাব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তর আশা করছে যে, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি হয়েছে। যেকোনো সময় তারেককে দেশে ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের ইতিবাচক সম্মতি পাওয়া যেতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৫ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানকে হোম ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা চার ঘন্টাব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

সূত্র বলছে, তারেক রহমানের লন্ডনে বিলাস বহুল জীবন যাপনে অর্থের সংস্থান, টাকার উৎসসহ বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ২০০৭ সালে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গমন করেন তারেক রহমান। ২০০৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন। লন্ডনে অবস্থানকালে তার জ্ঞাত আয়ের কোনো উৎস নেই। কিন্তু তিনি যেকোনো উচ্চবিত্তের চেয়েও বিলাসী জীবনযাপন করছেন । ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর জানতে চেয়েছে যে, একজন রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী কীভাবে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন এবং তার টাকার উৎস কি?

এদিকে তারেক কেনো রাজনৈতিক তৎপরতায় জড়িয়ে পড়েছে কিনা, বিগত সময়ের বাংলাদেশের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার মতো কোন ঘটনায় জড়িয়েছেন কিনা এবং স্কাইপের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করার মতো কোন তৎপরতায় অংশ নিয়েছেন কিনা- এসব জানতে চাওয়া হয়েছে। কারণ এরই মধ্যে দেশে ও দেশের বাইরে গুঞ্জন উঠেছে যে, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রভাব খাটিয়ে মনোনয়ন বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ইনকাম করেছেন তারেক। যা যুক্তরাজ্যের আইনে বড় ধরনের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। বলা হচ্ছে, যুক্তরাজ্যের হোম ডিপার্টমেন্ট তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এসব তথ্য হালনাগাদ করেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ যে আবেদন করেছে, সে আবেদনে সুস্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে তারেক রহমানের যোগাযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে কিছু তথ্য-প্রমাণ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরকে দেওয়া হয়েছে। ফলে হোম ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা তারেক রহমানকে জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং সম্পৃক্ততা বিষয়ে জানতে চেয়েছে।

এমনকি তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তান দূতাবাসের সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততা সম্বন্ধেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কেননা, যুক্তরাজ্য হোম ডিপার্টমেন্টের কাছে একাধিক তথ্য আছে যে, লন্ডনে অবস্থানরত পাকিস্তান দূতাবাসের সঙ্গে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ আছে এবং একাধিক বৈঠকের তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। বাংলাদেশের একজন নাগরিক যিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে লন্ডনে আছেন, তিনি পাকিস্তান দূতাবাসের সঙ্গে কিসের কারণে সম্পর্ক রাখছেন, সে বিষয়েও জানতে চেয়েছে হোম ডিপার্টমেন্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন

‘ফিল্ডার গাড়িতে গরু চুরি’ করে বিএনপি নেতা

নিউজ ডেস্ক : দীর্ঘদিন ধরে সিলেট, মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি হওয়ার ঘটনায় আতঙ্কে ছিল এই এলাকার বাসিন্দারা। অনেক পাহারা বসিয়েও তারা চোর ধরতে পারছিল না। ধরবেই বা কীভাবে- চোর যে খুব ধুরন্ধর। গরু চুরি করে বিলাসবহুল গাড়িতে করে। গরু চুরি করে গাড়িতে তুলে সবার সামনে দিয়েই চলে যায় কিন্তু কেউ বুঝতে পারে না। সোমবার […]

বিস্তারিত

লোকসমাগমের জন্য ৫ কোটি টাকা চাইলো রাজশাহী বিএনপি!

নিউজ ডেস্ক : আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে বিএনপির সর্বকালের সর্ববৃহৎ সমাবেশ করতে চায় রাজশাহী বিএনপিসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। অন্যান্য বিভাগীয় সমাবেশের চেয়ে বেশি লোকসমাগমের জন্য চলছে দিনরাত প্রস্তুতি। রাজশাহী বিএনপির নেতাকর্মীরা বিরিয়ানির দাওয়াত আর নগদ টাকা দিচ্ছেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে। তবে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে, লোকসমাগমের জন্য দলীয় হাইকমান্ডের কাছে ৫ কোটি টাকা দাবি করেছে […]

বিস্তারিত

কোথায় ফালু? কোথায় খালেদা?

নিউজ ডেস্ক: বিগত চার বছর রাজনীতির বাইরে কখনো কারাগার, কখনো হাসপাতাল আবার কখনো গুলশানের বাসায় দিন পার করছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এসময়ে অসংখ্য নেতাকর্মী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে আসলেও একটি বারের জন্যেও যোগাযোগ করেনি বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা ও দুর্নীতিগ্রস্ত পলাতক ব্যবসায়ী মোসাদ্দেক আলী ফালু। এমনকি পরবর্তীতে খালেদা জিয়া তার বাসভবন ফিরোজাতে […]

বিস্তারিত