শুক্রবার ২১ জানুয়ারী ২০২২
  • প্রচ্ছদ » Breaking » ব্যাংকগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত করা হোক



ব্যাংকগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত করা হোক


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
07.03.2019

ডেস্ক রিপোর্ট: জনতা, এবি ও আল-আরাফাহ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্ত করতে এবং পর্ষদ ব্যাংক পরিচালনায় যথাযথ ভূমিকা রাখছে কিনা তা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক অধীনস্থ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতি মডেল ভিত্তিতে খতিয়ে দেখার জন্য এ সংক্রান্ত চারটি কমিটি গঠন করেছে।

বিষয়টি ইতিবাচক এবং ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এ উদ্যোগ ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করা যায়। তবে প্রাথমিকভাবে তিন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনিয়ম খতিয়ে দেখার পর প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র কাজে লাগিয়ে অন্যান্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ তো বটেই, কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও অনিয়ম-দুর্নীতি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে।

জানা যায়, পরিচালকদের ঋণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ঋণ অনুমোদন ও অবলোপনসহ পরিচালনা পর্ষদের পুরো আমলনামা খতিয়ে দেখা হবে মডেল তদন্তে। এমনকি অন্য ব্যাংকের পরিচালকদের নেয়া ঋণের বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে।

আমাদের দেশে ব্যাংকিং খাতে যেখানে অনিয়ম-দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি, পরিবারতন্ত্র ও খেলাপি ঋণ মহামারী আকার ধারণ করেছে, সেখানে এ ধরনের উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। তবে এক্ষেত্রে প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক পরিচয় যেন কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। তদন্ত যেন পক্ষপাতমূলক না হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে। কারণ ব্যাংকিং খাতে এ ধরনের আচরণ নতুন নয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত অন্যতম জনতা ব্যাংকে ক্রিসেন্ট গ্রুপের ঋণ জালিয়াতিসহ নানা ধরনের সমস্যা, এমনকি নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও এমডির মধ্যে দ্বন্দ্ব এমন পর্যায়ে চলে গেছে, খোদ চেয়ারম্যান এমডিকে অপসারণের জন্য সুস্পষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন।

এরই মধ্যে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১১ মাসে বেড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকার ওপর। এবি ব্যাংকে অনিয়ম-দুর্নীতির বাইরে বিদেশে টাকা পাচারের ঘটনাও ঘটেছে। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে জালিয়াতিসহ পরিচালনা পর্ষদে নানা জটিলতা রয়েছে। ফলে এসব ব্যাংকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্ত হচ্ছে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিকসহ সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকের অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়েই তদন্ত হওয়া দরকার।

ব্যাংকে অনিয়ম-দুর্নীতি, খেলাপি ঋণ, ঋণ জালিয়াতির মতো বিষয় দেশে এমন আকার ধারণ করেছে যে, ২০১৭ ও ২০১৮ সাল ব্যাংক জালিয়াতির বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে ব্যাংকে শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফেরানোর জন্য অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির নজির তৈরি করতে হবে। এজন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করার জন্য একটি স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা হোক, যার কাজ হবে আর্থিক খাতের অনিয়মের তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া।

সরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে এগিয়ে এলে জনতা ব্যাংকসহ সব সরকারি ব্যাংকের অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করা সম্ভব হবে। আশার কথা, অর্থমন্ত্রী ব্যাংক খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মডেল তদন্তের উদ্যোগ সে লক্ষ্যের সূচনা এবং ফলপ্রসূ উদ্যোগ হবে বলে সবার প্রত্যাশা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি